হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মে নিয়োগ প্রথা
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
" নিয়োগপ্রথার নাম তো অবশ্যই শুনেছেন। যারা নিয়োগ প্রথা সম্পর্কে জানেন না তাদের বলে দিই যে" স্বামী অক্ষম বা মারা গেলে সেই ব্যাক্তির বংশের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার জন্য অন্য আরেক জন ব্যাক্তিকে দিয়ে ( এটা যে কেও হতে পারে, সেটা হোক স্বামীর ভাই, বন্ধু বা পাড়া- প্রতিবেশি। এমনকি আমি আর আপনিও) অক্ষম বা মৃত ব্যাক্তির স্ত্রীর গর্ভে বাচ্চা পয়দা করাকেই নিয়োগ বলে। সাধারণ তো এটা হিন্দুয়ানি রীতি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এটা খ্রিষ্টান ধর্মেও আছে। অনেকে হয় তো এই তথ্যটা জানেন না। ( ওহহহ আরেকটা কথা। গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর অঞ্চলের মানুষেরা ' দেবর ' শব্দটা শুনে থাকবেন। এই দেবর শব্দটা এসেছে নিয়োগ প্রথা থেকেই। তাই এই শব্দটা প্রত্যেক মুসলিমের উচিত বর্জন করা) । তো এখন হিন্দু + খ্রিষ্টান ধর্ম থেকেই দলীল দেখে নিন।
হে (মীঢ্ব, ইন্দ্ৰ ) বীৰ্য্যসিঞ্চনে সমর্থ ঐশ্বৰ্য্যশালী পুরুষ। তুমি এই বিবাহিতা স্ত্রী বা বিধবা স্ত্রীকে শ্রেষ্ঠ পুত্রের মাতা এবং সৌভাগ্যবতী কর। বিবাহিতা স্ত্রীতে দশ পুত্র উৎপন্ন কর এবং স্ত্রীকে একাদশ বলিয়া মনে কর। হে স্ত্রী! তুমিও বিবাহিত বা নিযুক্ত পুরুষ কর্তৃক দশটি সন্তান উৎপন্ন কর এবং পতিকে একাদশ বলিয়া মনে কর।( ঋগ্বেদঃ মন্ডল-১০/সুক্ত- ৮৫/ মন্ত্র -৪৫)
এখন দেখুন বাইবেলে নিয়োগ প্রথা
" তাঁরা বললেন, ‘গুরু, মোশি বলেছেন যদি কোন লোক নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়, তবে তার নিকটতম আত্মীয়রূপে তার ভাইসেই বিধবাকে বিয়ে করবে ও তার ভাইয়ের হয়ে তার বংশ উত্পন্ন করবে"( বাইবেল নতুন নিয়মঃ মথি : অধ্যায়-২২ / পদ-২৪)
য়াহ, আগে জানতাম হিন্দু ধর্মে নিয়োগপ্রথা আছে। এখন তো দেখি খ্রিষ্টান ধর্মেও আছে। তাই তো বলি ইউরোপ আমেরিকার লোকেদের বাপের পরিচয় খুজতে গিয়ে বাপ হিসাবে কেন চাচা মামা বা বাবার বন্ধুর নাম আসে ডিএনএ টেস্টে ( মজা করলাম)।
[ উল্লেখ্য বর্তমানের অধিকাংশ আধুনিক পন্ডিতদের মতে নিয়োগ প্রথা বাতিল ( আমাদের ভাষায় মানসুখ বা রহিত) হয়ে গেছে। কিন্তু আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা দয়ানন্দ সরস্বতী উরফে নিয়োগানন্দ বে*শ্যাস্বতী বলেন এটা এখনও বিদ্যামান ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।