অমাবস্যার শরীর
অমিত দত্ত দিলু
আমি গুটগুটে অন্ধকারে হাঁটি—
কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা
আমার ত্বকে শুয়ে থাকে নিঃশব্দে।
ধমনি–শিরায় বয়ে যায়
শীতল, কালো সরীসৃপের রক্ত—
আমি মানুষ নই,
একখণ্ড দগ্ধ মাংসপিন্ড ,
নিঃশ্বাসে যার অগ্নি ইতিহাস ।
চোখের ভেতর
রক্তাক্ত বিরানভূমি,
দাঁতের দংশনে
সময় ছিন্নভিন্ন—
সভ্যতার হাড়গোড় খসে পড়ে
ধুমকেতুর মতো ।
কুয়াশায় ঢাকা আলো
নিজের পথ নিজেই চেনে না।
চোরাবালির আর মরীচিকায়
ডুবে যায় আগামীর চেতনা
ষড়যন্ত্রের অতলে ।
পৃথিবীর পটে
আমি এক নরকঙ্কাল—
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে
শুনে যাই নিজের হাড়ের শব্দ।
আমার সামনে
মানব-মুখো পশু হেসে ওঠে—
না নর, না পিশাচ,
ক্ষুধাই এর একমাত্র ধর্ম,
অসুন্দরই এর প্রার্থনা।
তবু—
অমানিশার পথ মাড়িয়ে
শনি আর রাহুর বলয় ছিঁড়ে
দূরের নক্ষত্রের এক বিন্দু
আলোর দিশারী হয়ে
আমি, আমরা জেগে আছি,
জেগে থাকবো।
২১/১২/২৫
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।