#অনন্য_দৃষ্টিতে_আল_কোরআন_ও_তার_ব্যাকরণ
সিরিজ পর্ব-১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আজকে আমরা দেকব ব্যাকরণের দৃষ্টিতে কোরআনকে। কোরআন কিভাবে তার ভাষা অলংকার ব্যবহার করেছে সেই বিষয়টা। বাংলায় আমরা যাকে স্ত্রী বলি আরবিতে সাধারণ তো তার তিনটা সমার্থক শব্দ পাওয়া যায় কোরআনের আলোকে । সেগুলো হলো
১. যাওজাহ
. ২ইমরাআহ
৩. সাহিবাহ
আমি এখানে তিনটা আরবি শব্দের জন্য বাংলাতে তিনটা অর্থ করব সেগুলো হলো
১. স্ত্রী ( যাওজাহ)
২. পত্নী ( ইমরাআহ)
৩. সাথি বা ( জীবন) সঙ্গী ( সাহিবাহ)
এখন আসি কেন আমি এরকম আলাদা অর্থ প্রদান করলাম সেই বিষয়ে।
* স্ত্রী ( যাওজাহ) : বাংলায় আমরা স্ত্রী বলতে তাকে বুঝি যার সাথে শারীরিক ও মানসিক মিলন হয় + দু-জনের সাথে এক অনবদ্য মিল থাকে, সেট হতে পারে একই জাতের, বা একই মেন্টালিটির ইত্যাদি ইত্যাদি অথবা আখলাক বা দ্বীনও হতে পারে । এক কথায় স্ত্রী হলো জীবন সঙ্গীনি এর জন্য আদর্শ শব্দ । স্ত্রী হতে গেলে আদর্শ জীবন সঙ্গীনি হতে হয় আর এতে শুধু দেহের না মনের মিলনেরও প্রয়োজন হয় তাই না? তো একে বলব আমরা উত্তর জীবন সঙ্গী ( বা স্ত্রী ) আরবিতে এর প্রতিশব্দ হলো যাওজাহ
এখন কোরআন থেকে যাওজাহ ( বা উত্তম জীবন সঙ্গীনি/ স্ত্রী) এর উদাহরণ দেখুন । আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেন " এবং আমি( আল্লাহ) আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী ( এখানে যাওজাহ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে আরবিতে) জান্নাতে বসবাস করতে থাকো.... " ( বাকারা-৩৫) কোনো সন্দেহ নেই যে মা হাওয়া একদজন আদর্শ স্ত্রী, ইমান ও আখলাক এর দিক দিয়ে দু- জনের মিল বিদ্যমান যার কারণে কোরআন এখানে যাওজাহ শব্দ ব্যবহার করেছে। যখনি যাওজাহ শব্দ ব্যবহার হবে তখন বুঝতে হবে যে সে ছিল নেককার + ইমানদার। এই গেলো যাওজাহ শব্দের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ....
* পত্নী ( ইমরাআহ) পত্নী হলো সে যার সাথে শারীরিক মিলন হয় কিন্তু মনের মিলন ঘটে না এবং একটা মূল পার্থক্য ( ইমানের) পার্থক্য বিদ্যমান থাকে স্বামীর সাথে স্ত্রীর। বলতে গেলে জাওযাহ এর বিপরীত হলো ইমরাআহ এবং জাওযাহ এর সমার্থকও হলো ইমরাআহ ( ক্ষেত্র বিশেষ ইমানের ভিত্তিতে...) এরা জাওযাহ এর মতো আদর্শ হতেও পারে নাও হতে পারে।
এখন কোরআন থেকে উদাহরণ দেখুন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " কাফেরদের জন্য আল্লাহ নূহ 'পত্নী এবং লূত ' পত্নী ( নূহ ও লূত এর স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে কোরআন ব্যবহার করেছে ইমরাআহ শব্দ )। তারা ছিল আমার দুই ধর্মভীরু বান্দার গৃহে......"(আত- তাহরীম-১০)
নূহ আর লূত এর স্ত্রী ছিল জালিম এর অন্তভুক্ত,তারা লূত ও নূহ এর শারীরিক মিলনের সাথি ছিল কিন্তু ইমানের সাথি ছিল না তাই কোরআন বলেছে তাদের ইমরাআহ। তো এই পর্যায়ে গেলো দ্বিতীয় বিশ্লেষণ ...
[ আমি বলেছিলাম যে ইমরাআহ আদর্শ হতে পারে আবার নাও পারে,তাহরীম থেকে আদর্শ না হওয়ার উদাহরণ দিয়েছি, আপনারা আদর্শ স্ত্রী এর উদাহরণ পেতে তাহরীম পরবর্তী আয়াত দেখুন যেখানে ইমরাআহ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে মা আসিয়া এর ক্ষেত্রে , সেখানে ফেরাউন পত্নী ব্যবহার করার সময় আরবি আমরাআহ শব্দ ব্যবহার হয়েছে যা আদর্শ স্ত্রী এর সমার্থক ]
৩. সাথি বা সঙ্গী ( সাহিবাহ)
সাহিবাহ বলতে এমন সঙ্গী এর কথা বলা হয়েছে যে থেকেও নেই বা কোনো সম্পর্ক বিদ্যমান নেই ( নরমালি) আমি সরাসরি কোরআন থেকল উদাহরণ দিচ্ছি। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " সেদিন( হাশর) পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার....... তার সাথী ( কোরআন স্ত্রীকে নির্দেশ করতে এখানে সাহিবাহ শব্দ ব্যবহার করেছে) ও তার সন্তানদের কাছ থেকে "( আবাসা-৩৪ ও শেষ বা পুরোটুকু অথবা ৩৬ নং আয়াত পযন্ত পড়ুন)
রোজ - হাশরের ময়দানে কেও কাওকে চিনবে না , স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে চিনবে না, তারা স্বামী স্ত্রী থাকা সত্যেও না থাকার মতো। এরকম অবস্থাতে কোরআন স্ত্রী এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে সাহিবাহ শব্দ ।
তো কোরআনের আলোকে তিন শ্রেণির স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক পেলাম
১. উত্তম ও আর্দশ স্বামী স্ত্রী ( আদর্শ পরিবারও বলতে পারি একে)
২. মধ্যম স্বামী স্ত্রী ; একজন ভালো তো আরেক জন..( ইমানের ভিত্তিতে..)
৩. এটাকে কোন কাতারে ভ
ফালাবো মাথাই আসছে না ( কমেন্টে আপনারাই বলুন এটা কোন শ্রেণি)
এই শব্দ গুলো এককভাবে বা একবচনে হবে । বহুবচনে নিসা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে নারী বা স্ত্রী জাতি বুঝাতে ( সূরা নিসাতেই অহরহ উদাহরণ বিদ্যমান)
এখন বাস্তবিক স্বামী স্ত্রী এর উদাহরণ ছেড়ে একটা অন্য উদাহরণ দিবো সাহিবাহ শব্দ এর ক্ষেত্রে। আমরা জানি আল্লাহ এর কোনো স্ত্রী অথবা সঙ্গী নেই। তার যে কোনো সঙ্গী নেই সেই কথা বলতে গিয়ে সাহিবাহ শব্দ ব্যবহার করেছে ( উদাহরণ হিসাবে আনআম-১০১ দেখুন)। এর দ্বারা আমরা সাবিহাহ শব্দের আরেকটা বৈশিষ্ট্য পাই সেটা হলো " যার কোনো অস্তিত্বই নেই " আল্লাহ এখানে শিরক এর ধারণা খন্ডন করেছে, হিন্দুরা তো শিবপর বউ পার্বতী, কৃষ্ণের বউ লক্ষী ইত্যাদি বানিয়ে ফেলছে। কিন্তু আল্লাহ এসব থেকে পবিত্র
এরকম করে কোরআনে আরও অনেক মজার শব্দ প্রয়োগ ঘটেছে যেখান থেকে আমরা অনেক কিছুর শিক্ষা পেয়ে থাকি।
যেমন করে আমরা কোরআন থেকক তিন ধরনের স্ত্রীর কথা জানতে পারলাম এবং কোন স্ত্রী আদর্শ তাও আমরা দেখতে পেলাম। এখন আপনিই খুজে বাহির করতে পারবেন যে আপনার জন্য কোন ধরনের স্ত্রী উত্তম , আর আমার বোনরা বুঝতে পারবেন যে কোন ধরনের স্ত্রী আপনাকে হতে হবে। কোরআনে যেখানে যেখানে স্ত্রী এর ক্ষেত্রে যাওজাহ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেই নারীর জীবনি সংগ্রহ করুন এবং তার গুনগুলল নোট করুন+ বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন, ইনশাআল্লাহ আপনিও হবেন নিজের স্বামীর উত্তর স্ত্রী । আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের উত্তম জীবন সঙ্গীনি প্রদান করুক,আমিন, আমিন, সুম্মা আমিন
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
© #প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।