#আল_কোরআনের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-১৫
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এক নজরে অভিযোগ
* কোরআন এর সূরা হিজর ( ১৪ নং আয়াত) অনুসারে আকাশের দরজা আছে। কিন্তু আমরা জানি আকাশের কোনো দরজা নেই। অতএব কোরআন অবৈজ্ঞানিক
* কোরআন অনুসারে ( সূরা মুলক-৬৭) পড়লে বুঝা যায় আকাশ কঠিন পদার্থ কারণ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে আকাশ ছিদ্র ; আর কঠিন পদার্থের ছিদ্র থাকে। অতএব কোরআন অবৈজ্ঞানিক
* কোরআন অনুসারে ( আম্বিয়া-১০) অনুসারে আকাশকে ভাজ করা হবে। কিন্তু আমরা জানি যে আকাশ কোনো পদার্থ না যে তাকে ভাজ করা যাবে। অতএব কোরআন অবৈজ্ঞানিক
দাবি খন্ডন
___________
প্রথম অভিযোগ এর জবাব: প্রথমে আয়াতটা দেখুন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" যদি তাদের জন্য আমি আকাশের দরযা খুলে দিই এবং তারা সারাদিন তাতে আরোহণ করতে থাকে "( হিজর-১৪)
প্রথম কথা
উক্ত আয়াতে কাফেরদের একটা ( উদাহরণগত) দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। কাফেররা রাসূল সাঃ এর নবুয়তে বিশ্বাস স্থাপন করে না এমনকি তার পূর্ববর্তী রাসূলদের উপরও বিশ্বাস স্থাপন করে নি। তাদের সামনে যত প্রমাণই উপস্থাপন করা হোক না কেন তারা সেগুলো মানবে না। এরকম কমই একটা প্রমাণ হলো " আকাশের দরজা খুলে দেওয়া "। আর এটা পরের আয়াত দেখলেই বুঝা যায় ; আয়াতটা হলো।
"তবুও তারা বলবেঃ আমাদের দৃষ্টি সম্মোহিত করা হয়েছে; না, বরং আমরা এক যাদুগ্রস্ত সম্প্রদায়" ( হিজর-১৫) । যা দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারি যে আগের আয়াতটা উপমা হিসাবে ব্যবহার হয়েছে ( ফি যিলালিল কোরআন -১২/২৯) আর উপমাকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বুকামি।
দ্বিতীয় কথা
এখনও যদি না মানে তারা তাহলে...........
উক্ত আয়াতে বাব( আকাশ) এর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমরা জানি না ওটা কি রকম । আমাদের বুঝতে হবে যে ইসলামে এসব ক্ষেত্রে বাবুল ( দরজা) বলতে কি বুঝানো হয়। ইসলামে " আকাশের বাব বলতে এমন একটা মাধ্যমকে ইঙ্গিত করে যেটা একটা অঞ্চলকে আরেকটা অঞ্চল এর সাথে যুক্ত করে এবং ওই মাধ্যম এর ধরণ কি রকম সেটা আমরা জানি না কারণ এটা গায়েব এর বিষয় ( আল আদাবুল মুফরাদ-৭৬৭) বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বললে " এই দরজাটা হয় তো ওয়ার্মহোল ( মাধ্যম) " কারণ আমরা থেউরির( হাইপথেসিস) মাধ্যমে জানি যে " ওয়ার্মহোল এক ইউনিভার্সকে ( অঞ্চল) আরেক ইউনিভার্স ( অঞ্চল) এর সাথে যুক্ত করে । তাই উক্ত আয়াতে দরজা বলতে ওয়ামহোল ধরলেও ভুল হবে না। তাই বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও উক্ত আয়াত ভুল হবে না।
তৃতীয় কথা
এখন কোনো নাস্তিক যদি আমার এই ব্যাখ্যা না মানেন এবং বলেন যে " কোরআনে বলছে দরজার কথা এখন আমরা আকাশে দরজা খুজে দেখবো ; যদি দরজা পাই তাহলে আমরা বিশ্বাস করব কোরআন ঠিক না পেলে আমরা বুঝব যে কোরআন ভুল "! । তো এরকম দাবি যারা করবেন তাদের বলতে চাই যে " আমরা কখনো সেই দরজা খুঁজে পাবেন না " । কারণ উক্ত আয়াতে " যদি " শব্দের জন্য আরবি " লাউ " শব্দ ব্যবহার হয়েছে। সম্ভাবনা শব্দ যদি এর জন্য চরবিতে দুটো শব্দ ব্যবহার করা হয়
১. লাউ এবং
২. ইন
লাউ শব্দ যখন ব্যবহার করা হবে তখন বুঝতে হবে যে আমরা কখনো সেই সম্ভাবনা এর কাছে পৌছাতে পারবো না আর ইন থাকলে বুঝব যে আমরা একদিন সেই সম্ভাবনা খুজে পাবো। উদাহরণস্বরূপ
" یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ اِنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ اَنۡ تَنۡفُذُوۡا مِنۡ اَقۡطَارِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ فَانۡفُذُوۡا ؕ لَا تَنۡفُذُوۡنَ اِلَّا بِسُلۡطٰنٍ ﴿ۚ۳۳﴾
হে জিন ও মানুষ সম্প্রদায়! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার, অতিক্রম কর; কিন্তু তোমরা তা পারবেনা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত।"( আর- রহমান-৩৩)
এই আয়াতে " যদি " শব্দের জন্য আরবি " ইন " শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা দ্বারা বুঝায় যে উক্ত সম্ভাবনা সম্ভব । আর বর্তমানে আমরা রকেট নিয়ে আমাদের মাথার উপরে থাকা আকাশ ( আরবিতে সামা শব্দ ক্ষেত্র বিশেষ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহিত হয়) ভেদ করে চাঁদে ও মঙ্গলে যাচ্ছি । যদি এই আয়াতে লাউ শব্দ ব্যবহার হতো তাহলে আমরা কখনোই এই আকাশ ভেদ করতে পারতাম না। ঠিক ওই রকম ভাবে আমরা সূরা হিজরে ( ১৪ নং আয়াত) বর্ণিত বাবুল ( দরজা) কখনো খুঁজে পাবো না কারণ এই আয়াতে "লাউ" শব্দ ব্যবহার হয়েছে। তাই খুঁজা খুজি করে কোন। লাভ নেই। কারণ কোরআন এর ব্যাকরণবিধির মাধ্যমে আমরা দেখলাম যে এটা খুঁজে পাওয়া কখনো সম্ভব না ।
উপসংহার : তো আমরা বুঝতে পাচ্ছি যে কোনো আঙ্গেল থেকেই সূরা হিজর-১৪ নং আয়াতকে বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল প্রমাণ করা যাচ্ছে না।
প্রথম কিস্তি সমাপ্ত ......
[ লেখাটা অধিক বড় হয়ে যাবে। আর এত বড় লেখা কেও পড়তে চাই না তাই... ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।