Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নীল সাগরের ওপারে পর্ব ১ : প্রথম দেখা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (20,237 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটি ধারাবাহিক প্রেমের গল্প

নীল সাগরের ওপারে

পর্ব ১ : প্রথম দেখা  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প | ১৭ জুন ২০২৬


নিশি লম্বা করে শ্বাস টানল।


সামনে শুধু সমুদ্র। ঢেউয়ের একটানা শব্দ কানে বাজছে। গায়ে লাগছে নোনা বাতাস, আর পশ্চিম আকাশে সূর্যটা একটু একটু করে নেমে যাচ্ছে। জায়গাটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম।


সমস্যা হলো, সে এখানে কীভাবে এলো, সেটাই মনে করতে পারছে না।


শেষ যেটুকু মনে আছে—পার্টিটা আর নিতে পারছিল না। চুপচাপ বেরিয়ে এসে রাস্তায় দাঁড়ানো প্রথম বাসটায় উঠে পড়েছিল। কোথায় নামবে, কেন যাবে—এসব ভাবার ধৈর্য ছিল না।


বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নিজের ওপরই মেজাজ খারাপ হলো। ফিসফিস করে বলল,  

“নিশি, তুই করছিসটা কী? হাঁটতে হাঁটতে একদম কোথায় চলে এসেছিস দেখ।”


নিজের কথায় নিজেই হেসে ফেলল। কবে থেকে নিজের সঙ্গে এভাবে কথা বলা শুরু করেছে, মনে নেই। তবে ইদানীং নিজের ওপর রাগ করাটা প্রায় রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অভিক চুপচাপ দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখছিল।


হঠাৎ চোখ গেল একটু দূরে। একটা মেয়ে। একই জায়গায় বারবার পায়চারি করছে। থামছে। আবার কী যেন বলছে নিজের সঙ্গে।


দেখে অভিকের ঠোঁটের কোণে হাসি চলে এলো। অদ্ভুত। কিন্তু এই অদ্ভুত ভাবটাই মেয়েটাকে ভিড়ের থেকে আলাদা করেছে বলে মনে হলো।


কথা বলতে ইচ্ছে করল। এক পা এগিয়েও গিয়েছিল।


ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়াল একজন।


“বেব, তুমি এখানে? আমি ভেবেছি সিগারেট খেতে বের হয়েছ।”


অভিকের মুখটা সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল। এই যে একটু আগের নীরবতাটা, সেটা কেউ যেন টেনে ছিঁড়ে দিল।


“ভেতরে যাচ্ছিলামই। তুমি ভেতরে থাকলেই পারতে।”  

গলায় বিরক্তি লুকানোর চেষ্টা করল না।


চলে যাওয়ার আগে আরেকবার তাকাল মেয়েটার দিকে। নামটা জানা হয়নি। মনে মনে ভাবল, আবার যদি দেখা হয়, নামটা অন্তত জিজ্ঞেস করব।


সূর্যটা প্রায় ডুবে গেছে।


শেষ আলোটা সমুদ্রের পানিতে কমলা রঙ ছড়াচ্ছে। নিশি তাকিয়ে থাকল। কেন জানি চোখ ভিজে এলো। এত মন দিয়ে সূর্যাস্ত সে আগে কখনো দেখেনি।


আস্তে করে বলল,  

“কী সুন্দর... ইশ, আমি যদি সূর্যের মতো হতাম। নিজের ইচ্ছেয় আসতাম, নিজের ইচ্ছেয় চলে যেতাম।”


কথাটা বলেও কান্না থামল না। সে নিজেও নিশ্চিত না, কিসের জন্য কাঁদছে। এই রঙের জন্য? নাকি আজ সন্ধ্যার সেই ঘটনার জন্য?


বাবা এমন একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, ভাবতেও পারেনি।


পার্টির দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। সে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,  

“বাবা, এটা কী? এজন্যই আমাকে এত সাজতে বলেছিলে?”


বাবার চোখে কোনো দ্বিধা ছিল না। গলাটা একদম ঠান্ডা।  

“তোমার ভালোর জন্যই করছি।”


আর কিছু শোনেনি নিশি। বেরিয়ে এসেছিল। মাথার ভেতর শুধু রাগ আর অপমান। তার জীবনের এত বড় সিদ্ধান্ত হয়ে গেল, অথচ তাকে একবারও জিজ্ঞেস করার দরকার মনে করেনি কেউ। একজন অচেনা লোকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এটা সে মানতে পারছিল না।


“মা, তুমি থাকলে হয়তো আজ এমন হতো না।”  

চোখ মুছতে মুছতে দৌড়েছিল। পায়ে পার্টির হিল। খুলে ফেলার কথা মাথায় আসেনি। রাস্তায় একটা বাস দাঁড়িয়ে ছিল। কিছু না ভেবেই উঠে পড়েছিল। সেই বাসই তাকে নামিয়ে দিয়েছে এই অচেনা বিচে।


জায়গাটা চেনে না। তবু বুকের ভেতরের চাপটা এখানে এসে একটু হালকা লাগছিল।


রাত হয়ে গেছে। নিশি তখনও বসে আছে।


আশপাশে লোকজন। কেউ পানিতে পা ভেজাচ্ছে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছে। কেউ আবার জোড়ায় জোড়ায়। একটু দূরে একটা কাপল নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত যে চারপাশে কী হচ্ছে খেয়াল নেই।


দেখে নিশির মেজাজ আরও খারাপ হলো। মনে মনে বলল, “এসবের জন্য কি আর জায়গা পায় না মানুষ?”


ছেলেটার চোখ তখনই পড়ল তার দিকে। একটা বাঁকা হাসি দিল, যেন ইচ্ছে করেই খোঁচাচ্ছে।


নিশির আর সহ্য হলো না। পায়ের কাছে ছোট একটা নুড়ি ছিল। তুলে ছুড়ে মারল।


“প্রাপ্য ছিল!”  

বলেই হাঁটা দিল।


দু’পা যেতেই থেমে যেতে হলো। কেউ হাত চেপে ধরেছে। শক্ত করে।


“মিস, আমার ঠোঁটের স্বাদ নিতে চান নাকি?”


ঘুরে তাকাল নিশি। সেই ছেলেটা। যাকে পাথর মেরেছিল।


রাগটা আর সামলাতে পারল না। সোজা ঘুষি চালিয়ে দিল ছেলেটার চোয়ালে। নিজের হাতের গাঁটে ব্যথা লাগল, কিন্তু পাত্তা দিল না।


ছেলেটার চোখে আগুন। নিশি উল্টো হেসে দিল। সারাদিনের জমে থাকা রাগটা যেন একটু বের হলো।


“এটা তোমার পাওনা। সারাদিন মেজাজ খারাপ আমার। তার ওপর তুমি এসব সাহস দেখাও। আমার হাত ধরেছ, এটাই তোমার কপাল। নইলে আরও খারাপ হতো।”


ছেলেটা হাত তুলতে যাবে, ঠিক তখনই আরেকজন তার বাহু খপ করে ধরে ফেলল।


ছেলেটা ঘুরে তাকাল। আর মুহূর্তেই তার মুখের রং পাল্টে গেল। যে ধরেছে, তাকে দেখে ভয়টা স্পষ্ট।


লোকটা শান্ত গলায় বলল, “তুমি এখনো বদলাওনি, ইগনিও?”


এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না ছেলেটা। দৌড়ে পালাল।


নিশি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর ফিক করে হেসে বলল, “কাপুরুষ!”


কিন্তু তার মন বলছে, সামনে দাঁড়ানো মানুষটা সাধারণ কেউ না। কে সে, জানে না। কিন্তু লোকটার উপস্থিতিতে একটা অদ্ভুত নিরাপত্তা কাজ করছে।


এই অচেনা সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে নিশি টের পেল, তার জীবনের গল্পটা হয়তো নতুন করে শুরু হচ্ছে।


চলবে...


#নীল_সাগরের_ওপারে  

#অভিক_ও_নিশি  

#ধারাবাহিক_গল্পimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1002 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20237। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4084
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একটি ধারাবাহিক প্রেমের গল্প নীল সাগরের ওপারে পর্ব ২ : অচেনা মেয়েটি   মোহাম্মদ জাহি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি ধারাবাহিক প্রেমের গল্প নীল সাগরের ওপারে পর্ব ৪ : কিছু সম্পর্ক শুধু থেমে যায়   ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি ধারাবাহিক প্রেমের গল্প নীল সাগরের ওপারে শেষ পর্ব : প্রথম কথোপকথন মোহাম্মদ জাø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি ধারাবাহিক প্রেমের গল্প নীল সাগরের ওপারে পর্ব ৩ : এক কাপ চা এবং কিছু না বলা কথা   &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
১. সারাটা কক্ষ জুড়ে পাক খাচ্ছে নিঃশব্দ রাত। শাঁ শাঁ শব্দে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে রাতের [...] বিস্তারিত পড়ুন...
141 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    935 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    46 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...