Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

একটি সিদ্ধান্তের দাম পর্ব–২ : মিথ্যার শুরু

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,713 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটি সিদ্ধান্তের দাম  

পর্ব–২ : মিথ্যার শুরুimage   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ধারাবাহিক গল্প


রাতটা এক বিছানায় কাটল। তবু দুজনের মাঝে যেন একটা দেয়াল উঠে গেল।


নিশি আর প্রশ্ন করেনি।


লাভ হবে না, সে বোঝে। অভিক কিছু লুকাতে চাইলে তার মুখ থেকে কথা বের করা কঠিন। তবু ঘুম এলো না। পাশে শুয়ে থাকা মানুষটার নিঃশ্বাসের ওঠানামা শুনতে শুনতে মাথায় ঘুরল একটাই কথা—


ঋণ? কিসের জন্য?


ভোরে চোখ মেলে দেখল, বিছানা খালি।


বারান্দায় দাঁড়িয়ে অভিক ফোনে কথা বলছে। গলা নামানো, তবু শেষ কথাটা স্পষ্ট কানে এলো।


“আর দু-একটা দিন সময় দে। আমি ব্যবস্থা করছি।”


নিশি বারান্দায় পা দিতেই ফোন কেটে গেল।  

“এত সকালে কার সঙ্গে কথা?”  

“অফিসের একজন।”


বলল ঠিকই। চোখ তুলল না। হাতের আঙুল কাঁপছিল কি না কে জানে।


নিশি আর কথা বাড়াল না।


নাস্তা শেষ হতেই অভিক বেরিয়ে গেল। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা আজ অন্যরকম লাগল। ভারী। যেন কিছু আটকে গেল ভেতরে।


দুপুরে আলমারি গোছাতে গিয়ে নিশির হাতে পড়ল একটা নীল ফাইল।


অভিক দরকারি কাগজ খুব সাবধানে রাখে। ফাইলটা খুলতেই বেরোল কিছু ব্যাংকের স্টেটমেন্ট। একটা ছোট হিসাবের খাতা। পেজ উল্টাতে গিয়ে চোখে পড়ল কয়েকটা মানি রিসিপ্ট। আর একটা কাগজ—উপরে লাল কালিতে বড় করে লেখা: “বকেয়া পরিশোধের শেষ তারিখ: ১২ জুলাই।”


বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।


সংসারের হিসাব থেকে নিশি কখনো নিজেকে আলাদা রাখেনি। বাজার, কারেন্ট বিল, বাবার ওষুধ—সব সে জানে। তবু এত বড় একটা দায় সে টের পেল না কীভাবে?


ঠিক তখনই কলিং বেল।


দরজা খুলে দেখল রাশেদ সাহেব। নিচতলায় থাকেন।  

“মা, অভিক বাসায়?”  

“না, অফিসে।”


লোকটা একটু থামল। গলায় অস্বস্তি। “ওকে বলো, আমার টাকাটা যেন আর দেরি না করে। অনেক দিন হলো।”


নিশি অবাক। “কী টাকা?”


রাশেদ সাহেব বুঝলেন, ভুল সময়ে ভুল কথা বলে ফেলেছেন। “না... কিছু না। ও বুঝবে।”


হনহন করে নেমে গেলেন।


নিশি দরজা ধরে দাঁড়িয়ে রইল। পাঁচ মিনিট, হয়তো আরও বেশি।


এতদিনে প্রথমবার মনে হলো, অভিক শুধু কিছু চাপা দিচ্ছে না। অনেক কিছু চাপা দিচ্ছে। আর প্রতিটা চাপা দেওয়া কথা একেকটা নতুন ফাটল।


রাতে অভিক ফিরল দশটার পর। চোখের নিচে কালি। গাল ভেঙে গেছে একটু।


নিশি ভাত গরম করে সামনে দিল।


খেতে খেতেই বলল, “রাশেদ সাহেব এসেছিলেন।”


অভিকের হাত থেমে গেল। ভাতের লোকমা প্লেটেই পড়ে রইল। “কেন?”  

“বললেন, তোমার কাছে নাকি টাকা পাবেন।”


অভিক জোর করে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল। হাসিটা বসল না। “আরে, ওটা কিছু না। ধার নিয়েছিলাম। দিয়ে দেব।”  

“কত টাকা?”  

“বেশি না।”  

“কত?”


চামচটা শব্দ করে নামিয়ে রাখল অভিক। “সব হিসাব তোমাকে দিতে হবে?”


নিশি গলাটা নামাল। শান্ত, কিন্তু নরম নয়। “আমি হিসাব চাইছি না। আমি সত্যিটা জানতে চাইছি।”


অভিক তাকাল না। প্লেট ঠেলে উঠে গেল। অর্ধেক ভাত পড়ে রইল।


রাতে নিশির ঘুম হলো না।


বিয়ের পরের প্রথম বছরের কথা মনে পড়ল। অভিকের পকেটে তখন ২০০ টাকা থাকলেও সে বলত, “আজ ২০০ আছে।” টাকা কম ছিল। কিন্তু লুকোচুরি ছিল না।


আজ টাকা নেই, আর সত্যিটাও নেই হয়তো। এই বদলটাই কষ্ট দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি।


পরদিন অফিস শেষে অভিক সরাসরি রুবেলের ডেরায় গেল। চা-পানের দোকানের পেছনে একটা ঘুপচি ঘর।


“আর টাকা লাগবে।”


রুবেল সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল। “বলেছিলাম না? শুরু করলে মাঝপথে থামা যায় না।”  

“শেষবার।”


রুবেল হাসল। চোখ ছোট হয়ে এলো। “এই কথাটাই সবাই বলে।”


টেবিলের ড্রয়ার থেকে নতুন একটা কাগজ বের করল। “এবার জামানত একটু বাড়াতে হবে।”


অভিক কাগজটার দিকে তাকিয়ে রইল। শব্দগুলো চেনা, কিন্তু অর্থটা আজ আরও ভারী। “আর কোনো উপায় নেই?”  

“আছে।”  

“কী?”  

“টাকা ফেরত দে।”


অভিক মাথা নিচু করল। সেই ক্ষমতা তার নেই।


একটা ভুল সিদ্ধান্ত এখন তাকে ঠেলে দিয়েছে আরেকটা ভুলের দোরগোড়ায়। সিঁড়িটা কেবল নিচে নামছে।


কলমটা হাতে নিল। হাতটা নিজের মনে হলো না। যেন অন্য কারও।


গভীর রাতে বাড়ি ফিরে দেখল, নিশি জেগে।


ঘরের বাতি নেভানো। শুধু ডাইনিং টেবিলে একটা কম পাওয়ারের বাল্ব জ্বলছে। আলোটা হলদে, ক্লান্ত।


নিশি কোনো কথা না বলে একটা বাদামি খাম এগিয়ে দিল।


অভিক খুলে দেখল। ভেতরে নিশির সব গয়না। সেই চিকন চেইনটা, দুটো বালা, কানের ছোট দুল। বিয়েতে পাওয়া।


নিশি খুব ধীরে বলল, “যদি সত্যিই এত দরকার হয়, নিয়ে যাও।”


একটু থামল। তারপর বলল, “কিন্তু একটা কথা মনে রেখো... টাকা হারালে আবার রোজগার করা যায়। বিশ্বাস হারালে সেটা আর সহজে ফেরে না।”


অভিক খামটার দিকে তাকিয়ে রইল। গলার কাছে কিছু আটকে আছে।


তার মনে হলো, গয়নার চেয়ে বড় কিছু সে ইতিমধ্যে খরচ করে ফেলেছে। আর সেই খরচের হিসাবটা এখন শুধু সে একাই শুনতে পাচ্ছে। শব্দটা ক্ষীণ। তবু কানে লাগছে।


(চলবে............পর্ব–৩ : ভাঙনের শব্দ)

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1075 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21713। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4192
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–১ : ভুলের শুরু   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গলú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৫ : যে সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিল (সমাপ্তি)   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৪ : ভাঙনের শেষ প্রান্তে   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৩ : ভাঙনের শব্দ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাস-বৃষ্টির ওপাশে আলো   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ০৩, জুলাই ২০২৬ পর্ব–২ : প্রথম দ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...