Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

হিসাবটা মিলছে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
218 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,089 পয়েন্ট)   11 জুন "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হিসাবটা মিলছেimage  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

বিশ্লেষণধর্মী। ১১ জুন, ২০২৬


বাজার থেকে বের হয়ে রুবেল হাঁটছিল আর খুচরো নোটগুলো গুনছিল। হিসাবটা ঠিক মিলছিল না। আবার গুনল। তৃতীয়বার গুনে সে নিশ্চিত হলো—দোকানদার ভুল করে এক হাজার টাকা বেশি ফেরত দিয়েছে। 


দোকানে তখন মাছের দরদাম নিয়ে হট্টগোল। ক্যাশে বসা লোকটা ঘাম মুছতে মুছতে অন্য ক্রেতার পলিথিনে পেঁয়াজ তুলছে। পাশে দাঁড়ানো কামরুল ব্যাপারটা খেয়াল করে জিজ্ঞেস করল,  

“কী রে, মুখ শুকনা কেন?”  

রুবেল নোটগুলো বাড়িয়ে ধরল। 


কামরুল ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। “কপাল খুলল তোর। আজ তো তোর লাভ।”  

“লাভ না। ভুল।”  

“ভুলটা করেছে ও। লাভটা পাচ্ছিস তুই।” কথাটা বলে কামরুল সিগারেট ধরাতে গেল। 


রুবেল উত্তর দিল না। 

“তুই বদলাসনি একটুও,” কামরুল দেশলাইয়ের কাঠি ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে বলল। “আমি হলে চুপচাপ পকেটে ঢুকাতাম। একবার বেশি সৎ সাজতে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা গচ্চা দিয়েছিলাম। এরপর থেকে লাভ-ক্ষতির অঙ্কটা একটু অন্যভাবে কষি।” 


রুবেল কথা না বাড়িয়ে ভিড় ঠেলে আবার কাউন্টারের দিকে এগোল। 


দোকানদার টাকাটা হাতে নিয়ে প্রথমে থমকে গেল। তারপর গলাটা একটু নরম করে বলল, “ভাই, টেরই পাই নাই।”  

“আমিও চাইলে না বলে চলে যেতে পারতাম,” রুবেল হালকা হাসল। 


লোকটা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে থাকল। ক্যাশের পাশে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের পাতাটা ফ্যানের বাতাসে একটু কেঁপে উঠল। শেষে শুধু বলল, “ভালো থাকবেন।” 


চায়ের দোকানে বসে কামরুল আবার খোঁচা দিল, “এই দুনিয়ায় বেশি সৎ লোকের দাম নাই।”  

রুবেল চায়ের কাপে বিস্কুট ডোবাল। ধোঁয়া উঠছিল। “হতে পারে।”  

“হতে পারে না। এটাই নিয়ম। যে শর্টকাট নিতে জানে, রাস্তাটা তারই হয়।” 


রুবেল তর্কে গেল না। চায়ের তলানিতে চিনি জমে ছিল। 


রাতে বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে তার বাবার কথা মনে পড়ল। সালটা সম্ভবত ২০০৪। তখনও শহরে এত সিএনজি নামেনি। বাবা লোকাল বাসের সিটে একটা কালো রেক্সিনের ব্যাগ পেয়েছিলেন। ভেতরে মোটা বান্ডিল। সংসারে তখন টানাটানি, মায়ের চোখের অপারেশনের টাকা জোগাড় হচ্ছিল না। তবু বাবা দুদিন ঘুরে ব্যাগের মালিককে বের করেছিলেন—কেরানীগঞ্জের এক কাপড়ের ব্যবসায়ী। 


রুবেল তখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। জিজ্ঞেস করেছিল, “রেখে দিলে কী হতো?”  

বাবা হেসে বলেছিলেন, “ঘরে কিছু টাকা বাড়ত।”  

“তাহলে ফেরত দিলে কেন?”  

বাবা জানালার গ্রিল ধরে বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। মিনিটখানেক পর বললেন, “ঠিক মনে হয়নি। কেন মনে হয়নি, সেটা বুঝিয়ে বলতে পারব না।” 


পরের সপ্তাহে অফিসে একটা ভেন্ডর পেমেন্ট শিট চেক করতে গিয়ে রুবেলের চোখে একটা গরমিল পড়ল। ২৭,৫০০ টাকার জায়গায় ৭২,৫০০ এন্ট্রি হয়েছে। একটা শূন্য আর সাতের জায়গায় দুই—এই যা। 


সে কারেকশন করে সেভ দিল। আধঘণ্টা পর পাশের ডেস্ক থেকে শোয়েব গলা খাঁকারি দিল, “ওই যে, আমাদের অডিটর সাহেব জেগে উঠছে।”  

রিসেপশনের মিতু কি-বোর্ড থেকে চোখ না তুলেই বলল, “বাদ দেন ভাই, ওর চোখ এড়ায় না কিছু।” 


রুবেল মনিটরে চোখ রাখল। এক্সেলের সবুজ সেলগুলো একরকম লাগছিল। 


সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তার অস্বস্তি হয়নি। বরং ক্লান্তিটা কম লাগছিল। 


রাতে ছেলে সায়েম টেবিলে বসে বিজ্ঞান বইয়ের ‘বল’ অধ্যায় পড়ছিল। হঠাৎ মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল, “বাবা, সৎ থাকলে কি আসলেই লাভ হয়?”  

রুবেল বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরাল। “আজ হঠাৎ এই প্রশ্ন?”  

“স্কুলে টিফিনে এটা নিয়ে তর্ক হলো। রাফি বলল, সৎ থাকলে শুধু লস।” 


রুবেল জানালার দিকে তাকাল। বাইরে লোডশেডিং, দূরে জেনারেটরের শব্দ। কিছুক্ষণ পর বলল, “সবসময় হয় না।” 


সায়েম আবার বইয়ের দিকে তাকাল। পাতা উল্টাল না। 

রুবেলও আর কিছু যোগ করল না। কিছু উত্তর দিয়ে শেষ করা যায় না। 


ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাথরুমের লাইট নেভাতে গিয়ে আয়নায় চোখ পড়ল। কয়েক সেকেন্ড নিজের দিকে তাকিয়ে থাকল সে। চোখের নিচে কালি, কপালে দুটো নতুন ভাঁজ। 


তারপর সুইচ টিপে দিল। 

অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তার মনে হলো, অন্তত একটা খাতায় কোনো কাটাকুটি নেই। হিসাবটা আপাতত মিলছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1242 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25089। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4052
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ছায়ার গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৪ আগষ্ট, ২০২৬ পুরোনো বাংলা সাহি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সীমাবদ্ধতা নয়, ভিত্তি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৪ আগষ্ট, ২০২৬ তৎকাল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প সংস্কৃতি বাঁচবে কীভাবে? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প গ্রামের উৎসবের বদলে যাওয়া দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন [...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প হারিয়ে যাচ্ছে লোকজ পেশা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্ল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1255 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    62 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...