জাদুটোনা নিয়ে আলোচনা যদি করতে হয় তাহলে সবার আগে মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে হবে, কেননা এই পৃথিবী সকল কালোজাদু এই মন্ত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই আমি এখানে প্রাচীন ভারতীয় বিদ্যার উপর ভিত্তি করে মন্ত্র কি ও কেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করব।
তো চলুন শুরু করা যাক।
মন্ত্র আসলে কি এই বিষয়ে এক কথায় কোনো কিছু বলা যাবে না। নানা মুনির নানা মত আছে এখানে। তবে সকল মত ও পথ ধরে যদি আমরা মন্ত্রের স্বরুপের কথা বলি তাহলে মন্ত্র হলো -
' কিছু ধ্বনিযুক্ত শব্দ অথবা বাক্য যার মধ্যে বিশেষ সিদ্ধি সাধনের শক্তি থাকে... '
এখন প্রশ্ন হতে পারে যে সাধারণ মন্ত্রে ব্যবহৃত শব্দ ও বাক্যের সাথে আমাদের দৈনন্দিন বলা শব্দ ও বাক্যের পার্থক্য কি? এর জবাব হলো - আমরা যে দৈনন্দিন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করি এতে কোনো বীজ বা শক্তি বিদ্যমান থাকে না আর এসব শব্দ বাক্য বলার জন্য কোনো নিদিষ্ট নিয়ম- কানুন ফলো করতে হয় না। আর মন্ত্রে যে শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হয় সেগুলো হয় বিশেষ শক্তিসম্পন্ন এবং সেটাকে সিদ্ধি করে নিতে হয় কুন্জির দ্বারা, আর এই কুঞ্জি গুরুর থেকে হাসিল করতে হয়। সংক্ষিপ্ত আকারে এটাই হলো দৈনন্দিন বলা শব্দ বাক্য ও মন্ত্রের শব্দ বাক্যের পার্থক্য।
এখন প্রশ্ন হতে পারে যে মন্ত্র কাজ করে কি ভাবে?
এর জবাব হলো যন্ত্র এর মাধ্যমে মন্ত্র কাজ করে। যন্ত্র দ্বারা এখানে আমি বিশেষ পদ্ধতি বুঝিয়েছি। একটা মন্ত্রের প্রয়োগ করতে হলে বা কোনো মন্ত্র দ্বারা কাজ করতে হলে সে মন্ত্রকে আগে সিদ্ধি করে নিতে হয়,। মন্ত্র সিদ্ধর মাধ্যমেই মূলত মন্ত্রবীজ শক্তিকে জাগ্রত করা হয়। সিদ্ধি করার পর তার প্রয়োগবিধি জানতে হয়। আর এই যে মন্ত্রকে কেন্দ্র করে এতকিছু এগুলোই হলো যন্ত্র এর পাঠ।
তো একটা জিনিস পাঠকরা বুঝতে পারছেন যে তন্ত্রের বই থেকে দু- একটা মন্ত্র শিখে নিলেই কেও তান্ত্রিক হয়ে যাবে না অথবা কোনো জায়গা থেকেই দু- একটা মন্ত্র শিখে নিলেই তার প্রয়োগ সে করতে পারবে না..... ।
ওহহহ হ্যা যা বলতে চেয়ে ছিলাম, মন্ত্রের কিন্তু বিভিন্ন অংশ আছে। সাধারণ তো একটা মন্ত্রে যে অংশগুলো থাকতে পারে সেগুলো হলো -
ঋষি : যে মহাপুরুষ প্রথম মন্ত্রটি উপলব্ধি বা প্রকাশ করেছেন।
ছন্দ : মন্ত্রের মাত্রা বা কাব্যিক গঠন (যেমন গায়ত্রী ছন্দ)।
দেবতা :যে সত্তা বা শক্তিকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্র বলা হয়।
বীজ :মূল শক্তিধ্বনি বা সংকেত অক্ষর (যেমন “ॐ”, “ह्रीं” ইত্যাদি)।
শক্তি: মন্ত্রের কার্যক্ষমতা বা আধ্যাত্মিক প্রভাব নির্দেশ করে।
কীলক :গুপ্ত অংশ বা বাধা অপসারণের সংকেত, যা মন্ত্রের ফল লাভে সহায়ক বলে ধরা হয়।
[ উল্লেখ্য যে বেদের মন্ত্রের উপর ভিত্তি করে আমি এই অংশগুলোর কথা বলেছি...]
এখন আসি মন্ত্রের প্রকার নিয়ে। আমি পোস্ট এতে শুরুর দিকে
যে মন্ত্রের কথা বলেছি তা হলো তন্ত্র শাস্ত্রের মন্ত্র। আসলে মন্ত্রের অনেক প্রকার আছে। এগুলো হলো -
১. বৈদিক -বেদ থেকে নেওয়া মন্ত্র। এগুলো প্রাচীন ও শাস্ত্রীয়। উদাহরণ: গায়ত্রী মন্ত্র। ( সাধারণ তো বেদের মধ্যে থাকা বাক্যগুলোই হলো মন্ত্র আর এখানে চার বেদের কথাই বলা হচ্ছে যা হিন্দুদের প্রধান ধর্মীও শাস্ত্র )
২. তান্ত্রিক মন্ত্র -তন্ত্রশাস্ত্রভিত্তিক মন্ত্র, যেখানে বীজ, শক্তি, কীলক ইত্যাদি ধারণা বেশি ব্যবহৃত হয় ( লেখনীর মূল ফোকাসের বিষয় কিন্তু এই তন্ত্র মন্ত্রই)
৩. বীজ মন্ত্র -খুব ছোট, এক বা কয়েক অক্ষরের মন্ত্র। যেমন: “ॐ”, “ह्रीं” ইত্যাদি।
৪. নাম মন্ত্র -কোন দেবতার নাম জপ করা হয়। যেমন: “রাম”, “কৃষ্ণ” ইত্যাদি নামভিত্তিক জপ।
৫. পূর্ণ মন্ত্র -সম্পূর্ণ বাক্য বা শ্লোক আকারের মন্ত্র।
৬. শাবর মন্ত্র -লোকজ ভাষায় গঠিত মন্ত্র, যা সংস্কৃত নাও হতে পারে। এই মন্ত্রের উদাহরণ হলো আমরা বাংলা বাক্য দ্বারা গঠিত অনলাইন অফলাইনে যেসব বাক্য দেখি ওগুলোই যা মুরুব্বিরা বলে থাকে.... ।
এই মন্ত্রের প্রকারগুলো আমি মূলত করেছি মন্ত্র দ্বারা কে কি বুঝে তার প্রেক্ষিতে। আর এরকম করার কারণ হলো, যিনি এলজন হিন্দু পন্ডিত সে মন্ত্র বলতে বুঝে বেদের বা হিন্দু শাস্ত্রের শ্লোককে। আবার একজন তান্ত্রিক বুঝে শক্তিবীজ সম্পূর্ণ কোনো বাক্যকে..... । আর এর জন্য এই ভাগ নেওয়া।
তো আজকে এই পযন্তই। নেক্সট এতে আমরা আরও আলোচনা করব....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।