চাঁদ টা ছিল অদ্ভুত উজ্জ্বল_ঠিক যেমন টা হয় কোনো পুরোনো প্রতিশ্রুতির রাতে। পুরো শহর ঘুমিয়ে,কিন্তু রায়না দাড়িয়ে ছিল পুরোনো সেই নদীর ধারে,যেখানে একসময় দুজনে রাতের তারা গুনতো।
হয়তো তুমি ভাবছো , এ এক অসাধারণ প্রেমের গল্প।
না _এটা সময়ের ওপারে বাধা একটা সম্পর্কের গল্প।
ছয় বছর আগে এখানেই দেখা হয়েছিল প্রথম , "রায়না ও আবির এর "
আবির ছিল চিত্রশিল্পী,চোখে অনন্ত রঙের ভাষা।
রায়না প্রতিটি বাতাসে নিজের ছায়া খুঁজে বেড়াতো।
এক বিকেলে আবির বলেছিল _"তোমার চোখের দিকে তাকালে মনে হয়,আমি কোনো অদেখা জগতে ছবি আঁকছি। "
রায়না হেসেছিল _"আর তোমার কথা শুনলে মনে হয় আমি কোনো কবিতা শুনছি। "
সেদিন তারা দুজনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,"প্রতি পূর্ণিমায় তারা যেখানেই থাকুক, দুজনে একসাথে আকাশ দেখবে।"
তারপর হঠাৎ একদিন আবির চলে গেলো। দুর এক পাহাড়ি গ্রামে গিয়েছিল ছবি আঁকতে, ফিরে আসে নাই আর।
লোকজন বলেছিল ,"পাহাড় ধসে হারিয়ে গেছে সে। কিন্তু রায়না বিশ্বাস করে নাই,তার মনে হতো আবির এখনো কোথাও আছে,হয়তো চাঁদের ওপারে,হয়তো সময়ের বাইরে।
বছরের পর বছর কেটে গেলো। রায়না প্রতিটি পূর্ণিমায়,নদীর ধারে আসে।
আজও এলো,' হাতে একটা সাদা গোলাপ,আর পুরোনো স্কেচবুক। '
নদীর হাওয়ায় হঠাৎ পৃষ্ঠা উল্টে গেলো,আর শেষ পাতায় দেখা গেলো একটা অসমাপ্ত ছবি !
রায়নার মুখ,পাশে লেখা _
"যদি আমি ফিরে না আসি, চাঁদের আলোয় আমায় মনে রেখো। "
হঠাৎ বাতাসে একটা কন্ঠ ভেসে এলো,নরম,পরিচিত,ঠিক আবিরের মতো_"রায়না আমি ফিরেছি,অন্য আলোতে,অন্য আকাশে। "
রায়না তাকালো,নদীর ওপারে চাঁদের আলোয় একটা ছায়া হাসছে। আর পরক্ষণেই মিলিয়ে গেলো। ।সেই সাথে রায়নাও যেনো মিলিয়ে গেলো চুপচাপ কিন্তু চিরতরে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।