মানুষ কেবল প্রয়োজন মিটিয়ে টিকে থাকে না; মানুষ টিকে থাকে মনস্তাত্ত্বিক কার্যধারার ওপর ভর করে। প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পরও মানুষ আত্মহত্যা করে, বেঁচে থাকার আগ্রহ হারায়। অর্থবিত্ত থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ অশান্তিতে ভোগে, কারণ প্রয়োজন পূরণ হলেও মনের সঙ্গে জীবনের সংযোগ নষ্ট হয়ে যায়।
যেখানে মনের অনুভবের সঙ্গে কর্মের সামঞ্জস্য থাকে, সেখানেই মানুষ বেঁচে থাকার আনন্দ নিয়ে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু যেখানে এই সামঞ্জস্য ভেঙে যায়, সেখানে প্রয়োজন যতই পূরণ হোক না কেন, জীবন হয়ে ওঠে কেবল এক যান্ত্রিক উপস্থিতি—অর্থহীন, নিষ্প্রাণ।
তাই জীবনের স্বাদ উপভোগ করতে হলে প্রথমেই নিজেকে আবিষ্কার করতে হয় মনস্তাত্ত্বিক কার্যধারার ভেতর দিয়ে। নতুবা প্রয়োজন পূরণ করেও মানুষ হয়ে ওঠে এক জীবন্ত লাশ—যেখানে নিজের জীবনের অনুভব গৌণ হয়ে যায়।
সংক্ষেপে বললে—
মানুষ প্রথমে বাঁচে না প্রয়োজন দিয়ে, বাঁচে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে।
এই মানিয়ে নেওয়ার কেন্দ্র হলো মন।
প্রয়োজন জীবনের অবকাঠামো, কিন্তু মন তার দিকনির্দেশনা।
দিকনির্দেশনা ছাড়া অবকাঠামো মানুষকে আশ্রয় দেয় না—শুধু আটকে রাখে।
ধরুন, আপনার এখন পড়াশোনা করা প্রয়োজন, কিন্তু মন চাইছে একটু বিরতি নিতে, একটু রিফ্রেশ হতে। প্রশ্ন হলো—আপনি কতদিন মনকে উপেক্ষা করে সত্যিকারের শান্তি পেয়েছেন? মনকে কি দীর্ঘদিন অবহেলা করা যায়?
বাস্তবতা হলো, মনস্তাত্ত্বিক প্রশান্তির স্পর্শ না থাকলে কোনো কাজই টেকসই হয় না। শুধু পড়াশোনা বা প্রয়োজনের পেছনে ছুটতে ছুটতেই কেন প্রয়োজন পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও মানুষ ভেঙে পড়ে—এই প্রশ্নটাই আমাদের ভাবা উচিত।
তাহলে কি মানুষের আত্মহননের প্রবণতা কেবল প্রয়োজনের অভাব থেকে আসে?
নাকি অনেক সময় প্রয়োজন পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও মানুষ জীবনের আনন্দ হারায়, কারণ মন মানিয়ে নিতে পারে না?
বাস্তবে আমরা দেখি—অনেক মানুষ সীমিত প্রয়োজন নিয়েও সানন্দে জীবন কাটিয়ে দেয়, আবার অনেকে সব থাকা সত্ত্বেও ভেতরে ভেঙে পড়ে। পার্থক্যটা তৈরি করে মন, প্রয়োজন নয়।
এই পুরো আলোচনার ভেতরেই উত্তর লুকিয়ে আছে।
কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মনকে স্থির করা জরুরি।
কারণ স্থির মন থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
উত্তর জানা 'প্রয়োজন', কিন্তু আগে 'মন'কে স্থির রাখা দরকার।কারণ মনস্তাত্ত্বিক কার্যধারার মাঝেই মানুষের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র লুকিয়ে থাকে, যৌক্তিকতা এবং জীবণের উত্থান পতনের মাঝেও নিজেকে বাচিয়ে রাখার একমাত্র প্রয়াস 'মন' এর ছোয়া, পরবর্তী পদক্ষেপের, পরবর্তী প্রয়োজন মেটানোর পূর্বসূত্র।তাই প্রয়োজন এর পূর্বে আসে 'মন'।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।