#আল_কোরআনের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_অবৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ
সিরিজ পর্ব-১৪
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিয় বন্ধুরা অনেক দিন পর নিয়ে আসলাম এই সিরিজ এর ১৪ তম পর্ব। আজকে নতুন একটা প্রশ্নের জবাব দিবো ইনশাআল্লাহ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
দাবিঃ কোরআনের ৬/১ নং আয়াতে বলা হয়েছে
" আল্লাহ রব্বুল আলামিন আলো ও অন্ধকার সৃষ্টি করেছেন " যেটা একটা বৈজ্ঞানিক ভুল কারণ অন্ধকার বলতে কিছু হয় না। আলোর অনুপস্থিত হলো অন্ধকার। যেখানে আলো নেই সেখানেই অন্ধকার। অতএব যার অস্তিত্ব নেই সেটা সৃষ্টি করার প্রশ্নই আসে না। আর কোরআন যেহেতু বলছে " আলো ও অন্ধকার সৃষ্টি করেন " যা একটা বিখ্যাত না কুখ্যাত ভুল।
জবাবঃ প্রথমেই আয়াতটা দেখে নিন ; আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ جَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَ النُّوۡرَ ۬ؕ ثُمَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ یَعۡدِلُوۡنَ ﴿۱﴾
আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী খালকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়া জা‘আলাজজু লুমাতি ওয়াননূরা ছু ম্মাল্লাযীনা কাফারূ বিরাব্বিহীম ইয়া‘দিলূন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন আলো ও অন্ধকার; এ সত্ত্বেও যারা কাফির হয়েছে তারা অপর কিছুকে তাদের রবের সমকক্ষ নিরূপণ করেছে।
All praises and thanks be to Allah, Who (Alone) created the heavens and the earth, and originated the darkness and the light, yet those who disbelieve hold others as equal with their Lord. ( আনআম-১)
[ এটা ( বাংলা অনুবাদটা) আমার মোবাইলে থাকা কোরআন মাজিদ App ( আ্যপ) থেকে নেওয়া। ]
তো অনুবাদটাতে ভালো করেই দেখছেন যে " আলো ও অন্ধকার সৃষ্টি করেন " বলা হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো এরকম যত অনুবাদ আছে যেখানে " আলো ও অন্ধকার সৃষ্টি করেন " সেগুলো সবগুলোই ভুল। কারণ উক্ত আয়াতে
" ওয়া জাআলাজজু লুমাতি ওয়াননূরা " অংশটুকুতে " জাআলা " শব্দ এসেছে যার অর্থ সৃষ্টি করা না। " খালাক" শব্দের অর্থ সৃষ্টি করা ; আর "জাআলা " শব্দের অর্থ হলো " উপস্থিত করা, পেশ করা, হাজির করা তৈরি করা ইত্যাদি ইত্যাদি "।
কিন্তু আমাদের কাছে থাকা প্রচলিত অনুবাদগুলোতে উক্ত আয়াতের অনুবাদ করে " সৃষ্টি করা " যেটা সম্পূর্ণ অনুবাদক এর ভুল এটা আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর ভুল না। নাস্তিকগুলো তো আরবি জানে না। তারা যত ভুল ধরে সেগুলো সব বাংলা পড়ে। বাংলা অনুবাদগুলোতে অনেক ভুল আছে আর এই অনুবাদগুলো দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। একন আমরা যদি আল- কোরআন-৬/১ এর অনুবাদ করি ; তাহলে সঠিক অনুবাদ হবে
" এবং উপস্থিত করেন আলো ও অন্ধকার "
আর এটা হলো সঠিক অনুবাদ যেটাকে কিছু কিছু অনুবাদকরা ভুলভাবে উপস্থিত করে। তাঁরা হয় তো সমার্থক মনে করে 'খালাক' আর 'জাআলা' শব্দকে । যাইহোক আপনারা বুঝতে পাচ্ছেন যে এটা আসলে অবৈজ্ঞানিক কোনো তথ্য দিচ্ছে না। [ মজার ব্যাপার হলো তাঁরা আবার ' জাআলা ' শব্দের সঠিক অনুবাদ করেছে ফাতির -৪৯ নং আয়াতে ] এরকম অনেক কিছুতেই অনুবাদকরা ভুল করে। উদাহরণস্বরূপ সূরা ফুরকান-৬১ নং আয়াতের অনুবাদ করা হয়েছে
" বরকতময় সে সত্তা যিনি আসমানে সৃষ্টি করেছেন বিশালকায় গ্রহসমূহ। আর তাতে প্রদীপ ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ সৃষ্টি করেছেন। আল-বায়ান
কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র।তাইসিরুল
কত মহান তিনি, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন তারকারাজি এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও জ্যোতির্ময় চাঁদ!মুজিবুর রহমান
Blessed is He who has placed in the sky great stars and placed therein a [burning] lamp and luminous moon. Sahih International "
এখানে প্রথম দুটো অনুবাদে মারাত্মক ভুল আছে। লক্ষ্য করুন আল-বায়ান আর তাইসিরুল অনুবাদটা ; উক্ত অনুবাদ দ্বয়ে বলা হয়েছে
" আল বিকিরণকারী চাঁদ "
এখানে বিকিরণ শব্দটা হয় তো লেখক সাহেব প্রতিফলিত শব্দের সমার্থক ভেবেছে। বিকিরণ শব্দটা এমন বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেটার নিদিষ্ট উৎস আছে। আমরা বলে থাকি যে " সূর্য আলো বিকিরণ করে " তো এখানে বিকিরণ শব্দ দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে সূর্যের নিদিষ্ট ক্ষমতা আছে যা দ্বারা সে আলো উৎপন্ন করে। এরকম ভাবে নিদিষ্ট উৎস নির্দেশ করলে বিকিরণ শব্দের প্রয়োগ হবে। আমরা জানি যে চাঁদের নিদিষ্ট কোনো আলো নেই সেটা সূর্যের থেকে আলো নেই মানে প্রতিফলিত আলো। অতএব চাঁদের ক্ষেত্রে কখনো বিকিরণ শব্দ প্রযোজ্য হবে না। আর এই ভুলটাই করেছে আল- বায়ান ও তাইসিরুল এর লেখকগণ। বরং এর সঠিক অনুবাদ হবে " জ্যোতিময় চাঁদ " যেটা অনুবাদ করেছেন মুজিবর রহমান। অর্থাৎ তাঁর অনুবাদটা সঠিক। তো আশা করি পুরো ব্যাপারটা ক্লিয়ার।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।