কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব, আল - কোরআন সত্য?
সিরিজ পর্ব-২
এখন আমি যে সূরাটার আয়াত ব্যাখ্যা করব যেই সূরাটা এমন কোনো মুসলিম নেই যে না পড়েছে, এটা এমন এক সূরা যা কিনা আল কোরআনের নাযিল হওয়া পূনাঙ্গ সূরা। সূরাটা হলো সূরা আল ফাতিহা। এখন এই সূরার থেকে আপনাদের একটা চমৎকার তথ্য দিতে চাই, যা হয় তো ১০০ তে একজন জানেন। আর হ্যা সাথে একটা প্রশ্নের উত্তর।
প্রশ্নটা হলো-
তোমরা( মুসলিমরা) নিজ ভাষায় আল কোরআন পড়ে দেখো, যদি সকল মুসলিম নিজ ভাষায় আল কোরআন পড়ে তাহলে সবাই নাস্তিক হবে
তো এই কথাটা কতটুকু সত্য তা আজকের লেখার মধ্যে আমি মোঃ মেহেদী হাসান তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ
তো চলুন শরুরু করা যাক
প্রথমেই দেখে আসব সূরা ফাতিহা এর প্রথম আয়াত
যেখানে বলা হয়েছে যে
আলহামদুলিল্লাহ লিল্লাহি রব্বুল আলামীন -
যার সোজা- সাপ্টা বঙ্গানুবাদ হলো " সকল প্রসংসা বিশ্ব জগতসমূহের রব আল্লাহ রব্বুল আলামিনের "
অনেকে বলতে পারেন যে আরে মেহেদী ভাই আপনি / তুমি এখানে আবার কি এমন মিরাক্কেল দেখলে, এটা তো নরমাল একটা আয়াত, তাদের বলতে চায় যে এই আয়াতটা থেকেই আজ অসাধারণ তথ্য বাহির করব ইনশাআল্লাহ। এই আয়াতটা ভালো করে লক্ষ্য করুণ এখানে যে " আলামিন" শব্দটা আছে তাঁর দিকে। এই আলামিন শব্দের অর্থ হলো " জগৎসমূহ " বুঝতেই পারছেন যে আয়াতটা বহুবচন
এই আলামিন শব্দের একবচন হলো " আলাম" যার অর্থ জগৎ
এখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন একবচন " আলাম " না ব্যবহার করে, ব্যবহার করেছেন বহুবচন " আলামিন" আর এখানেই হলো আসল জাদু ।
তাঁর আগে চলুন একটু বিজ্ঞান এর জগৎ থেকে ঘুরে আসি
বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান আমাদেরকে বলে যে " আমাদের এই জগৎ ছাড়াও আরও অনেক জগৎ আছে, আর এই তত্ত্বের নাম দেওয়া হয়েছে মাল্টিভার্স থিওরি বা সমান্তরাল মহাবিশ্ব। বলা হয়ে থাকে যে প্রতিনিয়ত এরকম মহাবিশ্বের সৃষ্টি হচ্ছে ( জিনিসটা বোঝার জন্য যে উদাহরণ দেওয়া হয় সেটা হলো, " সমগ্র টাইম স্কেল জুমটা হলো একটা সাবান এর ফেনার মতো, আমরা যখন অল্প পানিতে সাবানটাকে চুবিয়ে উঠিয়ে ফেলি তখন দেখা যায় যে সেখানে প্রতিনিয়তো বক বক উঠছে আর তা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক একই রকম ভাবে বিভিন্ন মহাবিশ্বের সৃষ্টি হচ্ছে আর ধ্বংস হচ্ছে) । এই মাল্টিভার্স থিওরির ধারণা আসে মূলত গ্রান্ড ফাদার প্যারাডক্স, শ্রোডিঙ্গার এর বিড়াল এক্সপেরিমেন্ট, স্টিং থিওরি থেকে। যেখানে গাণুতিক বিভিন্ন হিসাব নিকাশ করে দেখা গেছে যে মাল্টিভার্স বলতে কিছু একটার অস্তিত্ব আছে। অথ্যাৎ এই জগৎ ছাড়াও আরও অনেক জগৎ আছে ( অনেকে বলে যে সেখানে নাকি মানুষের সময় উল্টা - ভাবে চলে, মানে আমরা যেমন শিশু থেকে বৃদ্ধ হয় তারা নাকি বৃদ্ধ থেকে শিশু হয়)
এখন আসুন ফিরে যায় আগের আলোচনায়।
কিছু কি আন্দাজ করতে পারছেন প্রিয় বন্ধুরা?
ওহহহ এখনও বুঝতে পারেন নাই ওখানে কেন এক বচন শব্দ না ব্যবহার করে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করেছে । আসলে আল্লাহ রব্বুল আলামিন এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে, এই জগৎ শুধু একা না বরং এরকম আরও অনেক জগৎ আছে। তাই নিজেকে জগৎ এর রব না বলে জগৎসমূহের রব বলেছে।
আশা করু সম্পূর্ণ কথা ক্লিয়ার
আবার অনেকে বলবে যে এটা হয় তো আন্দাজে ব্যবহার করেছে, তো আমি তাদের বলতে চাই যে এটা কাকতালীয় ভাবে না বরং সত্য কিতাব বলেই উল্লেখ হয়েছে, এই কিতাব যে হযরত মুহাম্মদ সাঃ লেখেন'নি আর এখানে যে আন্দাজে শব্দ চয়ন হয় নাই, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো সূরা আত- তালাক এর ১২ নাম্বার আয়াত।
এখন আসি নাস্তিকদের ওই প্রশ্নের উত্তরে
এখানে খেয়াল করুন কোনো বই যদি আমরা পড়ি আর সেই বই এর কথাগুলোর অর্থ যদি বুঝতে চায় তাহলে ওই ভাষার জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
আরবি ভাষায় যেহেতু আল - কোরআন নাযিল হয়েছে তাই আল কোরআন আরবি ভাষা শিখেই পড়তে হবে, যদি আমরা এই কাজ করি তাহলে আমরা নিজেদের থেকেই নাস্তিক অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পাব ইনশাআল্লাহ। কারণ হিসাবে বলতে পারি যে " লাউ আর ইন আরবি দুটো শব্দের কথা, এই দুটো আরবি শব্দের অর্থ হলো " যদি " এখন আমরা যদি এই কথাটা না জানি যে কোথায় কোন শব্দ ব্যবহার করব তাহলে তো ভুল বুঝা- বুঝি হবে আর ফল স্বরুপ আপনি হবেন নাস্তিক। বাংলা ভাষায় যখন আমরা আল কোরআন আর হাদীস পড়ব তখন আমাদের অনেক অসুবিধাই পড়তে হবে যা আমরা নিজেরাও জানি না
যেমন হাদীসে বলা হয়েছে " তিনি জাহান্নামি ( উদাহরণ দিচ্ছি আর কি, ধরুন এরকম একটা)
তো আমরা জানি যে আরবিতে পুরুষ আর নারী শব্দে
জন্য আলাদা pronoun আছে, আমরা সাধারণত বাংলাতে নারী আর পুরুষের সর্বনামের জন্য " তিনি ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু আরবিতে তা করা হওনা, আরবিতে এর জন্য আলাদা শব্দ আছে।
আর আমরা যদি তা না জানি তাহলে ওখানে হয় তো বলা হয়েছে পুরুষ এর কথা আর আমরা মনে মনে ভেবে বসে থাকবো নারীর কথা।
একন হয় তো বুঝতে পারছেন কেন বাংলাভাষায় কোরআন হাদীস পড়াটা বিপদজনক
বাংলা ভাষায় কোরআন হাদীস পড়া ' এটা ভুল কথা, সঠিক কথা হলো, আরবি ভাষা রপ্ত করে নিজে নিজে কোরআন হাদীস পড়া আর একজন আলেমের সাহায্য নেওয়া ।
আশা করি লেখাটা পড়ে নতুন কিছু জানলেন
তো আজকে এই পযন্তই
সবাই বালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান✍️
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।