কোন আয়াতটা পড়লে বুঝতে পারবো যে আল কোরআন সত্য?
পর্ব-৩
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
সিরিজ এর প্রথম দুটো পর্ব আপলোড করে দিয়েছি, আর দুটো পোস্ট কালকেই আপলোড করেছি। আজ আবার চলে আসলাম এই সিরিজ এর তৃতীয় পর্ব নিয়ে
আশা করি এই পর্বটাও অনেক ভালো লাগবে।
এখন কথা বলব পবিত্র আল কোরআনের দুটো আয়াত নিয়ে। এখানে দুটো আয়াতের মধ্যে একটা জিনিস তুলনা করব। আপনারা যদি আমার লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে আজ তিনটে প্রশ্নের উত্তর পাবেন ইনশাআল্লাহ
প্রশ্নগুলো হলো
১. আল- কোরআনের সত্য হওয়ার সভ্যটা কতটুকু?
২. আল- কোরআন কেন আরবি ভাষায় নাযিল হলো ( এই বিষয়টা হয় তো বুঝতে পারবেন)
৩. আল কোরআনে নাকি বলা হয়েছে যে মানুষ কখনো পৃথিবীর বাহির যেতে পারবে না, তাহলে এখন যাচ্ছে কীভাবে?
চলুন তাহলে লেখা শুরু করা যাক।
প্রথমেই আপনাদের একটা ব্যাকরণ শিখাতে চায়, আমরা বাংলা ভাষায় অনেক সময় যদি (if) শব্দটা ব্যবহার করে থাকি, অনেক সময় আমরা হয় তো বলি যে, ইশ আমি (যদি) এক মিনিটে ইউরোপ যেতে পারতাম বা আমি যদি ডানাওয়ালা পাখি হতে পারতাম। এই যে বাংলায় বহুল ব্যবহৃত " যদি " শব্দটা, এই যদি শব্দের মূলত আরবি দুটো প্রতিশব্দ আছে -
১. লাউ
২. ইন ( আরবি কি বোর্ড নেই)
এখন আসি কেন যদি শব্দের দুটো আরবি প্রতিশব্দ। এর সোজাসাপ্টা উত্তর হলো " যখন আমরা এমন কোনো কথা বলব যা কোনো সময় সম্ভব এমন বুঝায়, মানে সম্ভাব্য ইঙ্গিত করে তাহলে তখন আরবি প্রতিশব্দ ' ইন' হবে, যেমন : যদি আমি রাত ১০ টার আগে ঢাকায় যেতে পারতাম টাংগাইল সদর থেকে , এখানে যদি শব্দ ব্যবহার করেছি, এখানে আমি এমন কথা বলছি যা সম্ভব, আমি চাইলেই ১০ টার আগে ঢাকায় যেতে পারব, তাই এখানে আরবি যে প্রতিশব্দ হবে, তা হলো ' ইন'
আর আমি যদি এখন বলতাম " যদি আমি এখন ডায়নাসোর হতে পারতাম " এখানে আমি এমন কথা বলছি যা সম্ভব না, তাই এখানে হবে আরবি প্রতিশব্দ " লাউ " আশা করি কথা ক্লিয়ার
এখন আসি মূল টপিকে-
খেয়াল করুন সূরা আর রাহমানের ৩৩ নাম্বার আয়াতটা ( নিচে screenshots গুলো দেখেন)
আল্লাহ রব্বুল আলামীন এখানে বলছে যে
" یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ اِنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ اَنۡ تَنۡفُذُوۡا مِنۡ اَقۡطَارِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ فَانۡفُذُوۡا ؕ لَا تَنۡفُذُوۡنَ اِلَّا بِسُلۡطٰنٍ ﴿ۚ۳۳﴾
হে জিন ও মানুষ সম্প্রদায়! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার, অতিক্রম কর; কিন্তু তোমরা তা পারবেনা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত।
এখানে দেখুন বাংলা শব্দ যদি আছে, আর এই যদি শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হল ইন
মানে হলো এখানে ইন দ্বারা আজ থেকে সেই ১৪০০ বছর আগে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার রাসূল এর উপর নাযিলকৃত কিতাবে বলে ইঙ্গিত করে বলে দিচ্ছেন যে ' একটা সময় দুনিয়ার মানুষ জমিন থেকে মহাকাশে যাবে। চিন্তা করা যায়, আরবি ভাষা অলংকার কত নিখুঁত, এই রকম ভাষায় গঠনশৈলী শুধু আরবিতেই সম্ভব। ( শুধু এরকম না আরও শত শত আছে, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে সব বলব ইনশাআল্লাহ।
চলুন সামনে এগিয়ে যায়, এখন আমরা খেয়াল করব সূরা হিজর এর ১৪ নাম্বার আয়াত, যেখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন
وَ لَوۡ فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ بَابًا مِّنَ السَّمَآءِ فَظَلُّوۡا فِیۡہِ یَعۡرُجُوۡنَ ﴿ۙ۱۴﴾
যদি তাদের জন্য আমি আকাশের দরযা খুলে দিই এবং তারা সারাদিন তাতে আরোহণ করতে থাকে ।
,
এখানে দেখুন আবার খেয়াল করে
বাংলা যদি শব্দের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে আরবি প্রতিশব্দ ' লাউ ' যা দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে আসমানসমূহের দরজগুলো যদি খুলে দেওয়া হ তো, মানে প্রথম আসমান, দ্বিতীয় আসমান করে সবগুলো..
এখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বুঝাতে চাচ্ছেন যে মানব জাতি কখনো দ্বিতীয় আসমান ভেদ করতে পারবে না কিন্তু আমরা প্রথম আসমান ভেদ করতে পারব, আর করেছি।
আল্লাহ রব্বুল আলামীন শব্দ চয়ন এর মাধ্যমে কত নিখুত ভাবে আমাদেরকে আল- কোরআন এর নিদর্শন দেখিয়ে দিচ্ছে, তবে আফসোস, আমরা আরবি শিখছি না ( আল কোরআন এতে প্রায় ৭০ হাজারের মতো শব্দ রয়েছে, এখন মনে হতে পারে যে আল কোরআন অর্থ সহ শিখতে গেলে হয় তো শব্দগুলোর অর্থ জানতে হবে, কিন্তু না প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা জানলে অবাক হবেন যে মাত্র ১২৫ টি শব্দ জানলে আপনারা আল কোরআন এর অর্ধেক অর্থ বুঝতে পারবেন আর ১৮০০ টা জানলে ৮০ % এর উপরে, একটা উদাহরণ দেয়, পবিত্র আল কোরআনে " আল্লাহ " শব্দটায় আছে শুধু ২৫২৮ বার, সুবহানাল্লাহ, এর মানে হলো আমরা আল কোরআনের ৭০০০-২৫০০ = ২৫০০ মতো শব্দের অর্থ জানি, চিন্তা করে দেখুন কত সোজা আল কোরআন শিখা)
তো আজকে এই পযন্তই
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন,
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।