আল কোরআনের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পর্ব-১০
সাধারণ তো কোনো প্রশ্নের উত্তর নিমিষেই পেয়ে যায়, কিন্তু কালকে রাতে একটু ব্যাতিক্রম হয়েছে। ৫ থেকে ১০ মিনিটের মতো চিন্তা করতে হয়েছে, আর কথাগুলো সাজাতে আরও সময় চলে গেছে। অনেক আগে এক ভাই প্রশ্ন করেছিল, উত্তরটা দিবো দিবো বলেও লেখতে পারি নি কেন জানি।
টপিকটা হলো " পৃথিবী আগে সৃষ্টি নাকি মহাবিশ্ব ""
আমরা যারা অল্প সল্প বিজ্ঞান জানি তারা আসলে একটা বিষয় জানি যে
" আগে ইউনিভার্স সৃষ্টি তারপর পৃথিবী "
কিন্তু পবিত্র আল- কোরআনে নাকি বলা হয়েছে যে
" আগে পৃথিবী সৃষ্টি তারপর মহাবিশ্ব বা নক্ষত্র গ্যালাক্সি।
তাই আল কোরআন বৈজ্ঞানিক ভুল
এরকম একটা,দাবি করেছে সত্যের সন্ধ্যানী পেইজ নামে এক লোক
[ সে আরও ২০ টা ভুল ধরেছে, তো তাঁর কথাগুলো কতটুকু সত্য সেটা আজকে রাতেই লিখে পোস্ট করব ইনশাআল্লাহ ]
যাইহোক তাদের কথাগুলো কতটুকু সত্য এখন সেটাই মেপে মেপে দেখবো ইনশাআল্লাহ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমে লক্ষ্য করুন সেই আয়াতটা, যেটা পেশ করে "Shotter shondani " আল কোরআনকে অবৈজ্ঞানিক দাবি করেছে
আয়াতটা হলো " ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ٭ ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ فَسَوّٰىہُنَّ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ ؕ وَ ہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿٪۲۹﴾
হুওয়াল্লাযী খালাকালাকুম মা-ফিল আরদিজামী‘আন ছু ম্মাছ তাওয়াইলাছছামাই ফাছাওওয়া-হুন্না ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিওঁ ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।
পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনঃসংযোগ করেন, অতঃপর সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
He it is Who created for you all that is on earth. Then He Istawa (rose over) towards the heaven and made them seven heavens and He is the All-Knower of everything.
" প্রথম কথা হলো এই আয়াতে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয় নি যে আগে পৃথিবী তারপর মহাকাশ সৃষ্টি করা হয়েছে "
দ্বিতীয় তো এখানে আরবি শব্দ "সুম্মা " ব্যবহার করা হয়েছে, এই সুম্মা শব্দের শুধু একটা অর্থই হই না, বরং " একই সাথে " এই অর্থটাও হয়।
অর্থাৎ পৃথিবী আর আসমান কে একই সাথে সৃষ্টি করা হয়েছে ( খালাক অর্থ সৃষ্টি করা)
[ ওহহ একটা কথা এখানে সামা ( ছামা) শব্দ এসেছে, এর দ্বারা বিভিন্ন অর্থ হয়, মহাকাশ, শুধু আকাশ( পৃথিবীতে আমরা মাথার উপরে যেটা দেখতে পারি, ওজন স্তর আর কি) ধূমকেতু, sky, heaven, ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে ছামা শব্দের দুটো অর্থ আমরা প্রয়োগ করব
১. মাথার উপরে আকাশ
২. মহাকাশ
এখন একটু সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে ঘুরে আসি, আমরা জানি যে পৃথিবীর আদি সময়ে শুধু জমিন ছিল, আর এই জমিন ছিল উত্তপ্ত, তখনও আকাশে বায়ুমন্ডল গঠিত হয় নি, পৃথিবী যখন আসতে আসতে ঠান্ডা হয় তখন বায়ুমন্ডল গঠিত হয় তারপর ধীরে ধীরে সুবিন্যস্ত হয়, বিভিন্ন ধাপে অতিক্রম করে, এখন আয়াত অনুসারে ' আগে পৃথিবী তারপর আসমান ' যদি বলা হয় তাহলে সেটা সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে ১০০ ভাগ মিলে যায়, কারণ আগে পৃথিবীর পৃষ্ঠ গটন হয়েছে পরে আসমান( মাথার উপরিভাগ)
* এখন দ্বিতীয় অর্থটা নিয়ে আলোচনা করব, কেমন, কারণ নাস্তিকরা এখানে মহাকাশ ঢুকিয়ে দিয়েছে ]
এখন এই আয়াতের ব্যাখ্যার জন্য আমরা চলে যাবো আরেকটা আয়াতে, সূরা নাযিরাতে ( ৭৯ নাম্বার সূরা) বলা হয়েছে "
সূরা নাযিয়াত, আয়াত -২৯
وَ اَغۡطَشَ لَیۡلَہَا وَ اَخۡرَجَ ضُحٰہَا ﴿۪۲۹﴾
ওয়া আগতাশা লাইলাহা-ওয়া আখরাজা দুহা-হা-।
এবং তিনি ওর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং ওর জ্যোতি বিনির্গত করেছেন।
Its night He covers with darkness, and its forenoon He brings out (with light).
সূরা নাযিয়াত আয়াত-৩০
وَ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ ذٰلِکَ دَحٰىہَا ﴿ؕ۳۰﴾
ওয়াল আর দা বা‘দা যা-লিকা দাহা-হা-।
এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন।
And after that He spread the earth; "
[ আবার কেও ভেবেন না যে বাকার ২৯ আর এই সূরার ৩০ নাম্বার আয়াত সাংঘর্ষিক, কারণ ওখানে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে আর এখানে সুবিন্যস্ত এর কথা বলা হয়েছে ]
এখন যদি দুটো আয়াতের অর্থ পাশা- পাশি আনি
" খালাক- সৃষ্টি আর দাহা - সুবিন্যস্ত "
তাহলে দেখতে পাচ্ছি যে পৃথিবী (জমিন) আর আর মহাকাশ( আসমান) একই টাইম এতে সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু পৃথিবী তখনও তাঁর বর্তমান অবস্থাতে আসে নাই, পরবর্তীতে আল্লাহ রব্বুল আলামীন পৃথিবীকে বর্তমান আকৃতি প্রধান করেছে
এই ব্যাপারে সূরা নাযিয়াত এর তাফসির দেখুন
وَ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ ذٰلِکَ دَحٰىہَا ﴿ؕ۳۰﴾"
এবং তারপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।[১] [১] পূর্বে হা-মীম সিজদার ৯ আয়াতে উল্লেখ হয়েছে যে, خلق (সৃষ্টি করা) এক জিনিস এবং دحى (সমতল, বিস্তৃত ও বাসোপযোগী করা) করা অন্য এক জিনিস। পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে আকাশের পূর্বে। কিন্তু তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পর। এখানে সেই তত্ত্বই বর্ণিত হয়েছে। সমতল ও বিস্তৃত করার মানে হল, পৃথিবীকে সৃষ্টির বাসোপযোগী করার জন্য যে সমস্ত জিনিসের প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তার প্রতি গুরুত্ব দিলেন। যেমন, যমীন থেকে পানি নির্গত করলেন অতঃপর তা হতে নানা খাদ্যসামগ্রী উৎপন্ন করলেন। পাহাড়সমূহকে পেরেকস্বরূপ মজবুতভাবে যমীনে গেড়ে দিলেন যাতে যমীনটা না হিলে। যেমন, আগামী আয়াতসমূহে এর বর্ণনা রয়েছে।" ( তাফসীরে আহসানুল বয়ান)।
" এখন আসি সৃষ্টিতত্ত্বে "
একটা সময় ছিল যখন সমস্ত কিছু একাকার ছিল, অর্থাৎ আসমান জমিন এবং এই দু- য়ের মাঝে সব মিশে ছিল,
এই ব্যাপারে কোরআন বলে যে " আসমান ও জমিন একে উপরে একই সাথে মিশে ছিল ( সূরা আম্বিয়া, সূরা নাম্বার ২১, আয়াত-৩০)
আর এটা হলো বিগ ব্যাং এর আগের অবস্থা
আর Big Bang এর পর সমস্ত কিছু একটা সময়তে গঠিত হতে থাকে
পৃথিবী সহ সকল কিছু
[ থেউরি মতাবেক পৃথিবী এসেছে আরেকটা নক্ষত্রের অংশ থেকে, এরকম ভাবে চলতে থাকলে ( পিছে যেতে থাকলে) বিভিন্ন জিনিস বিভিন্ন কিছু থেকে এসেছে ]
অর্থাৎ, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সৃষ্টির মূলেও পৃথিবী ছিল ( তবে তা বর্তমান রূপে না বরং অন্য ফর্মে)
পরবর্তীতে পৃথিবীকে বর্তমান ফর্মে নিয়ে আসে
[ ধরুন একটা গ্লাস, যোখানে চিনি, লবণ এবল আরও কিছু দ্রবণ নিয়ে শরবত করলাম, এটাকে ধরুন বিগ ব্যাং এর আগের অবস্থা ( মানে মিশে আছে সব) এবার ছাকন দিয়ে আলাদা করুন, ( মানে মহা বিস্ফোরণ) তারপর চিনি লবণ এবং অন্যগুলো আলাদা করার পর যার যার নিজ জায়গায় রাখুন ( মানে গ্রালাক্সিসহ নক্ষত্র ইত্যাদি ইত্যাদি) এখন আমরা কিন্তু বলতে পারে যে চিনি লবণ এবং অন্যগুলো একই সাথে অবস্থান করছিল, তবে নিজ ফর্মে না, পরবর্তীতে আমরা ওগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করি, পৃথিবী ও মহাকাশের বিষয়টাও ঠিক তাই, ধন্যবাদ ]
অতএব বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বুঝলাম যে
এই আয়াতটা অবৈজ্ঞানিক বলা যাবে না ডাইরেক্টলি
*প্রথমত নাস্তিকরা নিজেদের মতো করে বাকারার অর্থ নিয়েছে
* দ্বিতীয় তো তাও গোঁজামিল দিয়েছে
আমরা দুটো অর্থ নিয়েই বিচার করলাম
কিন্তু বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বুঝলাম যে.....
আশা করি কথা ক্লিয়ার
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন,
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✒️✒️✒️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।