#আল_কোরআনের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-১৬
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
[ আজকের লেখাটা দ্বিতীয় কিস্তি। প্রথম কিস্তিতে ( ১৪ নাম্বার সিরিজ পর্ব দেখুন) প্রথম প্রশ্নটার উত্তর দিয়েছি, আজকে শেষ দুই প্রশ্নের উত্তর দিব ইনশাআল্লাহ ]
এক নজরে অভিযোগ
* কোরআন অনুসারে ( সূরা মুলক-৬৭) পড়লে বুঝা যায় আকাশ কঠিন পদার্থ কারণ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে আকাশ ছিদ্র ; আর কঠিন পদার্থের ছিদ্র থাকে। অতএব কোরআন অবৈজ্ঞানিক
* কোরআন অনুসারে ( আম্বিয়া-১০৪) অনুসারে আকাশকে ভাজ করা হবে। কিন্তু আমরা জানি যে আকাশ কোনো পদার্থ না যে তাকে ভাজ করা যাবে। অতএব কোরআন
অবৈজ্ঞানিক
দাবি খন্ডন
___________
প্রথম জবাব: প্রথমে আয়াতটা দেখুন,
الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ؕ مَا تَرٰی فِیۡ خَلۡقِ الرَّحۡمٰنِ مِنۡ تَفٰوُتٍ ؕ فَارۡجِعِ الۡبَصَرَ ۙ ہَلۡ تَرٰی مِنۡ فُطُوۡرٍ ﴿۳﴾
তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবেনা; আবার দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?" ( মুলক-৩)
প্রথম কথা
উক্ত আয়াতে ফুতুর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার সঠিক অর্থ হবে " উম্মুক্ততা " ( ইবনু ফারিস - মাকাইসুল গুলাহ-৪/৫১০ ; সংগৃহীত রেফারেন্স ) অর্থাৎ আসমানে কোনো উম্মুক্ততা নেই। আর উম্মতুক্ততা এর জন্য কোনো বস্তুকে কঠিন হতে হবে এরকম কোনো মানে নেই। কঠিন তরল বায়বীয় হতে হবে এরকম কোনো মানে নেই।
দ্বিতীয় কথা
এখানে আস- সামা দ্বারা মাথার উপর থাকা বায়বীয় না বরং সপ্ত আসমানকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কারণ আয়াতে সপ্ত আকাশ এর কথা এসেছে ; আর এখান থেকে বুঝা যায় যে এখানে মাথার উপরে থাকা আকাশ উদ্দেশ্য না ( উল্লেখ্য সামা শব্দ ক্ষেত্র বিশেষ এতে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহিত হয়) বরং সপ্ত আকাশ উদ্দেশ্য । আর বিজ্ঞান ( শুধু বিজ্ঞান কেন যে কোনো জ্ঞান দ্বারা) এর জ্ঞান দ্বারা আমরা পরীক্ষা করতে পারব না যেসব আকাশ তাই এসব বিষয়ে আবুল- তাবুল কথা বলা বোকামি। একটা কথ মনে রাখতে হবে যে " কোনো বিষয় এতে বিজ্ঞান তখনি কিছু বলতে পারবে যখন তার উপর পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হবে " বিজ্ঞান যেহেতু সপ্ত স্তরে সাজানো আসমান এর উপর পরীক্ষা নীরিক্ষা কখনো করতে পারবে না তাই বিজ্ঞান এই বিষয়ে নিশ্চুপ। আশা করি কথা ক্লিয়ার
দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব: প্রথমে আয়াতটা দেখুন
" یَوۡمَ نَطۡوِی السَّمَآءَ کَطَیِّ السِّجِلِّ لِلۡکُتُبِ ؕ کَمَا بَدَاۡنَاۤ اَوَّلَ خَلۡقٍ نُّعِیۡدُہٗ ؕ وَعۡدًا عَلَیۡنَا ؕ اِنَّا کُنَّا فٰعِلِیۡنَ ﴿۱۰۴﴾
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর। যেভাবে আমি সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবই। " ( আম্বিয়া-১০৪)
প্রথম কথা
একটা বাচ্চাও যদি আয়াতটা দেখে তাহলে বুঝতে পারবে যে আয়াতটা সম্পূর্ণ উপমা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর মূর্খরাই উপমাকে বাহ্যিক অর্থে সাব্যস্ত করে; আর বৈজ্ঞানিক ভুল ধরে। তো বুঝতেই পাচ্ছেন যে উক্ত আয়াত ( আম্বিয়া-১০৪) নিয়ে তারা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ।
দ্বিতীয় কথা
উক্ত আয়াতে " তাওই" শব্দ বযবহার করা হয়েছে। তাওই মানে হলো " প্রসারণের বিপরীত ক্রিয়া; মানে সংকোচন । আমাদের ভাষায় বললে আয়তন কমানো ( আল- মুহকাম- ৯/২৫৩)
অর্থাৎ আকাশকে সংকোচন করা ( উপমার ভাষায় কাগজের মতো গুটানো) হবে।
তাই এই আয়াত দ্বারাও নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি কখনো প্রমাণ হয় না যেরকমটা তাঁরা করে থাকে।
তৃতীয় কথা
আমরা হয় তো big chrance এর কথা শুনেছি। এই থেউরি মতাবেক এক সময় সব কিছু সংকোচন হতে থাকবে৷ । এক কথায় big bang এর বিপরীত। অতএব বিজ্ঞান এর দৃষ্টিতেও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আয়াতে কোনো ভুল নেই। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
দ্বিতীয় ( শেষ) কিস্তি সমাপ্ত....
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।