রাত টা ছিল অস্বাভাবিক নিস্তব্ধ।
আকাশের বুকে ঝুলে আছে এক বিশাল চাঁদ,যেন পৃথিবীর তারুণ্যের জন্যে সাজিয়ে দিয়েছে লালিমা ভরা আলো।
দু'জন তরুণ তরুণী দাড়িয়ে ছিল মাঠের ধারে। তাদের হাতে কিছু নেই_ শুধু বাতাসে দুলতে থাকা কিছু ক্ষুদ্র নিভে যাওয়া ফুল। তবু সেই ক্ষুদ্র ফুলের মধ্যেই তারা খুঁজে পাচ্ছিলো অসীম আকাশের প্রতীক।
তরুণটি বলল,"তাড়াতাড়ি করো, হৃদয়;সময় অপেক্ষা করে না। "
চাঁদ ভরে উঠেছে আলোয়!
এই মুহূর্ত যদি হারাই তবে আর ফিরে আসবে না !
তরুণী হাসলো_তার চোখে ভয় ছিল,আবার বিস্ময় ও ছিল!
_" যদি আমরা হোঁচট খাই এই অন্ধকারে ?"
তরুণটি তার হাত ধরলো দৃঢ় ভাবে। _"তাহলেও ভয় নেই,হোঁচট খাওয়া মানেই শেষ নয়!"
"জীবন আসলে ভারী নয়, বরং ভরহীনতার মতো"। আমরা শুধু ভেসে যাই বিশ্বাসের শক্তিতে। "
তারা একসাথে হাত ধরে এগিয়ে গেলো।
চাঁদের আলোয় মাঠ টা যেন অসীম হয়ে উঠলো।
প্রতিটি পদক্ষেপে তারা অনুভব করলো_জীবন নিখুঁত হওয়ার জন্য জন্মায়নি,বরং অসম্পূর্ণতার ভিতরেই লুকিয়ে আছে পূর্ণতা।
হঠাৎ বাতাস জোরে বইতে শুরু করলো!
তাদের মনে হচ্ছিল তারা সত্যিই উড়ে যাচ্ছে_উঁচুতে, আরো উঁচুতে। যেখানে পৃথিবী আরো ছোট হয়ে যায়। আর হৃদস্পন্দনের প্রতিধ্বনি পুরো দেহে বাজতে থাকে।
তরুণী চোখ বন্ধ করলো _যদি হারিয়ে যাই?
তরুণটি তার কানে ফিসফিস করে বলল_
"হারানো ভয়ংকর নয়,একা হারানোই ভয়ংকর।
যদি আমরা একসাথে হারাই,তবে সেটিই হবে আমাদের পুনর্জন্ম "
তাদের চোখে তখন কোনো ভয় ছিল না।
শুধু এক অদ্ভুত বিশ্বাস _ ভাঙ্গা দরজা পেরোলেও সামনে অপেক্ষা করছে একটা নতুন আকাশ যাত্রা।
চাঁদের আলোয় তারা দাড়িয়ে ছিল নিজের তারুণ্যের উপরে, নিজেদের খুঁজে পাওয়ার ঠিক সেই মুহূর্তে।
এবং তারা দুজনেই বুঝে ফেলেছিল_
"জীবন আর কত টা নিখুঁত হতে পারে ?
যতটা নিখুঁত হয় আমরা একে অপরকে পাশে পেলে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।