প্রিয় সাইফুল!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া..
কেমন আছিস!
কালক্ষেপণে আমায় ভুলে যাসনি তো!
ফেইসবুকে হঠাৎ তোমার ছোট্ট একটি ছবি চোখে পড়লো। মুহূর্তেই মনে হলো—সময়ের সব দরজা জানালা খুলে গেল। মনে হলো ফিরে গেছি সেই তিনা বাড়ির উঠোনে, যেখানে ধুলাবালির ভেতর তোমাকে তাড়া করে মাদ্রাসায় নিয়ে যেতাম। সকালবেলার কচি রোদ, মাঠের কাকডাকা, আর আনোয়ারুল উলুমের সুবাস—সবকিছু মিলিয়ে বুকের ভেতর আজও এক অদ্ভুত কাঁপুনি তোলে।
তুমি ছিলে সহজ, সরল, নির্ভেজাল। তোমার হাসিতে কোনো হিসাব ছিল না, কোনো আঁকাবাঁকা ভয় ছিল না। ছিল বড়জোর পরীক্ষায় কম নাম্বার পাওয়ার দুশ্চিন্তা বা নতুন খাতার পাতায় ভুল করে দাগ লেগে যাওয়ার ভয়। ভাবি—আরেকবার যদি সেই শৈশবে ফিরে যাওয়া যেত! আরেকবার যদি সেই স্বচ্ছ বিকেলের আলোয় তোমার হাসির শব্দ শুনতে পেতাম!
পরীক্ষার দিনে আমাদের প্রতিযোগিতা ছিল যেন টেস্ট ম্যাচের উত্তেজনা—কখন তুমি এক, কখন আমি এক। কিন্তু ক্লাস থেকে বের হয়ে সব হিসাব ভেঙে যেত। তুমি হাসতে, আমিও হাসতাম—কারণ তখন হাসিই ছিল চূড়ান্ত জয়।
জীবনের পথে তুমি অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছো। ঝড় এসেছে, রাত এসেছে, পরীক্ষা এসেছে—তবু তুমি দাঁড়িয়ে গেছো বিশ্বাসে, ধৈর্যে, দৃঢ়তায়। যদিও আজ তুমি ইলমি জগতে নেই, তবু আমি বিশ্বাস করি—তুমি দ্বীন ও ইসলামের সাথেই থাকবে। কারণ তোমাকে আমি সেইভাবেই চিনেছি—পরিচ্ছন্ন, সৎ, আলোকিত।
মামুন হুজুর তোমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তার মুখে যখন তোমার প্রশংসা শুনতাম, মনে হতো—সেই দিনটা যেন আমাদের ক্লাসের ঈদ। তোমার মুখ তখন আলোর মতো হয়ে উঠত।
আর মনে আছে সেই বিখ্যাত গল্প?
চিঠির শেষে “ইতি” না লিখে তুমি লিখেছিলে— “এতে—পুরুষ লিঙ্গ এবং স্ত্রী লিঙ্গ এর মধ্যে ডিফারেন্স করার জন্য!” ক্লাস তখন হাসিতে কাঁপছিল, হুজুর চশমা খুলে বলছিলেন—“শাবাশ! এও এক রকম ডিফারেন্স!”
আরো কত স্মৃতি!
বৃষ্টির দিনে ভিজে তিনা বাড়ির পথে আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বাতাস শুকানো…
সেই পথগুলো শুধু পথ ছিল না—সেগুলো ছিল আমাদের শৈশবের প্রথম ডায়েরি।
তাই আজ যখন ভাবি, মনে হয়—
জীবন নামের খাতায় তোমার নাম এখনও লাল কালিতে লেখা।
তুমি আজও আমার কাছে সেই ছোট্ট, সরল, পরিষ্কার হৃদয়ের সাইফুল—
যার সঙ্গে বড় হওয়ার মানে ছিল হাসি, দৌড়, পরিশ্রম আর অদৃশ্য কিন্তু গভীর ভালোবাসার বন্ধন।
ইতি:/(তোর এতে)
রফিক আতা
একুশ—এগারো—পঁচিশ
রাত ১২.৩৯ মিনিট
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।