কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে, আল- কোরআন সত্য?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পর্ব-৭
"
চিন্তা করুন তো আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে কোনো মানুষ কি ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার উপরে উঠেছিল। আর সেই ব্যাক্তি কি এটা অনুভব করেছিল যে, মাটি থেকে অধিক উপরে উঠলে কেমন অনুভতি হয়। উত্তর হবে অবশ্যই না।
আমরা বিজ্ঞানের কল্যাণে জানতে পেরেছি যে, আমাদের পৃথিবীর চারপাশে একটা গভীর বাতাসের স্তর আছে। আমরা ভূ- পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠব তত এই বাতাসের স্তরের মাত্রা হালকা হতে থাকবে, এইভাবে ৬৩ কিলোমিটারের উপরে গেলে বাতাস নায় হয়ে যাবে। আপনারা কোনো টিভি - সিনেমা দেখলে একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন যে বিমানগুলোতে প্রত্যেক সিটে একটা করে অক্সিজেন মাক্স লাগানো থাকে। এটা মূলত দুটো কারণে লাগানো থাকে -
১. কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে
২. বিমান যখন এই ৬৩ কিলোমিটার এর উপর দিয়ে যাবে।
আসলে আমরা যখন ৬৩ কিলেমিটার উপর দিয়ে ভ্রমণ করব তখন আমাদের বক্ষদয় সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। এটা হয়ে থাকে অক্সিজেন এর অভাবে। প্রাচীন কাল থেকে সেই মধ্যযুগ পেরিয়ে মানুষ এই কথা জানতন না যে ভূ- পৃষ্ঠ থেকে অধিক উপরে গেলে অক্সিজেন এর অভাব হয়, আর বক্ষ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এটা মানুষ জেনেছে এই গত শতাব্দীতে ।
আর মেডিকেল সাইন্স এর ভাষায় একে বলে হাইপোক্সিয়া। Hypoxia অর্থ হলো বায়ু বা অক্সিজেন সল্পতা।
আমরা এখন পুরো লেখাটার সামারি করলে পাই যে " মানুষ একটা নিদিষ্ট উচ্চতা ছাড়িয়ে গেলে তার বক্ষ সঙ্কুচিত হয়ে আসে, যাকে আধুনিক মেডিকেল সাইন্স এর ভাষায় বলা হয় হাইপোক্সিয়া।
এখন চলুন দেখে নেয়, পবিত্র আল - কোরআন এই বিষয়ে কি বলে
আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র আল কোরআন এর ৬ নাম্বার সূরা, সূরা আনআমের ১২৫ নাম্বার আয়াতে বলেন যে -
অতএব আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, ইসলামের জন্য তার অন্তঃকরণ উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তিনি তার অন্তঃকরণ সংকুচিত করে দেন - খুবই সংকুচিত করে দেন, এমনভাবে সংকুচিত করেন যেন মনে হয় সে আকাশে আরোহণ করছে। এমনিভাবেই যারা ঈমান আনেনা তাদেরকে আল্লাহ কলুষময় করে থাকেন।
খেয়াল করে দেখুন আয়াতটা ভালো করে।
এখানে মাঝখানের আয়াতের অংশে বলা হচ্ছে যে" আল্লাহ রব্বুল আলামিন যাকে প্রথভ্রষ্ট করে তখন তার অন্তর টাকে সঙ্কুচিত করে দেয়, এমন ভাবে সঙ্কুচিত করে, ' যাতে মনে হয় যে সে ঊধ্ব আকাশে ভ্রমণ করছে ' । এখানে সুস্পষ্ট ভাবে উপমার মাধ্যমে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলে দিচ্ছে যে, " মানুষ যখন ঊর্ধ্ব আকাশে ভ্রমণ করে তখন তার অন্তরটা সঙ্কুচিত হয়ে যায়, যাকে আমরা আধুনিক মেডিকেল সািন্স এর ভাষা বলি হাইপোক্সিয়া। সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ ।
কোনো জ্ঞানী ব্যাক্তি যদি এই আয়াতটা নিয়ে চিন্তা করে তাহলে সে অনেক সহজেই বুঝতে পারবে যে আল- কোরআন সত্য।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।