Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প ৫ -শূন্য

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,905 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প ৫ -শূন্যimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬


অবসর নেওয়ার পর অভিক প্রথমবার বুঝল, একটা দিন কত লম্বা হতে পারে। এতদিন সকাল মানেই অফিসে যাওয়ার তাড়া, ফাইল, মিটিং, ফোনকল। সন্ধ্যা মানেই বাজার, বিল, মেয়েদের পড়াশোনার খোঁজ আর সংসারের নানা হিসাব। এখন সকালে ঘুম ভাঙার পর কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই। দুপুর গড়িয়ে যায়, বিকেল নামে, অথচ করার মতো জরুরি কোনো কাজ থাকে না। শুরুতে ভালোই লাগত। পরে সেই ফাঁকা সময়টাই কেমন যেন তার চারপাশে বসে থাকতে শুরু করল।


এক বিকেলে পুরোনো আলমারি গোছাতে গিয়ে অভিক একটা খাতা পেল। পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে। খাতাটা হাতে নিয়ে হঠাৎ তার মনে হলো, জীবনেরও যদি একটা হিসাব করা যেত! কী পেয়েছে, কী করতে পেরেছে, কী রেখে যাচ্ছে—সবকিছু একবার লিখে দেখা যাক। সে টেবিলে বসে প্রথম পাতাটা খুলল। কিছুক্ষণ কলমটা আঙুলের মধ্যে ঘুরিয়ে তারপর লিখল—বাড়ি: হয়েছে। মেয়েদের পড়াশোনা: শেষ। মেঘ চাকরি পেয়েছে। মিশি নিজের কাজ শুরু করেছে। ব্যাংকে কিছু সঞ্চয় আছে। ঋণ নেই।


একটার পর একটা লাইন নামতে থাকল। হিসাব মিলছিল। বেশ ভালোভাবেই মিলছিল। বাইরে থেকে দেখলে অভিকের জীবনকে সফলই বলা যায়। দায়িত্ববান বাবা, সংসারী স্বামী, সৎ চাকরিজীবী—জীবনটা সে খারাপ কাটায়নি।


তারপর খাতার পরের লাইনে গিয়ে হাত থেমে গেল।


আমি কী পেলাম?


অভিক অনেকক্ষণ প্রশ্নটার দিকে তাকিয়ে রইল।


উত্তর খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ তার নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ল। তখন সে গল্প লিখত। খাতার পেছনের পাতায়, পুরোনো কাগজে, কখনো স্কুলের শেষ পিরিয়ডে বসে। কলেজে পড়ার সময় তার কয়েকটা লেখা পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছিল। সেই সময় মনে হতো, একদিন একটা বই বের করবে। নিজের নামে একটা বই। ছোটবেলায় যে স্বপ্নটা খুব সহজ মনে হয়েছিল, বড় হতে হতে সেটাই যেন অকারণে কঠিন হয়ে গেল।


বিয়ের পর নিশি একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, “তোমার লেখালেখি একেবারে বন্ধ হয়ে গেল?”


অভিক হেসে বলেছিল, “সংসারটা একটু গুছিয়ে নিই। তারপর আবার লিখব।”


তারপর মেঘ এল। মেয়েটা ছোট ছিল। তাকে সময় দিতে হয়েছে। মিশি অসুস্থ হলে রাত জেগে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। বাড়ির কিস্তি, বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ—একটার পর একটা প্রয়োজন সামনে এসেছে। অভিক কখনো কাউকে না বলেনি। শুধু নিজের ইচ্ছেটাকে একটু সরিয়ে রেখে বলেছে, “এখন না।”


নিশি মাঝেমধ্যে আবার বলেছে, “সময় পেলে লিখো।”


অভিক প্রতিবারই একই উত্তর দিয়েছে, “সময় কোথায়?”


এখন সেই সময়টাই তার সামনে পড়ে আছে।


অথচ লেখার টেবিল নেই। অসমাপ্ত গল্প নেই। কেউ অপেক্ষা করে নেই তার নতুন লেখা পড়ার জন্য।


সন্ধ্যায় অভিক বারান্দায় বসে থাকে। মেঘ ফোনে ব্যস্ত, মিশি নিজের কাজ নিয়ে ছুটছে, নিশি রান্নাঘরে। সবাই আছে। সংসারও আছে। শুধু আগের সেই শব্দগুলো নেই। মেয়েদের ছোটবেলার হাসি নেই, স্কুলে যাওয়ার তাড়া নেই, রাত জেগে পড়া নেই।


সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ার পরও কোথাও যেন কিছু ঠিক হয়নি।


সেদিন রাতে অভিক আবার খাতাটা খুলল। লিখল—ভালোবাসা: পেয়েছি। সম্মান: পেয়েছি। দায়িত্ব: পালন করেছি।


তারপর নিজের নামের নিচে আরেকটা লাইন লিখতে গিয়ে কলম থেমে গেল।


অনেকক্ষণ পর সে আলমারির ওপর রাখা পুরোনো ফাইলটা নামাল। ভেতর থেকে বের হলো কয়েকটা হলদে হয়ে যাওয়া কাগজ। তার নিজের লেখা। অক্ষরগুলো পুরোনো, কোথাও কালি ফিকে হয়ে গেছে, তবু গল্পগুলো বেঁচে আছে।


অভিক প্রথম পাতাটা পড়তে শুরু করল।


কিছুক্ষণ পর নিশি এসে দরজার কাছে দাঁড়াল। বলল, “আবার লিখছ?”


অভিক মুখ তুলে তাকাল। মৃদু হেসে বলল, “হয়তো।”


নিশি আর কিছু বলল না। শুধু টেবিলের পাশে একটা খালি চেয়ার টেনে বসে রইল।


সেদিন রাতে অভিক বুঝল, জীবনের সব হিসাব সময়মতো মেলানো যায় না। কিছু হিসাব শেষ বয়সে এসে খুলতে হয়। আর তখন দেখা যায়, সংসারের প্রতিটি কলাম ভরা—বাড়ি, টাকা, দায়িত্ব, সাফল্য, সম্পর্ক—শুধু নিজের নামে রাখা ছোট ঘরটাতেই ধুলো জমে আছে।


সে খাতার শেষ পাতায় লিখল—


“যা হারিয়েছি, তার সবটা ফিরে পাব না। তবু যতদিন আছি, নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখব।”


তারপর খাতাটা বন্ধ করল।


সেদিন বহু বছর পর অভিকের মনে হলো, জীবনটা পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি।


শুধু এতদিন সে নিজের পাতাটা খুলেই দেখেনি।


আর সেই পাতার এক কোণে, অনেকদিন ধরে পড়ে থাকা শব্দটা সে সেদিন প্রথমবার বদলাতে চাইল—


শূন্য নয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1233 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24905। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4655
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৫ ৩০৭ নম্বর কক্ষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৫   হারিয়ে যাওয়া আমি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৫ : মানুষের দৃষ্টি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ স্বামী ম&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৫: যে চিঠিগুলো কেউ লিখত না   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1071 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    53 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    902 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    344 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...