Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবা দিবসে বাবাকে হারানোর দিন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
10 বার প্রদর্শিত
করেছেন (330 পয়েন্ট)   7 ঘন্টা পূর্বে "সাধারণ" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
২০ জুন ২০২১ সাল বাবা দিবসে বাবাকে হারানোর দিন!

ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ছিল বাবা দিবস। তবে সত্যি বলতে, আমার কাছে বাবা দিবস বলে আলাদা কোনো দিন নেই। একজন সন্তানের কাছে বছরের প্রতিটি দিনই বাবা দিবস। ভালোবাসার মানুষকে ভালোবাসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন হয় না। তবুও মানুষ বিশেষ স্মৃতিগুলো ধরে রাখার জন্য দিনগুলোকে একটু আলাদা করে মনে রাখে। সেদিনও সবাই যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বাবাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা লিখছিল, আমিও লিখেছিলাম। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকেল একটা সময় বাবাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম। কে জানতো, সেটাই হবে বাবাকে নিয়ে আমার শেষ বাবা দিবসের লেখা!

১৯ জুন রাতে বাবা নিজের হাতে তার সবচেয়ে পছন্দের খাবার ডিম ও পোলাও রান্না করেছিলেন। আমরা সবাই একসাথে বসে খেয়েছিলাম। পরিবারের হাসি-আনন্দে ভরা সেই রাতটা আজও চোখের সামনে ভাসে। রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে আমরা গল্প করছিলাম। আমার মা তখন অসুস্থ ছিলেন। আমরা সবাই মিলে তার সেবা করছিলাম। বাবা নিজ হাতে ফল কেটে মায়ের সামনে দিয়েছিলেন। কী সুন্দর ছিল সেই মুহূর্তগুলো! ছোট একটা পরিবার, যেখানে কোনো ঝামেলা ছিল না, কোনো বড় সমস্যা ছিল না শুধু ছিল ভালোবাসা আর একে অপরকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

পরদিন, ২০ জুন। দিনের শুরুটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। আমি আমার কাজে ব্যস্ত ছিলাম, বাবা তার কর্মব্যস্ততায়। শরীরেও তার কোনো অসুস্থতার লক্ষণ ছিল না। একজন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ। কিন্তু মানুষ তো জানে না, তার জীবনের পরের মুহূর্তে কী লেখা আছে। সেদিন মাগরিবের আজানের পর বাবা তার কর্মস্থল থেকে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই তার শরীর দুর্বল হয়ে যায়। কর্মস্থলের সহকর্মীরা বাবার মোবাইল থেকে মাকে ফোন করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলেন। আমি, মা, বড় বোন ও ছোট বোন ছুটে গেলাম হাসপাতালে। হাসপাতালে পৌঁছে দেখি, বাবা একটি সিটে শুয়ে আছেন। দেখে মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো একটু ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু না, তিনি আর কখনো জেগে উঠবেন না। তিনি পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা, সমস্ত দায়িত্ব, সমস্ত ভালোবাসা রেখে চিরতরে বিদায় নিয়ে ফেলেছেন। সেই মুহূর্তের শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যে মানুষটার সঙ্গে প্রতিদিন কত কথা হতো, কত গল্প হতো, যার কাছে সব কথা বলা যেতো হঠাৎ করেই তিনি নেই! চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলেন। কেউ বলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, কেউ বলেন ব্রেন স্ট্রোক। কিন্তু আমার কাছে এসব চিকিৎসাবিজ্ঞানের শব্দ নয়, আমার কাছে সেদিনের অর্থ একটাই আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাবাকে বাসায় নিয়ে আসা হলো। তখন প্রায় রাত আটটা। বাবাকে গোসল করানো হলো। হজ থেকে নিয়ে আসা সাদা কাপড়টি তার কাফনের কাপড় হলো। সেই দৃশ্যগুলো আজও হৃদয়ে গভীর ব্যথা হয়ে রয়ে গেছে। এরপর বাবাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া হলো। লাশের খাটে শুইয়ে নিচে বরফ রাখা হলো। সবাই হয়তো এটাকে স্বাভাবিক নিয়ম বলবে, কিন্তু একজন সন্তানের কাছে সেই দৃশ্য পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন দৃশ্যগুলোর একটি। যে মানুষটা কিছুক্ষণ আগেও আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তিনি এখন নিথর। রাতভর বাবার লাশবাহী গাড়ির সামনে বসে ছিলাম। 

রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বলছিল। চারপাশ নিস্তব্ধ। গভীর রাত, ফাঁকা রাস্তা, আর আমি আমার বাবার পাশে শেষ পাহারাদার হয়ে। সেই রাতটা যেন শেষই হতে চাইছিল না। ফজরের আজান হলো। নামাজ পড়তে মসজিদে গেলাম। একে একে মুসল্লিরা আসতে লাগলেন। সবাই বাবার খবর শুনে গভীর শোক প্রকাশ করলেন। মসজিদের মোয়াজ্জিন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী সবাই একই কথা বলছিলেন, "মানুষটা কখনো সালাম ছাড়া কথা বলতেন না। খুব ভালো মানুষ ছিলেন। এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন, ভাবতেই পারছি না।" সে দিন আমি একটা বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম। মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু তার চরিত্র, তার ব্যবহার, তার ভালো কাজ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। একজন মানুষ মৃত্যুর পরও মানুষের দোয়ায়, ভালোবাসায় এবং স্মৃতিতে জীবিত থাকেন। আজ এত বছর পরও ২০ জুন এলেই বাবা দিবসের পোস্টগুলো চোখে পড়ে। সবাই তাদের বাবাকে নিয়ে লিখে। আর আমি ফিরে যাই সেই দিনে যেদিন পৃথিবী বাবা দিবস পালন করছিল, আর আমি আমার বাবাকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। বাবা, আপনি আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু আপনার শিক্ষা, আপনার ভালোবাসা, আপনার হাসি, আপনার স্মৃতি সবকিছু আজও আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে আছে।

আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন, আমিন।
আমি মাহাতাব হোসেন অপল, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 15 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 330। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4098
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


বাবা সকালে তোমার দোকানে যাওয়ার সময় হতো, আর ঠিক তখনই আমার কোচিংয়ে যাওয়ার সময়। তুমি রিকশা নিয়ে আমাকে কোচিংয়ে নামিয়ে দিতে। ভোরের নরম আলোয় তোমার মুখটা এখনো চোখে ভাসে, আর মনে হয় তুমি তখনো পাশে আছো�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সেই রাত, আমি আর বাবা রাত তখন খুব গভীর। এমন এক রাত, যখন শহর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, আর কুক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
156 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ছায়া হারানোর সময় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিতা। ডিসেম্বর ২১,২০২৫ দেশের প্রান্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
466 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
"আমি বাবাকে চাই... আমি মাকে চাই।" (এক ফিলিস্তিনি শিশুর বুক ফাটা আর্তনাদ)  বসে থেকে ফেই[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবাকে নিয়ে লেখা মানেই ভূমিহীন আবেগ  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অনুলিখন। জানুয়ারি  ০৩,[...] বিস্তারিত পড়ুন...
445 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1158 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    57 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    155 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...