দি_স্মার্ট_তাফসীর_অফ_মেহেদী
#সংক্ষিপ্ত_আয়াতের_ব্যাখ্যা -২
কিস্তি দুই
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
মান ( কে) জাআল ( সে ; উল্লেখ্য জাআলা ও জাআলা আলাদা শব্দ ; জাআলা অর্থ পেশ করা, উপস্থাপন করা ইত্যাদি ইত্যাদি , সূরা ফাতির -৪৯ এতে বলা হয়েছে যে " আমি দুনিয়াতে আমার প্রতিনিধি পেশ করিয়াবো বা উপস্থাপন করিয়াবো ; উক্ত আয়াতে জাআালা শব্দ ব্যবহার হয়েছে যার মানে পেশ বা উপস্থাপন করা ; অতএব দুটোকে এক করে ফেলবেন না কেমন) লাজি ( সে) ইউকরিদুল ( কর্জ / ঋণ,দেনা, ধার দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি ) লাহা ( আল্লাহকে) কারদান ( কর্জ, ধার, ঋণ, দেনা) হাসানা ( সুন্দর, উত্তম, চমৎকার , শোভাময়, মনোহর, রুপবান ইত্যাদি ইত্যাদি ) ফাইউদাইফাহু ( সুতরাং তাহা বহু গুনে করা হবে) ফাহু ( তাহার জন্য) আওয়াফান ( দ্বিগুন এর অদিক বা কয়েক গুন) কাসিরাতান ( অনেক অনেক বা অনেক বহু) ওয়াল ( এবং) লাহু ( আল্লাহ ) ইয়াকবিদু ( সংকুচিত বা অপসারণ করা) ওয়া ( এবং, ও, আর) ইয়াতু ( সম্প্রসাারিত, পর্যাপ্ত, বিস্তৃত ইত্যাদি ইত্যাদি ) ওয়া ( এবং) ইলাইহি ( তাহার দিকে) তুরজাউনা ( তোমাদের ফিয়া নেওয়া হইবে)
বঙ্গানুবাদ : কে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে কর্জ দেয় সুন্দর কর্জ সুতরাং তাহা বহুগুন করা হইবে তাহার জন্য দিগুন এর দিগুন। এবং আল্লাহ সংকুচিত করেন এবং সম্প্রসারণ করেন। এবং তাহার দিকে ( আল্লাহর দিকে) তোমাদের ফিরিয়া নেওয়া হইবে ( সূরা বাকারা- ২৪৫)
আল্লাহর পথে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে হবে । বান্দার ইবাদত দু- ধরণের, হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ। দুই ইবাদতের মধ্যেই আছে শান্তি ও বিনম্রতা। হাক্কুল ইবাদ এর একটা অংশ হলো নামায। আমরা যখন নামায পড়ি তার জন্য কিছু কাজ করতে হয়, যেমন গোসল করা, ওযু করা, তারপরে সালতের মধ্যে অঙ্গ প্রতঙ্গ এর ব্যবহার করা। সালাতে যখন আমরা রুকু সেজদা করি তখন আমাদের ব্রেন এতে রক্তের গতি বেরে যায়। বিশেষ করে সেজদাতে। আমার মুখের স্কিনে ও ব্রেন এতে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশেষ দুটো উপকার হয়
১. ব্রেণ এর স্মৃতি শক্তি বাড়ে
২. মুখের উজ্জলতা বাড়ে।
এই হলো বৈজ্ঞানিক উপকার + সাথে তো অসংখ্য সওয়াব আছেই। আবার হাক্কুল ইবাদ এর মধ্যে একটা অংশ হলো যাকাত, আমরা যখন কারো উপকার করি তখন ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ হয় যা আমাদের হ্যাপি ( happy. বা খুশি / সুখি) রাখে। যখন আমরা যাকাত প্রদান করি তখন অনেক মানুষকে এক সাথে সাহায্য করি। এত অদিক সংখ্যক মানুসকে সাহায্য করার কারণে ব্রেণ প্রচুর পরিমাণ ডোপামিন হরমোণ নিঃসৃত করে যেটা আমাদের মনকে সতেজ করে, জীবনে আনন্দ বয়ে আনে ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার যাদের সাহায করি তাদের দোয়া তো আছেই। তাদের পজেটিভ এনার্জিগুলো আমরা দোয়ার মাধ্যমে পেয়ে থাকি, যেটা আমাদের আরও এক্টিভেট করে ফেলে+ অসংখ্য সওয়াব তো আছেই। অর্থাৎ দু- ইবাদতের মধ্যেই আমরা বৈজ্ঞানিক উপকারিতা+ সওয়াব দেখতে পাচ্ছি । তাই আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন ' কে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে কর্জ দেই এবং তা বহুগণ করা হইবে " এর মানে হলো আমাদের ছোট একটা কর্ম যেমন বৈজ্ঞানিক উপকারিতা প্রদান করে দুনিয়াতে আবার সেই কর্মের সওয়াব আমাদের জান্নাতের নিয়ে যায়। তারপরে বলছে যে ' আল্লাহ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করে ' এখানে হয় তো দুটো জিনিস উদ্দেশ্য হতে পারে
১. হৃদপিণ্ড এর সংকোচন ও সম্প্রসারন
২. সময় এর সংকোচন সম্প্রসারণ
আমরা যখন প্রতম স্টেপ এতে হাক্কুল ইবাদ ও হাক্কুল্লাহ ইবাদত করি তখন আমাদের ব্রেন থেকে ডোপামিন নিঃসৃত হয় + হার্টও ভালো থাকে। হাড়ট যত ভালো পাম্প করবে তত রক্ত চলাচল করবে আর বডি তত সতেজ থাকবে। প্রাচীন সময়ে মানুষের ধারণা ছিল যে ' হৃদয় এর পাম্প এর কারণে রক্ত চলাচল করে না এবং হৃদয় পাম্প বলতে সংকোচন প্রসারণ তারা বুঝত না কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামিন সংকোচন প্রসারণ হয় তা উল্লেখ করে দিছেন। এটা তো গেলো হার্ট এর কথা। এখন আসি সময়ের কনসেপ্টে। আমরা জানি যে সময়ও সংকোচন প্রসারণ হয়। নিউটন বলত " ইউনিভার্স এর সকল জায়গাতে সময় এক " কিন্তু আইন্সটাইন বলেন " ইউনিভার্স এর একেক জায়গায় সময় একেক ভাবে চলে। গতি আর ভরের তার-তম্যের কারণে সময় কম - বেশি হয়, যেটা উক্ত আয়াতে ( কোরআন-২/২৪৫) এতে বলা হয়েছে। আমরা যখন ভালো কাজ করি তখন সময় আনন্দের সময় তারাতাড়ি কাটে আর যখন খারাপ সময় বা ডিপ্রেশনে থাকি তখন সময় কাটতেই চাইনা। অর্থাৎ এখানেও সময় মানুষের মানসিক অবস্থা ভেদে কম - বেশি হয় । উক্ত আয়াতের সাইন্টিফিক আলোচনাতে আমরা বুঝতে পারছি যে " ডিপ্রেশন কাটানোর বের্স্ট অপশন হলো হাক্কুল্লাহ ( নামাযে সেজদা বা আরও যত ইবাদত আছে সব) এবং হাক্কুল ইবাদ ( যাকাতসহ আরও যতগুলো আছে সব) আদায় করা। এতে সুখি হরমোন ডোপামিন নিঃসৃত হয় আর আমাদের ডিপ্রেশন স্টেস্ট সহ সব মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়। আবার আয়াতের শেষ অংশে বলা হয়েছে " সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে " প্রাচীন সময়ে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির মধ্যে কু- ধারণা ছিল যে মানুষ অমর হতেও পারে মানে মৃত্যু বরণ করবে না। আমাদের বারতীয় হিন্দু ধর্মে তো অমৃত এর কথা আছে, যেটা পান করলে মানুষ আর মৃত্যু বরণ করবে না। আল্লাহ এসব কু- ধারণাকেই উদ্দেশ্য করে বললোন " মৃত্যু আসবে এবং রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে " অর্থাৎ মৃত্যু ১০০% নিশ্চিত সকল নফস এর। বর্তমানে কিছু নাস্তিক জেলিফিশ এর উদাহরণ টানে, যারা নাকি অমর। তারা মানুষকে ভুে বুজায়। আমরা উক্ত আয়াতের শেষে দেখতে পাই যে " সবারি আল্লাহর নিকট যেতে হবে " কিন্তু এটা কিভাবে তা আমরা জানি না। হতে পারে সেটা বাধর্ক্য এর কারণে বা দুর্ঘটনার কারণে অথবা অন্য কিছু। জেলিফিশ অমর না বরং সেটা বডির প্রসেস করে দীর্ঘায়ু লাভ করে। আপনারা যদি একটা জেলিফিশকে আগুনের মধ্যে ছেড়ে দেন যার তাপমাত্রা ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাহলে দেখবেন জেলিপিস কেন ওর বাদ দাদা চৌদ্দ - গোষ্ঠীও নিমিষে শেষ হয়ে যাবে মানে মারা যাবে । অর্থাৎ জেলিফিসও চূড়ান্ত অমর না। আর এরকম করে উক্ত আয়াত নাস্তিকদেরও দাবি খন্ডন করেছে। তো এই ছিল আরেকটা আয়াতের ব্যাখ্যা। এখন লেখাটা এখানেই সমাপ্ত করছি। আশা করি নতুন কিছু জানলেন।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে_3_মেহেদী
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।