কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে আল- কোরআন সত্য
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পর্ব- ৬
আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার পবিত্র আল কোরআন বলেন যে " নিশ্চয় আকাশ- জমিন সৃষ্টি ও রাত-দিন বিবর্তনের মাঝে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে,"
উপরে বর্ণিত এই আয়াতটা হল পবিত্র আল কোরআনের সূরা আলে- ইমরানের ১৯০ নাম্বার আয়াত।
আয়াতটা হয় তো আপনাদের কাছে সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু আমি মোঃ মেহেদী হাসান আমার কাছে রয়েছে এই আয়াতের গভীর এক ভাবপূর্ণ রহস্য।
এই আল- কোরআনের আয়াতটা আমাকে সমষ্টি সম্পর্কে অনেক ভাবায়।
আজকে আপনাদের বলব এই প্রকৃতির বড় অদ্ভুত এক অন্তরালের কথা, যা একই সাথে প্রভাবিত হয় কিন্তু কখনো মিশে না প্রিয় বন্ধুরা।
আমরা জানি যে আমাদের পৃথিবীর ১০০ ভাগের ২৯ ভাগ মাটি আর ৭১ ভাগ পানি। আর এই পানির অন্যতম এক বিশাল ভান্ডার হল সমুদ্র। এই সমুদ্রের রহস্যকে আজও আমরা বুঝে উটতে পারি নি। সমুদ্রের মধ্যে আছে অগনিত নিয়ামত আর আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর সহস্র নিদর্শন। এখন আপনাদেরকে এমন এক আয়াতের কথা বলব, যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে এমন এক তথ্য দিয়েছে যা সেই ১৪০০ বছর আগে এক মরভূমির লোকের মাধ্যমে বলা কখনো সম্ভব না, তাও কিনা আবার যে কখনো সমুদ্র চোখ দিয়ে দর্শনও করে নি। সমুদ্রের অন্যান্য নিদর্শন গুলোর মধ্যে একটা নিদর্শন হল দুই সমুদ্রের সংযোগ স্থল। দুটো সমুদ্র এক সাথে বয়ে চলছে তবুও যেন এই দুই এর মধ্যে আছে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এই সম্পর্কে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার পবিত্র আল কোরআন বলেন যে " তিনিই ( আল্লাহ রব্বুল আলামিন) দুি সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন সমান্তরাল ভাবে। একটি সুমিষ্ট ও তৃষ্ণা নিবারক আর উপরটি লোনা ও বিস্বাদ। আর উভয়ের মাঝেই আছে এক অন্তরাল ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর" ( সূরা ফরকান, আয়াত নাম্বার ৫৩)।
পবিত্র আল কোরআনে বর্ণিত এই নিদর্শনের সভ্যতা আমরা যুগে যুগে পেয়েছি। Oceanology অর্থাৎ সমুদ্র বিজ্ঞান বর্তমানে তাঁর প্রমাণ পেয়েছে।
আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই নিদর্শন দেখতে পায়। আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর একই সাথে প্রভাবিত হয়, কিন্তু দুইয়ের মাঝে আছে পার্থক্য। বূমধ্যসাগরের পানি অনেক লবণাক্ত, স্বাদ নিম্ন মানের আর অধিক ঘন। ভূমধ্যসাগরের পানির সঙ্গে আটলান্টিক পানির সাথে একটা সংযোগ থাকা সত্যেও কেও কারো সাথে মিশে না।
এভাবে আলাস্কা উপসাগরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে দুই ধরনের পানির স্রোতরেখা। এ স্রোতরেখায় প্রবহমান পানি একটি আরেকটির সঙ্গে মিশে না। প্রশান্ত মহাসাসাগরের শাখা হচ্ছে আলাস্কা উপসাগর। বিজ্ঞানীদের মতে এ পানি না মিশার কারণ হচ্ছে তাতে দুই মহাসাগরের সংযোগ ঘটেছে। উপসাগরটির মাঝ বরাবর পানির প্রবাহ আলাদা হয়ে বয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. মনির খাশুকজি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি বাহরাইন উপসাগরের জলস্রোতে এরকম একটি স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছিলাম। নৌকায় চলতে চলতে সেই বাঁধ (প্রাচীর) বরাবর গেলাম। খুব কাছে থেকে উভয় দিকের পানি মুখে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলাম। পরীক্ষায় দেখা গেল, উভয় দিকের পানি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কী আশ্চর্য! একটার পানি লোনা, বিস্বাদ কিন্তু অপরটির পানি সুপেয়, মিষ্ট ও তৃষ্ণানিবারক। সমুদ্রের মাঝে এটা এক বিস্ময়কর কুদরত, যা মহান আল্লাহ তায়ালার অলৌকিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। আধুনিক কালের বিজ্ঞানীরা এতে বিস্ময়াবিষ্ট হয়েছেন। কোরআনের বিশুদ্ধতা অকপটে স্বীকার করেছেন। অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ফ্যান্সের প্রথিতযশা সমুদ্রবিজ্ঞানী জ্যাক ভি কোস্টা (Jack V Costa)। সমুদ্রের তলদেশের বিভিন্ন আবিষ্কারে তার অবদান অনস্বীকার্য। দুই সমুদ্রের মিলনদৃশ্য নিয়ে তিনি ব্যাপক গবেষণা করেছেন। তিনি তার রিসার্চে উপলব্ধি করেছিলেন যে, রোম সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর রাসায়নিক মিশ্রণের গুণাবলি ও মাত্রা দিক দিয়ে একটি আরেকটি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি এ বাস্তবতা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার জন্য জিব্রাল্টারের দুই সমুদ্রের সংযোগস্থলে গবেষণা চালালেন। তিনি দেখলেন, জিব্রাল্টারের উত্তর তীর (মারুকেশ) আর দক্ষিণ তীর (স্পেন) থেকে আশ্চর্যজনকভাবে একটি মিষ্টি পানির ঝরনা উথলে ওঠে। এ ঝরনাটি উভয় সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ৪৫০ সূক্ষ্ম কোণে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়ে চিরুনির দাঁতের আকার ধারণ করে বাঁধের মতো কাজ করে। ফলে রোম সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের পানি একটি আরেকটির সঙ্গে মিশে না। পরে তাকে আল কোরআনে বর্ণিত আয়াতটি শোনানো হলো। তিনি দেখলেন, কোরআনে বর্ণিত তথ্যের সঙ্গে তার গবেষণার সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। জ্যাক ভি কস্টা চিন্তা করলেন, ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদ (সা.) এর মতো নিরক্ষর মানুষ সমুদ্রের তলদেশ পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য কোরআনে লিখতে পারেন না। তাহলে কোরআনে সমুদ্র বিজ্ঞানের এ মহা তথ্য কীভাবে এলো? নিশ্চয় আল কোরআন ঐশী সত্য গ্রন্থ। এটা কোনো মানব রচিত নয়। Jack V Costa মুসলমান হয়ে গেলেন। পবিত্র কোরআনের এমন অলৌকিকতা সর্বকালে প্রমাণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয় আল কোরআন মীমাংসাকারী বাণী এবং এটি নিরর্থক নয়।' (সূরা আত তারিক : ১৩-১৪)। অর্থাৎ পবিত্র কোরআনের প্রতিটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ এবং বাস্তবতার বিচারে সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ। দুই সমুদ্রের মিলন সম্পর্কিত বিষয়টি আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় সঠিকত্বের স্বীকৃতি পেয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে 'মারাজাল বাহরাইন' শব্দ ব্যবহার করেছেন। 'মারাজা' শব্দের অর্থ হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রবাহিত করা। ছেড়ে দেয়া। অর্থাৎ দুই সমুদ্রের পানি একই সঙ্গে প্রবাহিত হচ্ছে কিন্তু মাঝখানে আছে দুর্ভেদ্য প্রাচীর, যার ফলে তারা পরস্পর মিশ্রিত হতে পারছে না। প্রত্যক্ষদর্শী বিজ্ঞানীরা প্রাচীরের ব্যাপারটি স্পষ্ট লক্ষ করেছেন। পবিত্র কোরআনে 'বাঁধ বা অন্তরালের' কথা এসেছে। স্মর্তব্য যে, দুই সমুদ্রের মিলন দৃশ্য বাংলাদেশেও দেখা গেছে। নদীপথে চাঁদপুর যেতে 'রাজবাড়ী বহর' নামক স্থান পড়ে। এ স্থানে দেখা যায়, পদ্মা ও মেঘনার পানি পাশাপাশি প্রবাহিত হচ্ছে, কিন্তু কেউ কারও সঙ্গে মিশে যাচ্ছে না। পদ্মার পানি ঘোলাটে আর মেঘনার পানি কুচকুচে কালো। লক্ষ থেকে এ দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। পাঠক, অনুসন্ধানী হলে সেখানে গিয়ে বাস্তবে এ দৃশ্য দেখে আসতে পারেন। এছাড়াও বরিশালের 'বলেশ্বর নদী' থেকে দুইটি ধারা প্রবাহিত হয়েছে। এক ধারার পানি লোনা ও বিস্বাদ এবং অন্য ধারার পানি মিষ্ট ও সুস্বাদু। (তাফসিরে উসমানি : ৩/৩১৯)। বিষয়টি আমাদের সাধারণ মনে হলেও সমুদ্রবিজ্ঞানীদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও আশ্চর্যজনক। পৃথিবীতে আল্লাহর কুদরতি নিদর্শনাবলির অন্ত নেই। ( এই প্যারাটুকু প্লেজারিজম করা হয়েছে)
আল- কোরআনে এরকম করে আরও অনেক অজানা তথ্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন অনেজ আগেই দিছে, যেটা আমরা জানি না।
এখন হয় তো বুঝতে পারছেন যে, কেনো লেখার আগে ওই আয়াতটা লেখছিলাম
তো প্রিয় বন্ধু আজকের লেখা এই পযন্তই।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।