কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে আল- কোরআন সত্য?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পর্ব- ৪
ইতিপূর্বে আমি এই সিরিজের প্রথম তিন পর্ব ফেইসবুক ও ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করে দিয়েছি।
তো চলুন আমরা এখন যেনে আসি আল কোরআনের আরও একটা সত্যতার প্রমাণের কথা,।
চিন্তা করুন তো আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, যখন এমন এক গ্রন্থ নাযিল হয় এবং যেইখানে নাযিল হয় আর যার উপর নাযিল হয় তারা কেও কি সমুদ্র সম্পর্কে গভীর বা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান রাখত? উত্তর হবে না।
কারণ এই আল কোরআন নাযিল হয় মক্কা আর মদিনায়, যেটা সৌদি আরব এর অংশ আর সৌদি আরব মানে মরভূমি। এবং আমরা এই কথাও জানি যে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ লেখা- পড়া জানতেন না। তাই সমুদ্র সম্পর্কে কোনো গভীর তথ্য তার পক্ষে জানা সম্ভব না।
এখন লক্ষ করুন নিচের আয়াতটা, আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র আল কোরআনের সূরা নূর এর ৪০ নাম্বার আয়াতে বলছেন যে
" اَوۡ کَظُلُمٰتٍ فِیۡ بَحۡرٍ لُّجِّیٍّ یَّغۡشٰہُ مَوۡجٌ مِّنۡ فَوۡقِہٖ مَوۡجٌ مِّنۡ فَوۡقِہٖ سَحَابٌ ؕ ظُلُمٰتٌۢ بَعۡضُہَا فَوۡقَ بَعۡضٍ ؕ اِذَاۤ اَخۡرَجَ یَدَہٗ لَمۡ یَکَدۡ یَرٰىہَا ؕ وَ مَنۡ لَّمۡ یَجۡعَلِ اللّٰہُ لَہٗ نُوۡرًا فَمَا لَہٗ مِنۡ نُّوۡرٍ ﴿٪۴۰﴾
অথবা (কাফিরদের কাজ) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে রয়েছে ঘন কালো মেঘ, একের উপর এক অন্ধকার। তার হাতকে বের করলে সে তা আদৌ দেখতে পায়না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেননা তার জন্য কোন জ্যোতি নেই।
সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ
এই আয়াতে ভালো করে লক্ষ্য করুন, এখানে কাফেরদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ রব্বুল আলামিন সমুদ্র বিজ্ঞান এর কথা বলছে
*যেখানে বলা হচ্ছে যে সমুদ্রের ভিতরে বয়ে চলছে তরঙ্গের উপর দিয়ে তরঙ্গ বা ঢেউ এর উপর ঢেউ, অথ্যাৎ, সমুদ্রের গভীরের ঢেউ আছে, আমরা সাধারণ মানুষরা জানি যে সমুদ্রের উপরে ঢেউ এর সৃষ্টি হয়, কিন্তু সমুদ্রের গভীরে যে ঢেউ এর উৎপন্ন হয় এটা আজ থেকে ৮০ বছর আগে কেও জান তো না, সমুদ্রের নিছ বুকে যে ঢেউ এর সৃষ্টি হয় সেটা জানা যায় সাবমেরিন আবিষ্কার হওয়ার পর, আর নিউক্লিয়ার সাবমেরিন আবিষ্কার হয়, ১৯৫৪ সালে, তার পর এই তথ্যটা আমাদের সামনে আসে যে " সমুদ্রের গভীরেও ঢেউ আছে শুধু উপরে না। আর আল্লাহ রব্বুল আলামিন কত সুন্দর ভাবে এই তথ্যটা আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে পবিত্র আল কোরআনে বলে দেয়।
আমি উপরের লেখায় বলছি যে দুটো বিজ্ঞান আছে আয়াতে। এখানে আমি মোঃ মেহেদী হাসান শুধু একটার কথা বললাম, আর বাকিটা প্রিয় বন্ধুরা আপনারা অবশ্যই একটু চিন্তা করে কমেন্ট বক্সে বলে যাবেন। আমার বিশ্বাস আমার ফ্রেন্ড লিস্টে সব ভাবুক আর চিন্তাশিল জ্ঞানীরা আছে। তাি একটু কষ্ট করলে পেয়ে যাবেন।
না পারলে তো আমি আছি।
এখন একটা ফ্যাক্ট বলি
এই তথ্যটা আপনারা গ্রে মিলার এর Tha Amazing Quran এতে পেয়ে যাবেন ।
এরকম শত শত তথ্য আছে পবিত্র আল কোরআন এতে।
আসলে আমরা আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখি না বলে আজ মুসলিম জাতির এই দশা। ছোট বেলা থেকে আমরা শুধু জেনে এসেছি যে ইসলাম সত্য, আর এই কথা আমরা বিধর্মীদের বলতামও সবাই। কিন্তু তাঁরা যখন প্রমাণ চাই তো তখন আমাদের মুখ দিয়ে আওয়াজ বাহির হ তো না।
তাই বলতে চাই যে আরবি ভাষা শিখুন।
আরবি ভাষা আপনার চিন্তা ভাবনার চেয়েও সহজ, আগের একটা পর্বে তা বলেছিলাম।
আজকে আরেকটু তথ্য বলে দেয়, পবিত্র আল কোরআনে ১২৫ টা শব্দ আছে যা আল কোরআনের অর্ধেক, আমরা জানি৷ যে আল কোরআনের শব্দ সংখ্যা ৭০ হাজারের মতো, এখন এই ১২৫ টা শব্দ শিখলে আপনি ৪৫ হাজার শব্দের অর্থ জানবেন, তার মধ্যে আমি এখন কয়েকটা বলে দেয়
১. লা অর্থ না পবিত্র কোরআনে এই শব্দটা এসেছে
১৭৩২ বার, সূরা বাকারার ২৫৫ নামৃবার আয়াতে যে ' লা' শব্দ আছে সে 'লা'
২.'লাম ' এর অর্থও ' না' শব্দ সংখ্যা এসেছে পবিত্র আল কোরআনে ৩৪৭ বার, সূরা আল ইমরানের তিন নাম্বার আয়াতে যে " লাম " ব্যবহার করা হয়েছে সে ' লাম ' এটা।
এখন দুটো সংখ্যা যোগ করেন, দেখবেন দু- হাজারের উপরে হবে। এই দুটো শব্দের অর্থ জানার কারণে আমরা এখন আল কোরআনের ৭৪ হাজার শব্দের দু- হাজার শব্দের অর্থ জেনে গেলাম।
এরকম ভাবে না হয় কিছু অর্থ প্রতিদিন বলব কেমন।
তো আজকের মতো লেখাটা এখানেই শেষ।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।