সৃষ্টিতে স্রষ্টার অনন্য নিদর্শন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
ব্যালেন্স এই শব্দটার সাথে তো সবাই পরিচিত। সৃষ্টির মধ্যে প্রকৃতিগত ভাবেই এই ব্যালেন্স বিদ্যমান। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের ঠিক ততটুকু পরিমাণ দিয়েছে যতটুকু দরকার। সমগ্র ইউনিভার্স একটা নিদিষ্ট নিয়মে চলছে। এক ইঞ্চি এদিক সেদিক হচ্ছে না। যখন যেখানে যা করার দরকার তাই পাচ্ছে । সূর্য যদি প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে না থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে থাকত তাহলে পৃথিবীতে এত পরিমাণ ঠান্ডা পড়ত যে এখানে প্রাণ সৃষ্টি হওয়া চান্স হতো শূন্য। এখানে মানুষ তখন টিকতেই পারত না। আবার ভাবুন তো যদি সূর্য ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে না থেকে ৫ কোটি কিলোমিটার কাছে থাকত, তাহলে কি দশাটা হ তো? । আমরা নিজেরাই তো বাষ্প হয়ে যেতাম। দ্যা গ্রেন্ড ডিজাইন এই সৃষ্টি অনন্য এক মাত্রা। যে যেখানে আছে সেখানে না থেকে যদি একটু এপাশ ওপাশ হয়, তাহলে কেল্লাফতে। প্রকৃতিতে সকল জিনিসের দরকার। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলছেন যে " তোমরা এই সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা কর- আল কোরআন" একজন প্রকৃত জ্ঞানী কখনো স্রষ্টাকে অবিশ্বাস করতে পারে না। ধরুন একজন ব্যাক্তি কাদামাটির উপর দিয়ে হেটে গিয়েছে, এবং ওই একই রাস্তা দিয়ে কয়দিন পর আরেকজন ব্যাক্তি হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে, তো সে যখন পায়ের ছাপগুলো দেখবে তখন সে নিঃসন্দেহে বলে দিতে পারবে যে এখান দিয়ে একজন মানুষ গেয়েছিল। দ্বিতীয় ব্যাক্তি কিন্তু দেখে নাই এখান দিয়ে কেও সত্যি হেঁটে গিয়েছে কিনা তবুও সে ১০০ ভাগ বিশ্বাস নিয়ে বলছে যে নিঃসন্দেহে এখান দিয়ে কোনো মানুষ গিয়েছে। ঠিক একই রকম ভাবে আমরা আল্লাহ রব্বুল আলামীন কে দেখি না, কিন্তু তার সৃষ্টি করা প্রত্যেকটা বস্তু নিয়ে একটু চিন্তা করলেই তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয়গুলো আমরা পাবো,। ঠিক ওইরকমও স্রষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে একটা প্রমাণ হলো" সৃষ্টির ভারসম্যতা " বা ন্যাচারাল ব্যালেন্স"। স্রষ্টাকে অস্বীকার করার জন্য নাস্তিকরা অনেক শিশু শুলভ প্রশ্ন করে থাকে। তাঁর মধ্যে অন্যতম একটা হলো স্রষ্টা মহাবিশ্ব স্রষ্টির আগে কোথায় ছিলেন, আমি বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিদের বলতে চাই যে স্রষ্টা কি এই ইউনিভার্স এতে অবস্থান করছে, উত্তর হবে না, ( আল্লাহ সকল কিছুর ঊর্ধ্বে আরশে আজিমে আছেন, ত্বহা-৫) তো তিনি যদি এই সময়েও এখানে অবস্থান না করে তাহলে এই প্রশ্ন কেন আসছে যে তিনি আগে কোথায় ছিলেন? । আল্লাহ রব্বুল আলামীন হাদীসে কুদসিতে বলেছেন যে " তিনি নিজেই সময়" এছাড়াও পবিত্র কোরআনে তিনি নিজেকে আউয়াল আখের জাহের বাতেন বলে পরিচয় দিয়েছেন। যিনি টেলিভিশন তৈরি করেছে তিনি কিন্তু টেলিভিশন এর ভিতরে গিয়ে সেটা তৈরি করে নি, তাহলে আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা কেন বলে যে স্রষ্টা কোথায় বসে বসে এই বিশ্ব তৈরি করেছে? । একবার নিউটন এর বাড়িতে একজন বন্ধু এসেছে, যে কিনা নাস্তিক ছিল। যখন বন্ধু বাড়িতে আসে তখন ঘরের ভিতরে নিউটনকে দেখতে পায় না, আর সে রুমের ভিতরে বিভিন্ন জিনিস প্রদর্শন করতে থাকে। তো হঠাৎ তাঁর চোখ গিয়ে পরে একটা বিশেষ খেলনা জাতীয় ( আমার ঠিক মনে পরছে না জিনিসটা কি ছিল, আপাতত ধরুন খেলনা জাতীয় কিছু, যা দেখতে অনেক সুন্দর) জিনিস এর উপর। সে ওইটা দেখে বিস্মিত হয়। কিছু সময় পর নিউটন আসে। তখন নিউটন এর বন্ধুটা নিউটনকে বলে যে " বন্ধু এটা ( ওই খেলনাটা) কে বানিয়েছে, কারিগর এর বুদ্ধি আছে বটে। তখন নিউটন বললেন যে এটা তো এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। নিউটন এর বন্ধু বলল যে মজা করার সময় না এটা। এভাবে কথা হতে থাকে। কথার এক পর্যায়ে নিউটন বলেন যে " বন্ধু একটা সামান্য খেলনা নিজে থেকে যখন সৃষ্টি হতে পারে না তখন তুমি কেমনে ভাবো যে এই ইউনিভার্স এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে, এটা কি বোকামি না? । নিউটন এর কথাগুলো শুনে তাঁর বন্ধুর অন্তর চক্ষু খুলে যায়, তিনি প্রকৃত সত্যটাকে উপলব্ধি করেন, আর নিজ ধর্মে( খ্রিষ্টান এতে) ফিরে আসেন ( অনলাইন কোনো এক আর্টিকেলে গল্পটা পড়ে ছিলাম) । নাস্তিক গুলো বলে যে ইশ্বরের কতগুলো চোখ, যে তিনি কে কি করছে একই সময়ে সবার উপর নজর রাখে কি করে? । ভাইরে ভাই যখন আমি এদের কথাগুলো শুনি তখন হাসব নাকি কান্না করব বুঝতে পারি না। আচ্ছা ধরুন একটা মোমবাতি, আমরা জানি যে একই সময় মোমবাতি তাঁর চার পাশে সমান ভাবে আলো প্রদান করে, ঠিক একই রকম ভাবে আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর সকল সৃষ্টির দিকে নজর রাখেন( আমি শুধু উপমা দিয়েছে, বুঝানোর জন্য)। আমার একটা গল্প বলি, একবার এক ব্যাক্তি একজন দরবেশের কাছে এসে বলছেন যে ' দরবেশ বাবা, আমাকে স্রষ্টার প্রমাণ দেন' দরবেশ তখন বললেন যে ঠিক আছে আমি কালকে তোমার বাড়িতে গিয়ে না হয় প্রমাণ দিয়ে আসবো কেমন। নাস্তিক ব্যাটা তো মহা খুশি। পরেরদিন নাস্তিকটা সকাল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত অপেক্ষা করে, কিন্তু দরবেশ বাবার দেখা নেয়। হঠাৎ করে নাস্তিক দেখে যে দরবেশ এসে হাজির। নাস্তিকটার মাথা তখন গরম হয়ে যায় এত দেরি হওয়ার কারণে, তখন দরবেশ বলেন যে, আসলে আমি দুপুরের দিকে তোমার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম, কিন্তু নদীতে কোনো নৌকা ছিল না। বিকাল পযন্ত অপেক্ষা করার পর যখন আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম, তখন দেখতে পায় যে ' একটা কাঠ নদী দিয়ে ভেসে আসছে, আর সেটা নিজে থেকেই নৌকা হয়ে আমাকে নদীর কিনারা পার করে দিলো '। নাস্তিক বেটা এই কথা শুনে হাসতে হাসতে.... নাস্তিক বলে যে কোনো কিছু নিজে থেকে সৃষ্টি হওয়া কিভাবে সম্ভব। এই কথা শুনার পর দরবেশ সাথে সাথে বলেন যে ' যেখানে একটা কাঠ নিজের থেকে বিবর্তিত হয়ে নৌকা হতে পারে না, সেখানে এই জগৎ সংসার নিজে নিজে সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে বলে তোমার ধারণা। দরবেশ কথাগুলো শুনে নাস্তিক প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে পারে ( আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ এরও এরকম একটা গল্প আছে) । এই পৃথিবীতে যত মহান মনিষী আছে, সবাই একজন সত্তাকেই স্রষ্টা হিসাবে মানত। তাঁরা এই প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা করেছেন, আর এই প্রকৃতির মাধ্যমে স্রষ্টা বলতে একজন কে উপলব্ধি করছেন। নাস্তিকরা বলে যে সব কিছুর স্রস্টা যখন আছে তখন এই স্রষ্টারও একজন স্রষ্টা থাকতে হবে। দাড়ান দাড়ান একটু হাসি, হাসার কারণ হলো আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা যে বলে তাঁরা বিজ্ঞান মনষ্ক, আসলে তারা বিজ্ঞান এর 'ক'খ'গ' ও জানে না। তাদের ক্লাস নাইন- টেন এর বিজ্ঞান বইয়েরও কোনো নলেজ নেয়। কারণ রিলেটিভিটি থিওরি অনুসারে 'শক্তির' কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই, এটা এক রুপ থেকে আরেক রুপে যায়। (বর্তমান বিজ্ঞান এর ভাষায়)৷ এখন প্রশ্ন হলো যেখানে শক্তিরও স্রষ্টি বা ধ্বংস নেই, সেখানে তাঁরা কোন যুক্তিতে বলে যে স্রস্টার সৃষ্টিকর্তা কে? । এটা কি দ্বিমুখী তা হয়ে গেল না। আর যারা এই প্রশ্নটা করে তারা হয় তো বাপের জন্মে সীরা ইখলাস এর ৩ নাম্বার আয়াতটা কি পড়ে নেই যেখানে বলা হয়েছে যে"لَمۡ یَلِدۡ ۬ۙ وَ لَمۡ یُوۡلَدۡ ۙ
তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন,
He begets not, nor was He begotten;" ( ইখলাস-৩)
স্রস্টার definition হলো তিনি সকল কিছুর স্রষ্টা আর তাকে কেও সৃষ্টি করেন নি। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। তাঁরা যে কোনো আলোচনা শুরু করার আগে একটা Definition দিয়ে শুরু করে, আর স্রস্টার বেলায় কেন সেটা মানে না। এখন আসি তাদের শেষ একটা ভুল ধারনা নিয়ে। নাস্তিকরা বলে যে বিজ্ঞান স্রষ্টাকে খুজে পায় নি আর বিজ্ঞান স্রষ্টার কোনে প্রমাণ দিতে পারে নি তাই আমরা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি না । আমি ক্লাস নাইন-টেন ( লেখাটা অনেক আগে লেখা যখন নবম-দশমের ছাত্র আমি...) এর ছাত্র হয়ে যতটুকু বিজ্ঞান জানি তার নূন্যতম আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা জানে না( অহংকার করছি না, তবে গর্ব হয় কারন আমি মুসলিম)। প্রথম কথা হলো এরা কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর 'ক'খ' ও জানে না, কারণ কোয়ান্টাম মেকানিক্স এতে একটা নীতি আছে। যারা আমার চাইতে সিনিয়ার ( কলেজ বা ভার্সিটির বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছেন) তারা হয় তো হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চিয়তার নীতি সম্পর্কে জানেন। এটার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় একটা ইলেক্ট্রন কোন অবস্থানে আছে। তবে হ্যা এখানেই মজার ব্যাপার। এই বিশ্বের কোনো সুত্র, নীতি বা থিওরি দিয়ে কেও কখনো এটা ১০০ ভাগ নিশ্চিয়তা দিয়ে বলতে পারবে না যে একটা ইলেক্ট্রন পরমানুর ঠিক কোথায় আছে। বিজ্ঞান শুধু এর সম্ভাবনাটা বলতে পারবে। আর এটা চিরন্তন সত্য । কিয়ামত সংঘঠিত হয়ে যাবে কিন্তু কারো বাপের সাধ্য নেই যে ইলেক্ট্রন পরমাণুর কোথায় অবস্থা করছে নির্ভুল ভাবে বলবে। অনেকে প্রশ্ন করবে যে, আরে আপনি এত কনফিডেন্সে এর সাথে কিভাবে এই কথা বলছেন। সিম্পল ব্যাপার, কারন এটা ম্যাথমেটেক্যালি প্রুভ করা হয়েছে। আর ম্যাথ কখনো মিথ্যা বলে না ( তখন যেটা জানতাম সেটা জানার প্রেক্ষিতে এটা বলে ছিলাম) , আর ম্যাথ এর নিয়ম সকল জায়গায় সকল ক্ষেত্রে এবং যে কোনো সময়ে( অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) এতে একই ক্যালকুলেশন করবে। আপনি যদি পৃথিবীতে বসে ২+২= ৪ পাবেন। মঙ্গল গ্রহে ২+২ যোগ করলে ৪ পাবেন। আজ থেকে ২০০০ বছর অথবা ২ কোটি পর ২+২ যুগ করলে চার পাবেন আর আজ থেকে ২০০ বছর আগে মানুষ ২+২ যোগ করে চারও পেয়েছে Not 5. কেও ৫ পায় নি। গণিত কে বলা হয় বিজ্ঞানের ভাষা )। আর এই বিষয়টাও mathematicaly যাছাই করা হয়েছে যে, মানুষ কখনো... । আর হ্যা আপনি যদি ইলেক্ট্রন এর অবস্থান বাহির করতে যান আর একই সাথে ভরবেগ, তাহলে বাঁশ নিশ্চিত। এটা কখনো সম্ভব না ।
তো বুঝতেই পারছেন যে বিজ্ঞান চাইলেই সব জানতে পারে না। আর হ্যা এটা আমাদের নলেজ বর্তমান কম বলে নয় কিন্তু, এটা বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আর প্রকৃতির একটা নিয়ম। লেখাটা শেষ করছি পবিত্র আল কোরআনের একটা আয়াত দিয়ে, আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন যে-
বায়ান ফাউন্ডেশন:
নাকি তারা বলে, ‘সে তা বানিয়েছে’? বল, ‘তবে তোমরা তার মত একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’( ইউনুস-৩৮)
[ এটা এমনিই এক সময় লেখে ছিলাম। সাধারণ লেখা হিসাবে আবারও পোস্ট করলাম....... ]
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।