অবৈধ হারাম প্রেম নিয়ে আমি অনেকগুলো লেখা লিখতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু, কেনো লিখবো? বিয়ের পূর্বে পরনারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা অবৈধ—এটা কি তারা জানে না?
সে কি জানে না, যে সে এই কাজটা করছে, ঠিক নাকি ভুল করছে? তাহলে জানার পরেও যখন এই জিনিসটা থামাচ্ছে না, তো আমি কে—যে আমার কথায় তারা এসব কার্যক্রম বন্ধ করবে? যেটা সে জানে, যেটা তার বিবেকই বাধা দিয়ে ঠিকটা জানান দিয়ে বলছে, সে তার নিজের কথাই মানছে না। সেখানে আমি কে! কে আমি, যে আমার কথা মানবে? সে তো তার নিজের কথাই মানে না।
সবটা জানার পরও যদি সে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে চায়,তাহলে মরুক, আগুনে পুরুক, যদি তওবা করে ফিরে না আসে। আল্লাহর বিধান। আমাদেরই বা কি করার আছে?
যেভাবে যুবসমাজ প্রভাবিত হচ্ছে
এইসবের মূল পেক্ষাপটে এমন কিছু কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো এই যুবসমাজকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে। ফলে বাস্তব কিংবা ভার্চুয়াল—সব জায়গাতেই এই নেগেটিভ ইস্যু এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যে চাইলেই তা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজন পারিবারিক দৃঢ়তা, শাসনব্যবস্থা এবং তার কার্যক্রমে ভূমিকা পালনকারী বিষয়গুলোর পরিমার্জন।
এ ক্ষেত্রে ফেসবুক, মিডিয়া, সম্পর্কিত নাটক-সিনেমা ভালো উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে পরনারী সম্পর্কিত প্রেমের গান শুনে যুবকরা নিজেকে প্রেমিক পুরুষ মনে করে—অথচ সে প্রেমের আসল মানেই বুঝে না, বুঝে কেবল পরনারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করাকেই।
শিক্ষা এবং বাস্তবতা
শিক্ষা তো সবাই অর্জন করে, কিন্তু সে আসলে অর্জন করেটা কী? কী শিখে? সে তাই শিখে, যেটা সে দেখে কিংবা শুনে।
সে তার পরিচিত সিনিয়র ভাইদের পরনারীর পেছনে ঘুরতে দেখে,
-
সে তাই শিখেছে, যেটা সে দেখেছে।
সে সারাদিন হারাম প্রেমের গান শুনে,
-
সে তাই শিখেছে, যেটা সে শুনেছে।
সে মিডিয়াতে, ফেসবুকে, মেসেঞ্জারে
পরনারীর সঙ্গে হারাম প্রেম নিয়ে নানান কাহিনি দেখেছে, শুনেছে,
-
সে তাই শিখেছে, যেটা সে দেখেছে কিংবা শুনেছে।
সে যদি ই-নলেজ আইডিয়া - জ্ঞানী লেখক-পাঠকের স্রোতে নিজেকে যুক্ত করতো,
-
সে তাই শিখতো, যা সে দেখতো কিংবা চিন্তা করতো।
-
ঠিক এখানেই ই-নলেজ আইডিয়া ইতিবাচক বিপ্লব ঘটানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
স্কুলে পড়াশোনা করতে যায়, তাই না? কিন্তু বন্ধুদের আড্ডায় হারাম পরনারীর সঙ্গে প্রেম ছাড়া কিছু শোনে না। সে সিনিয়র-জুনিয়র সবার কাছেই প্রেমের বিষয়গুলো দেখেছে, শুনেছে,
-
সে আবারও তাই শিখেছে, যেটা সে দেখেছে কিংবা শুনেছে।
শুধু কি অবৈধ প্রেম? মাদক সেবন করা,চিন্তাশীলতা লোপ পাওয়া ইত্যাদির সূত্রপাতও একইভাবেই ঘটছে।
তাহলে সে কী শিখেছে? ঠিক কিসের জ্ঞান সে আহরণ করতে পছন্দ করবে? কাজে-কর্মে সে কিসের প্রতিচ্ছবি প্রকাশ করবে?
তার এইসব শেখানো জিনিস যদি নেতিবাচক হয়, তবে এটি তার বুদ্ধিমত্তার উপর নেতিবাচক পর্দা তৈরি করবে। ফলে তার যে সেন্সটা কাজ করা উচিত, সেটা কাজ করে না।
বুদ্ধিমত্তার উপরই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে, নতুবা সে পশুর ন্যায় আচরণ করে। আর এর পরিস্ফুটন ঘটে দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, অন্যায়, অবিচার, ধর্ষণ, হত্যা ইত্যাদিতে। যেমন বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে—একজন লোক উচ্চ শিক্ষিত, বড় ডিগ্রীধারী হয়েও দুর্নীতিবাজ হচ্ছে; সে মুর্খ, পশুর ন্যায় আচরণ করছে।
তারপরও, এইসব নিয়ে লেখালেখি অল্প হলেও তার বিবেককে পুনঃজাগ্রত করে।
কাজেই আমি নিজে লিখার চেয়ে উদ্যোগ নিতে বেশি আগ্রহী হলেও এ নিয়ে লেখনীকে ইতিবাচক ভঙ্গিতেই দেখি,
কারণ একটি লেখা বদলে দিতে পারে একটি মন, আর একদিন সেই মন বদলে দিতে পারে পুরো একটি দুনিয়াকে!
আর ই-নলেজ আইডিয়া সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে ধারণ করার কাজে মগ্ন!
আগামী প্রজন্ম যেনো নেতিবাচকতা থেকে রক্ষা পায়, সেই কামনাই থাকবে সবসময়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।