ছোটগল্প: মা কে কত ভালোবাসি
লেখক: আল-মামুন রেজা।
এই ছেলে এদিকে আসো?
- জ্বি স্যার।
-তুমি কি এই স্কুলের ছাত্র?
-হ্যা স্যার?
-আমার তো মনে হয় না?
-কেন স্যার?
-অন্য সব ছাত্রদের দিকে তাকাও?
-স্যার আসলে..... !!
হইছে আর বলতে হবে না!তোমার মত অপরিষ্কার/নোংড়া একটা ছেলে আমাদের স্কুলে আর একটাও নাই।
-ক্লাসের সবাই হাসাহাসি করে তোমাকে নিয়ে তবুও লজ্জা হয় না তোমার?
চুলের কি অবস্থা,গা থেকে ঘামের দূ্র্গন্ধ আসছে!!তারপরও কি তুমি বুঝতে পারো না?
-স্যার আমি কয়েকটা প্রশ্ন করতে পারি?
-স্যার রেগে বললো-কি প্রশ্ন? আমি যা প্রশ্ন করছি তার উত্তর দাও আগে....?
-স্যার দয়া করে আমার কথা শুনুন।স্যার, আজ সকালে আপনি ভাত খেয়ে এসেছেন?
-হ্যা অব্যশ্যই।
-স্কুল থেকে ফিরে একটু রেস্ট নিয়ে হয় তো রিমোট হাতে নিয়ে খেতে বসবেন,আবার এসি ছাড়া তো ঘুমাতেও পারেন না?ঠিক না স্যার?
-এসব বলার মানে কি?
-স্যার যানেন প্রতিদিন আমি না খেয়েই স্কুলে আসি!বাবা সেই ছোট বেলায় মারা গেছে,রিক্সা চালিয়ে যা পাই সেটা দিয়েই আমার দিন চলে যায়।
একদিন রিকশা না চালাতে পারলে হয়তো সেদিন আর পেটে খাবার জোটে নাহ্!
মা বেঁচে আছে তবে সে খুবই অসুস্থ্য
প্রতিদিন ঔষধ কিনতে হয় তার জন্য ।আপনারা হয়তো এক বেলা খেতে না পারলে রেগে যান !
আর আমি মাঝে মাঝে না খেয়েই দিন-রাত পারি করে দেই। মায়ের ঔষধ আনতে হবে বলে।
স্যার যানেন!এত কষ্টের পরও যখন রাতে মায়ের মুখে দুটো ভাত তুলে দেই, সে সময় আমার মত খুশি পৃথিবীতে আর কেউ হয় না বলে আমি মনে করি!!
জানেন স্যার,মা আমায় কোনদিন ক্ষেৎ বলে ডাকেনি!কোনদিন অপরিষ্কার বলেনি, বলেনি শরীরে দূর্গন্ধ আসে।
যখন রিকশা চালিয়ে ঘামে ভিজে মায়ের সামনে আসতাম।জানেন স্যার;তখন মা তার আচল দিয়ে আমার ঘাম মুছে দিয়ে কপালে চুমু একে দিতো।
সত্যি স্যার,মা কোনদিন আমার প্রতি বিরক্তি দেখাইনি,মেজাজ দেখাইনি।
আপনারা হয়তো আপনাদের সন্তানের জন্য ভালো ভালো কাপর কিনে রাখছেন!ভালো খাবার ও খাওয়ান প্রতিদিন।
কিন্তু আমি আমার মায়ের সেই পবিত্র চুমু খাওয়ার জন্য হাজার বার ঘাম ঝড়াতে রাজি আছি।হাজার-টা স্কুল ত্যাগ করতে পারি।
কারণ আমার (মা) ই আমার সব,আর হ্যাঁ স্যার আমি আর স্কুলে আসবো না।
কোলাহলপূর্ণ ক্লাসটা একটা সময় নীরব, নিশ্চুপ,নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
-স্যার আপনার চোখে পানি?
-অজান্তে চলে আসলো।
তা কলেজে আসবি না মানে?
-স্যার আপনাদের সমস্যা হয় আমাকে নিয়ে?
-কোন সমস্যা হবে না আর।তুই তো আমাদের
স্কুলের গর্ব রে।সত্যি তর মত কষ্ট করে কেউ লেখাপড়া করতে পারবে না।
আশাকরি তোর মায়ের সপ্নও পূরণ করতে পারবি?
আর হ্যা,স্কুলের সমস্ত বেতনের খরচের টাকা এখন থেকে আমি দিব।কিন্তু তুই আমাদেরকে ছেড়ে স্কুল থেকে চলে যাস না।
ক্লাসের সবাই নিস্তব্ধ রইল কিছুসময়।কোন সাড়া শব্দ নেই।আমি স্যার'কে ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসলাম।
তার কিছুদিন পর আমার সকল সুখের স্বর্গ (মা) মারা গেল।তারপর আর স্কুলে আমার যাওয়া হয়নি।কারণ, মায়ের ঐ ভালবাসা ঘরে ফিরে আর কোনদিন পাবো না!এখানেই আমার মনের সকল শক্তি ও শান্তির অবসান ঘটল!
যারা মা কে হারিয়েছে তারা হয়তো মায়ের সেই শূন্যতাকে উপলব্ধি করতে পারে।কিন্তু আমি এটাকে খুব বেশিই উপলব্ধি করি।
মা ছাড়া এই পৃথিবীটায় আমার কাছে অচল মনে হয়।
#সুতরাং !মা যদি জীবিত থাকেন,তাহলে তাঁর সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করবে না।কারন একটা মা সন্তানের জন্য একটা দুনিয়ার সমান আর মায়ের পায়ের নিচেই তো সন্তানের বেহেশত বা জান্নাত॥
মা সে তো হৃদয় জুড়ে
আস্তো চাঁদের আলো।
মা ছাড়া এই আমাকে
বাসবে কে এতো ভালো?
মায়ের সাথে এ জগতে
হয়না কারোর তুলনা-
সব কিছুকে ভুলে গেলেও
এই মা' কে কেহ ভুলো না।
রচনাকাল: ১২-১০-২০২১.
#idea_enolej_104236
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।