বৃষ্টি পড়ছে। জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ _ একটা পুরোনো সুরের মতো।
নরম আলোয় ঘর ভিজে গেছে নীলচে অন্ধকারে। টেবিলের উপর পড়ে আছে একটা চিঠি_ মলিন খাম, কালি একটু ছোপ ধরা তবু শব্দ গুলো স্পষ্ট_
"রিদয়,যদি কখনও মনে পড়ে, এই চিঠিটা খুলে পড়ো!"
রিদয় অনেক বছর পর আবার খাম টা খুললো। সেই চেনা গন্ধ,সেই অক্ষর _নরম,মায়াময়,যেনো কারো স্পর্শ এখনও বেঁচে আছে পাতার ভাঁজে!
চিঠিটা লিখেছিল দিশা,ছয় বছর আগে।
তাদের দুজনের পরিচয় হয়েছিল,কলেজের প্রথম দিনেই।
দিশা ছিল হাসি খুশি,উচ্ছল,যেনো রোদের একটা টুকরো। আর রিদয় ছিল চুপচাপ বই এর ভিতরে লুকিয়ে থাকা একটা কবিতা।
তাদের প্রেম টা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল- একটা ছাতা ভাগ করে নেওয়ার ভিতর দিয়ে,একটা চকলেট অর্ধেক করে খাওয়ার মুহূর্তে,আর অসংখ্য অব্যক্ত কথার মধ্য দিয়ে।
কিন্তু জীবনে সব গল্পে তো সুখের শেষ থাকে না!
দিশার বাবার বদলি হলো দূরে,অন্য শহরে।
বাড়ি ছাড়ার আগে দিশা বলেছিল," রিদয়,আমি তোমাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। শুধু বলছি ,ভালো থেকো,আমি থাকবো তোমার প্রার্থনায়। "
রিদয় তখন কিছুই বলতে পারে নি,শুধু তাকিয়ে ছিল।
সেদিনের সেই বৃষ্টি ,সেই ছাতা,সেই বিদায়_সব মনে আছে।
তারপর যোগাযোগ বন্ধ। বছর গড়ায়, রিদয় চাকরি পায়,নতুন শহর,নতুন জীবন।
কিন্তু ভিতরে কোথাও একটা ফাঁকা জায়গা থেকেই যায়।
আর আজ সেই চিঠি। চিঠির শেষ বাক্য গুলো পড়তে গিয়ে রিদয়ের চোখ ভিজে গেলো,
" রিদয়,যদি কখনও এই চিঠি তোমার কাছে পৌঁছায়, জানবে আমি তখনও তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
হয়তো সেখানে আমার ঠিকানা বদলে গেছে,তবু আমার ভালোবাসা বদলায় নি। "
রিদয় জানে,দিশা আর নেই। বছর তিনেক আগে দুর্ঘটনায় চলে গেছে সে।
কিন্তু তার লেখা,তার ভালোবাসা,আজও বেঁচে আছে।
জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছে ,ঠিক যেমন সেদিন পড়ছিল।
রিদয় চোখ বন্ধ করে বলল,
" দিশা,তোমার চিঠি আমি পেয়ে গেছি....আর এখন আমিও প্রার্থনা করছি_আমাদের ভালোবাসায় যেন আমাদের আকাশে দেখা হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।