আল কোরআনের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
পর্ব-৮
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
দু- দিন আগে Wiliam harmet নামক এক ব্যাক্তির একটা পোস্ট দেখলাম ফেইসবুকে, যেখানে তিনি সূরা বাকারার একটা আয়াত দেখিয়ে বললেন যে এটা কিভাবে সম্ভব ইত্যাদি ইত্যাদি( নিচে দেওয়া screenshoots লক্ষ্য করুন)
কমেন্ট বক্সে উত্তরটা দেওয়ার পর হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় নি তাকে।
যাইহোক এই বিষয়টা ভাবলাম আপনাদের মাঝেও ক্লিয়ার করি
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমেই আয়াতটা দেখে নেন
وَ اِذۡ قَالَ اِبۡرٰہٖمُ رَبِّ اَرِنِیۡ کَیۡفَ تُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ؕ قَالَ اَوَ لَمۡ تُؤۡمِنۡ ؕ قَالَ بَلٰی وَ لٰکِنۡ لِّیَطۡمَئِنَّ قَلۡبِیۡ ؕ قَالَ فَخُذۡ اَرۡبَعَۃً مِّنَ الطَّیۡرِ فَصُرۡہُنَّ اِلَیۡکَ ثُمَّ اجۡعَلۡ عَلٰی کُلِّ جَبَلٍ مِّنۡہُنَّ جُزۡءًا ثُمَّ ادۡعُہُنَّ یَاۡتِیۡنَکَ سَعۡیًا ؕ وَ اعۡلَمۡ اَنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ ﴿۲۶۰﴾٪
ওয়া ইযকা-লা ইবরা-হীমু রাব্বি আরিনী কাইফা তুহয়িলমাওতা-কা-লা আওয়ালাম তু’মিন কা-লা বালা- ওয়ালা-কিল লিইয়াতমাইন্না কালবী কা-লা ফাখুয আরবা‘আতাম মিনাত্তাইরি ফাসুরহুন্না ইলাইকা ছুম্মাজ‘আল ‘আলা-কুল্লি জাবালিম মিনহুন্না জুঝআন ছুম্মাদ ‘উহুন্না ইয়া তীনাকা ছা‘ইয়াওঁ ওয়া‘লাম আন্নাল্লা-হা ‘আঝীঝূন হাকীম।
এবং যখন ইবরাহীম বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! আপনি কিরূপে মৃতকে জীবিত করেন তা আমাকে প্রদর্শন করুন। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি বিশ্বাস করনা? সে বললঃ হ্যাঁ অবশ্যই, কিন্তু তাতে আমার অন্তর পরিতৃপ্ত হবে। তিনি বললেনঃ তাহলে চারটি পাখী গ্রহণ কর, তারপর ওদেরকে টুকরা টুকরা করে মিশ্রিত কর, অনন্তর প্রত্যেক পাহাড়ের উপর ওদের এক এক খন্ড রেখে দাও, অতঃপর ওদেরকে আহবান কর, ওরা তোমার নিকট দৌড়ে আসবে; এবং জেনে রেখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময়।
And (remember) when Ibrahim (Abraham) said, My Lord! Show me how You give life to the dead. He (Allah) said: Do you not believe? He [Ibrahim (Abraham)] said: Yes (I believe), but to be stronger in Faith. He said: Take four birds, then cause them to incline towards you (then slaughter them, cut them into pieces), and then put a portion of them on every hill, and call them, they will come to you in haste. And know that Allah is All-Mighty, All-Wise."( ২ নাম্বার সূরা সূরা বাকারার ২৬০ নাম্বার আয়াত) ।
[ একটা কথা বলে দেই ' আমরা হই তো ভুলে যায় আল্লাহ রব্বুল আলামীন সর্বশক্তিমান, তিনি পারে না এমন কোনো জিনিস নেই। আর আমি এখানে যে ব্যাখ্যাটা করব ঠিক ওই রকম যে হবে তা কিন্তু না, আমি শুধু বিজ্ঞানের অনুপাতে বিষয়টা একানে ক্লিয়ার করব, এটা সম্ভব নাকি সম্ভব না, কথাটা মাথাই রাকবেন, কেমন ]
এখানে বলা হয়েছে যে '
একটা পাখিকে টুকরো টুকরো করে জীবিত করা হয়েছে, একন কথা হলো
একটা পাখিকে টুকরো টুকরো করে আবার জীবিত করা হলো কি করে???
তো এই বিষয়টা বুঝার জন্য
এই উদাহরণ গুলো দেখুন
* আ্যমিবা এমন একটা প্রাণী যা অণুবীক্ষণ জীব এবং এটার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ' একে টুকরো টুকরো করলে সেটার থেকে আবার আলাদা করে অন্য আ্যমিবার সৃষ্টি হয়, সেটার মৃত অংশ গুলো জীবিত হয়ে আবার অন্য আ্যমিবার আবির্ভাব হয়
* আমরা তো ভাইরাস চিনি, তো এই ভাইরাস কে আসলে প্রকৃত পক্ষে জীবিতও বলতে পারবেন না আবার মৃতও বলতে পারবেন না, এর কারন হলো যখন ভাইরাস কোনো জীবিত কোষের সংস্পর্শে আসে তখন ওই কোষ থেকে প্রোটিন নিয়ে আরএনএর মাধ্যৃে প্রানবন্ত হয়, আবার কোষ থেকে সেটাকে( ভাইরাস) সরিয়ে ফেললে আবার মৃত হয়ে যায়, মানে মৃত থেকে জীবিত + জীবিত থেকে মৃত
* নাস্তিকদের বিবর্তন তত্ত্ব অনুসারে পৃথিবীতে পড়াণের আবির্ভাব হয়েছে একটা আ্যমাইনো এসিড থেকে, মজার ব্যাপার হলো এই আ্যমাইনো এসিড কিন্তু মৃত ছিলো হঠাৎ করে সেখানে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
এইখান থেকে দেখা যাচ্চে যে মৃত বডিতে প্রাণ দেওয়া সম্ভব। এমনকি নাস্তিকদের নিজেদেরও বিশ্বাস এটা ( প্রমান আ্যমাইনো এসিড)
কিন্তু সমস্যা হলো আল কোরআনের সময় , প্রকৃতির এই নরমাল বিষয়টা আল কোরআনের সত্য ঘটনার সময় তা হয়ে যায় অবৈজ্ঞানিক , এক কথায় যাকে বলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।
এখন আসি আরেকটা বিসয় এতে। যদিও ওই খানে এটা নিয়ে সেরকম অভিযোগ করা হয় নি, তাও ক্লিয়ার করছি।
উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে ' টুকরো গুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে উড়ে এসে ছিলো, তো এটা কিভাবে সম্ভব???
জীবিত পাখি উড়ে আসতে পারবে কিন্তু মৃত...???
তো এটা বুঝার আগে লক্ষ্য করুন মহাবিশ্ব টাকে। বৃহস্পতি গ্রহের চারপাশে কিন্তু গ্রহাণু বেল্ট আছে।
যেগুলো বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, এবং কি প্রতিনিয়ত কিছু কিছু আস্টোরয়েড ছুটে যাচ্ছে।
এখানে কথা হলো এসব পাথরের টুকরো গুলো কিন্তু মৃত ঠিক ওই পাখির টুকরো টুকরর গুস্তর মতো। তবুও সেগুলো শূন্যের মধ্যে ঘুরপাকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রতিনিয়ত চেন্স করছে।
এখন আসি মূল পয়েন্ট এতে।
পাখির টুকরো গুলো কি করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেলো এটা বুঝার জন্য ছোট্ট করে ভরের ব্যাপারে কিছু বলে নেই, কেমন।
আপনি যদি দুটো বস্তুকে এক সাথে রাখেন এবং একটার ভর যদি অধিক হয় তাহলে সেটা কম বস্তুকে নিজের দিকে নিয়ে আসবে।
বিষয়টা বুজতে সৌরজগতের কথাটা চিন্তা করুন।
সূর্য হলো সবচেয়ে ভর যুক্ত বস্ত( নক্ষত্র তবে বমি বস্তুু বলছি আর কি)
আর এর চারপাশে ঘুড়া গ্রহগুলো কম ভর যুক্ত তাই গ্রহগুলো সূর্যের আকর্ষণে তার চারপাশে ঘুরছে ( কেন্দ্রীয় বল এবং বিপরীতমুখী বল না থাকলে গ্রহগুলো সব সূর্য মামার ভগে চলে যে তো, যাইহোক আমাদের নবম দশম শ্রেণির পদার্থ এর ' বল ও শক্তি অধ্যায়টা পড়ুন)
এখন মাংসের টুকরোগুলোর কাছে আসুন, সেগুলো হলো কম ভয় বিশিষ্ট এখন ওগুলোর সাপেক্ষে অধিক ভর যুক্ত কিছু রাখলে ভরের নৃত্যতা অনুসারে মাংসের টুকরো গুলো কাছে এসে পরবে, ঘটনাটা যেহেতু পাহাড়ে ঘটেছে তাই বলা যায়, যে আয়তন ঠিক রেখে ঘনত্ব বাড়িয়ে দিলেই মাংসগুলোর টুকরো কাছে এসে পড়বে, আর উড়ে আসার জন্য ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে অথবা বাতাসের প্রবাহকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিম্পল লজিক ইয়ার।
বোকার দল এই নরমাল বিষয়টা তোমাদের মাথাই ঢুকে না
যতসব কলা বিজ্ঞানি
তো লেখাটা এখানেই সমাপ্ত করছি।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✒️✒️✒️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
Md Mehedi Hasan
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।