আল কোরআনের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
পর্ব-৭
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আমার মতে পৃথিবীর সকল বড় বড় বিজ্ঞানিরা বাস করেন আমাদের বাংলাদেশে। আসিফ মহিউদ্দিন, নূর সহ আরও নাম না জানা কলা বিজ্ঞানি দিয়ে আমাদের দেশ ভরপুর। পশ্চিমা বিজ্ঞানিদের সাথে আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিদের মূল পার্থক্য হলো " পশ্চিমা বিজ্ঞানিরা নাসার মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করে আর আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা শাহাবাগী গাজার স্টেডিয়ামে গাঁজা সেবন করতে করতে বিজ্ঞান চর্চা করে। তো যাইহোক এখন তাদের একট ভ্রান্ত দাবি খন্ডন করব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমেই আয়াতটা উল্লেখ করছি। নিচের আয়াতটা লক্ষ্য করুন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলছেন যে " رَبُّ الۡمَشۡرِقَیۡنِ وَ رَبُّ الۡمَغۡرِبَیۡنِ ﴿ۚ۱۷﴾
রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়া রাব্বুল মাগরিবাইন।
তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা।
(He is) the Lord of the two easts (places of sunrise during early summer and early winter) and the Lord of the two wests (places of sunset during early summer and early winter) "( ৫৫ নাম্বার সূরা, সূরা আর রহমানের ১৭ নাম্বার আয়াত) ।
তো তারা যেটা বলতে চাই এই আয়াত দেখিয়ে, সেটা হলো " আমরা জানি সূর্য একবার অস্ত যায় এবং একবার উদিত হয়, এই হিসাবে এখানে এক উদয়াচল এবং এক অস্তাচল হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামীন সেটা না বলে ডাইরেক্ট ভুল তথ্য বলে দিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আয়াতে পূর্ব পশ্চিম এর আরবি প্রতিশব্দ এসেছে মাশরিক’, ‘মাগরিব’ এই শব্দগুলোর অর্থ আপনি পাবেন - পূর্ব, পশ্চিম ক্লাসিক্যাল ডিকশনারিতে।
এখন একটু আঙ্গেল চেন্স করব। আরবিতে শারাক্বা’ অর্থ আলোকজ্জ্বল হওয়া এবং ‘গারাবা’ অর্থ ডুবে যাওয়া । ‘মাশরিক’ অর্থ আলোকজ্জ্বল হবার স্থান এবং মাগরিব অর্থ ডুবে যাওয়ার স্থান। আরেকটু ক্লিয়ারি বললে বলতে হয় যে " জালসা এর অর্থ হলো বসা
আর যে জায়গায় বসবে বা বসার যে স্থান, তাকে বলা হয় মাজলিস। তো প্রিয় বন্ধুরা এখান থেকে বুজতে পাচ্ছেন যে " মাগরিব/মাশরিকের মূল অর্থ পূর্ব বা পশ্চিম নয়। বরং সূর্যের অস্তাচল ও উদয়াচল। আকাশে উদিত ও অস্তমিত হবার জায়গা"। মানে সূর্য যেহেতু পূর্বদিকে আলোকজ্জ্বল হয়ে উদিত হয় তাই পূর্বকে আরবিতে
‘মাশরিক’ বলে, আর পশ্চিমে গিয়ে অস্তমিত হয়, তাই পশ্চিমকে ‘মাগরিব’ বলে" আশা করি শাব্দিক অর্থের বিষয়টা ক্লিয়ার। এখন একটু বিজ্ঞান এতে আসি। বিজ্ঞান অনুসারে পৃথিবী গোল আর সূর্য সহ অন্যান্য নক্ষত্র গ্রহগুলোই প্রায় গোল। আমরা যদি অন্য রকম ভাবে চিন্তা - ভাবনা করি তাহলে বুঝতে পারবো যে " পৃথিবী এক জায়গায় দিন হলে অন্য জায়গায় রাত হয়, অর্থাৎ এক জায়গায় সূর্য অস্ত গেলে আরেক জায়গায় উদিত হয়। আর এটা কেন হয় জানেন??? উত্তর হলো গোল হওয়ার কারণে। যদি পৃথিবী সমতল হতো তাহলে এরকম আর হতো না তাহলে ডাইরেক্ট সমগ্র পৃথিবীতে এক টাইম এতে সূর্য অস্ত আর উদিত হতো। (সূরা রহমানের ১৭ নাম্বার আয়াতে পরোক্ষভাবে কিন্তু বিশ্লেষণ করে বুজতে পাচ্ছি যে পৃথিবী গোল হওয়া ইঙ্গিত আছে সুবহানাল্লাহ) কিন্তু সেটা হচ্ছে না, অর্থাৎ আমাদের সাপেক্ষে এখন সূর্য অস্ত গেলে অন্য জায়গায় উদিত হচ্ছে। তো এইভাবে দেখলে কিন্তু দুটো অস্তাচল আর উদয়াচল দেখতে পাচ্ছি আমরা। এছাড়াও সূর্য বিভিন্ন আঙ্গেল থেকে আলো প্রদান করে প্রত্যেক মাস ও দিনে। উদাহরণ সরুপ নিচের ছোট্ট উদাহরণ টা লক্ষ্য করুন
" জুনের ২১ তারিখ সেখানে ভোর ৪টায় সূর্য উত্তর থেকে ৫০ ডিগ্রী কোণ করে, অর্থাৎ ঠিক পূর্ব থেকে উত্তরে ৪০ ডিগ্রী কোণ থেকে উদিত হয়েছে।ডিসেম্বরের ২১ তারিখ সেখানে সূর্য উদিত হয়েছে সকাল সোয়া ৮টায়। এবার সূর্য উদিত হয়েছে ঠিক পূর্ব থেকে দক্ষিণে ৪০ ডিগ্রী কোন করে।অর্থাৎ ৬ মাসে সূর্যের উদয়স্থল বা উদয়াচলের পার্থক্য হচ্ছে ৮০ ডিগ্রী।একইভাবে অস্তাচলের ক্ষেত্রে জুন ২১ ও ডিসেম্বরের ২১ এ ৮০ ডিগ্রী পার্থক্য আছে"
এখানে দেখতে পাচ্ছেন যে সূর্য কিভাবে বিভিন্ন আঙ্গেল থেকে........... । তো এই হলো সূরা আর - রহমানের ১৭ নাম্বার আয়াতের ব্যাখ্যা।
ওহহহ আরেকটা কথা একটা গ্রহ আছে যেখানে দুটো সূর্যের উপস্থিত আছে ( যে সৌর মডেল এতে গ্রহটার অবস্থান সেকানে, আমি কিন্তু গ্রহের ভিতরের কথা বলছি না প্রিয় বন্ধুরা) গ্রহটার নাম সম্ভবত কেপলার হবে( শেষে বি না কি দিয়ে জানি ১৬ লেখা, মানে ' কেপলার বি ১৬ হবে) তো কেপলার বি ১৬ নাম রাখার কারণ হলো ' কেপলার' নামক দূরবীক্ষণ যন্তদিয়ে গ্রহটা আবিষ্কার করা হয়। এই গ্রহের অবস্থা ন দুনিয়া থেকে ( মানে আমাদের পৃথিবী থেকে) প্রায় ২০০ শত আলোকবর্ষ দূরে( সূর্য এক বছরে যতদূর পথ অতিক্রম করে সেটা এক আলোকবর্ষ, আলো সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে) । তো সেখানে দু সূর্য ( আসলে নক্ষত্র হবে, তবে আমি বুঝার সুবিধার্থে সূর্য বলছি) একই সময়ে এক দিকে অস্ত আর উদয় হয়। মানে এরকম ও গ্রহ এই বিশ্ব জগৎ এতে আছে।
তো প্রিয় বন্ধুরা বুঝতে পারলেন যে কলা বিজ্ঞানিদের সল্প জ্ঞানের কারণে.........
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
[ অল্প কিছু তথ্য সংগৃহীত ]
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।