আল কোরআনের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পর্ব-১২
অনেক দিন পর নিয়ে আসলাম এই সিরিজের ১২ তম পর্ব। আপনারা যদি সূরা নূর ( ২৪ নং সূরা) এর ৪৩ নং আয়াতটা পড়েন তাহলে দেখতে পারবেন যে সেখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন " আসমানে পাহাড় " এর কথা বলা হয়েছে। এখন কথা হলো আসমানে পাহাড় আসবে কয় থেকে??? পাহাড়- পর্বত তো সব জমিনের পৃষ্ঠ তলে অবস্থিত। আয়াতটা দেখে নিন
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یُزۡجِیۡ سَحَابًا ثُمَّ یُؤَلِّفُ بَیۡنَہٗ ثُمَّ یَجۡعَلُہٗ رُکَامًا فَتَرَی الۡوَدۡقَ یَخۡرُجُ مِنۡ خِلٰلِہٖ ۚ وَ یُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مِنۡ جِبَالٍ فِیۡہَا مِنۡۢ بَرَدٍ فَیُصِیۡبُ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَصۡرِفُہٗ عَنۡ مَّنۡ یَّشَآءُ ؕ یَکَادُ سَنَا بَرۡقِہٖ یَذۡہَبُ بِالۡاَبۡصَارِ ﴿ؕ۴۳﴾
তুমি কি দেখনা আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, অতঃপর তাদেরকে একত্রিত করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন? অতঃপর তুমি দেখতে পাও, ওর মধ্য হতে নির্গত হয় বারিধারা। আকাশস্থিত শিলাস্তুপ ( পাহাড়) হতে তিনি শিলা বর্ষণ করেন এবং এর দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা তার উপর হতে এটা অন্য দিকে ফিরিয়ে দেন; মেঘের বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়। " ( সূরা নূর-৪৩)
তো নাস্তিকরা উক্ত আয়াতের পাহাড় ( জাবাল-পাহাড়) শব্দটা হাইলাইট করে বলে যে " এটা বৈজ্ঞানিক ভুল " । তো একটা কথা বুঝার চেষ্টা করুন ; পাহাড় বলতে আমরা সাধারণ তো বুঝি কোনো এক বিশাল ঘন স্তুপ । এখন এটা যে কোনো জিনিসও হতে পারে ( শুধু পাহাড় বিষয়ে এই নরমাল কন্সেনপ্ট টা মনে রাখুন) । এখন একটু মেঘ সম্পর্কে বলি। সাধারণ তো মেঘকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়
১. উচ্চ মেঘ
২. মধ্য মেঘ
৩. নিম্ন মেঘ
তো এগুলোর আলাদা আলাদা ভাগ আছে। তার মধ্যে এক স্তরের মেঘ হলো " কিউমুলোনিম্বাস মেঘ " [ এই মেঘটা সাধারণ তো ট্রপোস্ফিয়ারে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার ফলে তৈরি হয় যা শক্তিশালী উচ্ছল শক্তিশালি বায়ুপ্রবাহের দ্বারা ঊর্ধ্বমুখী হয়৷ অর্থাৎ এই মেঘটা বৃষ্টি বা ঝড় ইত্যাদি সময়ে নিজেকে প্রকাশ করে ] নূর এর ৪৩ নং আয়াতটা ভালো করে যদি পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন যে " তুমি কি দেখো না, আল্লাহ রব্বুল আলামিন
সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, ( মানে হলো মেঘকে ঊর্ধ্বমুখী হয়, আমরা জানি শিলাবৃষ্টি এর উষ্ণ হাওয়া উপরে উঠে আর শীতল হাওয়া নিচে নামে) অতঃপর তাদেরকে একত্রিত করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন? ( উপরে বায়ু উঠার পর ঠান্ডার কারনে সকল বায়ু নামক জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়) অতঃপর তুমি দেখতে পাও, ওর মধ্য হতে নির্গত হয় বারিধারা। ( আর একটা সময় উক্ত ঘন বাস্পীয় এর ভারের কারনে ছিটকিয়ে বরফগুলো নিচে পরতে থাকে, যাকে আমরা শিলাবৃষ্টি নামে জানি) আকাশস্থিত পাহাড় "
এখানে এক বিশেষ অবস্থার কথা বলা হচ্ছে । এক বিশেষ ধরনের মেঘ। যেটা হলো ঘন ( অনেক ঘনীভূত) যেটা শুধু বাদল এর সময় উৎপত্তি হয়। আর কোরআনে এই অবস্থার উক্ত ঘন মেঘের অবস্থাই হলো পাহাড় ( সাদৃশ্যগত উপমা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে) । আর এই মেঘের অবস্থাকেই কিউমুলোনিম্বাস বলা হয় বিজ্ঞানের ভাষায়। এই কিউমুলোনিম্বাস পাহাড় সাধারণ তো ৬-৭ কিলোমিটার ( উল্লেখ্য আমাদের দেশের টাজিংডং পাহাড় ১২ মিটার এর মতো এবং মাউন্ট এভারেস্ট এর উচ্চতা ৮৫৫০ মিটার এর মতো প্রায়) পুরুত্বের হয়। কাল বৈশাখির সময় এই মেঘ ( কিউমুলোনিম্বাস) উত্তর পশ্চিম আকাশে দেখা যায়। আর এই মেঘটা বিশাল পর্বতের মতো। আর এই মেঘে প্রচন্ড বজ্রের বিদ্যুৎ দেখা দেয় বলে একে বজ্রমেঘ বলে ( আর আমরা কোরআনের নূর এর ৪৩ নং আয়াতের শেষে তিব্র বিদ্যুৎ চমক এর কথা পায়) অতএব কোনো সন্দেহ নেই যে উক্ত ( সূরা নূর এর ৪৩ নং আয়াত) এতে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ এর কথায় বলা হয়েছে ( কারন আয়াতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্য গুলো সব মিলে যায় উক্ত কিউমুলোনিম্বাস এর সাথে)। আসলে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ পাহাড়ের মতো তাই উক্ত ( সূরা নূর এর ৪৩ নং আয়াত) এতে একে পাহাড়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আশা করি বিষয়টা বুঝেছেন।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
✍️✍️প্রিন্স ফ্রেরাসোসে মোঃ মেহেদী হাসান
[ আল- কোরআনের কোনো আয়াতের মদ্যে বিজ্ঞান নিয়ে সংশয় থাকলে কমেন্টে বলতে পারেন ]
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।