Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চোর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (117 পয়েন্ট)   21 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

কালভার্টের উপর সকাল থেকে উদ্ভ্রান্তের মতো পায়চারি করে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। চোখে মুখে গভীর উৎকন্ঠা। একবার রেলিংয়ে বসে, পরক্ষণেই আবার উঠে দাঁড়ায়।
লোকটির নাম সান্টু মিয়া।
চোখে মুখেএমন আতঙ্ক, যেন রাষ্ট্রের গোপন নথিপত্র  চুরির দায়ে ইন্টারপোল তাকে খুঁজছে। পথচারীদের কাউকে আসতে দেখলেই কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে,
— ভাই কি বাজার তনে আইলেন ?
— হ, ক্যান?
— না মানে... আমার নামে বাজারে কিছু হুনলেন?
— না তো। কি হুনমু?

সান্টু হাফ ছেড়ে বাঁচে। বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়। মনে হয়, ফেরেশতা নেমে এসে জামিন দিয়ে গেল।

— ঠিকাছে। যান।

পথচারীরা অবাক হয়। কেউ কেউ পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চায় - ক্যান কি হইছে?

সান্টু শুকনা হাসি দিয়ে বলে- না...এমনি কইলাম।

এইভাবেই চলতে থাকে।
সকাল গড়িয়ে দুপুর। দুপুর গড়িয়ে বিকেল।কিন্তু সান্টু মিয়ার উৎকণ্ঠা কমে না।
সবাইকে থামিয়ে  একই প্রশ্ন-

“ভাই, বাজারে আমার নামে কিছু হুনছেন?”
“আমারে নিয়া কেউ কি কিছু কইতাছে?” “বাজারে আমারে নিয়া কোন গ্যানজাম ট্যানজাম হয় নাই তো?”

এলাকার পেইচা সোহেল সাইকেল চালিয়ে বাজার থেকে ফিরছিলো।  হন্তদন্ত হয়ে তাকে থামালো সান্টু। একই প্রশ্ন-
- বাজারে আমারে নিয়া কোন কিছু শুনলা? পেইচা সোহেল  কিছুক্ষণ সান্টুর দিকে তাকিয়ে থাকলো।
— কি হইছে তর?
— না , কিছু না ভাই।
— তাইলে এমন করতাছস ক্যান?
সান্টু থতমত হয়ে জবাব দিল।
—  না মানে ... এমনি জিগাইলাম আর কি। মনে হইলো তাই কইলাম...হইতে পারে না? পারে তো। হেহ হেহ হে..

সান্টু হাসার চেষ্টা করলো। হাসিটা ভীষণ  বেমানান। যেন কবরস্থানে দাঁড়িয়ে সে কৌতুক বলছে।
তার চোখে-মুখে এমন আতংক যেন-  পুলিশ দেখা মাত্র  ধানক্ষেতে লুকিয়ে পরবে।

বিকেলের দিকে গোঁয়ার পাড়া জামে  মসজিদের ইমাম আবুল মুন্সি বাজার থেকে ফেরার পথে সান্টুকে দেখে থামলেন।
— কি সান্টু মিয়া, এহনও এহানেই?
সান্টু তার কথার উত্তর না দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করে,
— চাচা, বাজারে কোন গ্যানজাম দেখলেন?
— কিসের গ্যানজাম?
— না মানে... আমারে নিয়া কিছু?
হুজুর ভ্রু কুঁচকালেন।
— তোমারে নিয়া গ্যানজাম লাগবো ক্যান?
সান্টু ঢোক গিললো।
— গ্যানজাম তো লাগবারই পারে... বুঝেন নাই?
আবুল মুন্সি কিছু বুঝলেন না।
সামনে গিয়ে নুরুলের পানের দোকানে থামলেন। সেখানে সান্টুকে নিয়ে ইতোমধ্যে ছোটখাটো অনুসন্ধান কমিটি বসে গেছে। সদস্য পেইচা সোহেল, জিলাপি জলিল, ফাটা বাচ্চু এবং আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল বেকার লোক।
ফাটা বাচ্চু বললো,
— বাজার থাইকা আসা কমপক্ষে পঁচিশজনরে সে একই কথা জিগাইছে- 'ভাই আমার নামে কিছু হুনছেন?'
পেইচা সোহেল গম্ভীর গলায় বললো,
— ঘটনা সুবিধার না ভাই। ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।
জিলাপি জলিল ঠোঁট বাঁকিয়ে ফয়সালা দিলো,
— ডাইলের ভিতরে অবশ্যই গোস্ত আছে।

সবাই সিদ্ধান্ত নিলো, রহস্য উদঘাটন করতেই হবে। তারা দল বেঁধে কালভার্টের দিকে রওনা দিল।
সান্টু তখন রেলিংয়ে বসে অস্থিরভাবে আঙুল ফোটাচ্ছে।

জিলাপি জলিল হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বললো,
— শেষ!
সান্টুর বুক ধক করে উঠলো।
— কি হইছে ভাই?
— বাজারে তোমারে নিয়া তুমুল গ্যানজাম লাগছে। লোকজন দল বাইন্ধা তোমার বাড়ির দিকে যাইতাছে। কি কাম করছো তুমি?
কথাটা শোনামাত্র সান্টুর মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো।
— ভাই, ভুল হইয়া গেছে, ভাই! আমারে বাচাও!
ফাটা বাচ্চু ধমক দিলো,
— আগে খুইলা ক, কি করছস?
সান্টু কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চুর পা জড়িয়ে ধরলো।
— আর কোনদিন করমু না ভাই!
পেইচা সোহেল একটু নরম হয়ে  মানবিক স্বরে বললো,
— আমরা থাকতে তোর কিচ্ছু হইবো না। সত্য ক।

সান্টু কাঁপা হাতে চোখ মুছল। তারপর ভাঙা গলায় বলতে শুরু করল।

— ঘরের বাল্বটা দুইদিন ধইরা নষ্ট। বউ কয়দিন থেইকা একটা “এলার্জি বাল্ব” আনতে কইতেছিল। কারেন্ট গেলেও বলে জ্বলে। বউ পোয়াতি মানুষ … রাইতে কারেন্ট গেলে খুউব ডরায়। অন্দারে ছোট বাচ্চাডারে সামলাবার পায় না…
সান্টুর গলা ধরে এলো।
— বাজারে একটা গেছিলাম। একটা বাল্বের দাম সাতশ টাকা। আমি দিন আনি দিন খাই। সাতশ ট্যাকা দিয়া আমি বাল্ব কিনমু কেমনে ভাই?

চারপাশ নিস্তব্ধ।

সান্টু মাথা নিচু করে কান্না চাপে।
— মালিক সমিতির বারান্দা থাইকা বাল্ব খুইলা আনছি। সে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে।

চারদিকে সুনসান নীরবতা। দুর থেকে মাগরিবের আজান ভেসে এলো।
সান্টু  শিশুর মতো কাঁদছিলো।

— আল্লার কসম, বাল্বটা ফেরত দিমু ভাই! আমি চোর না ভাই।

সবাই স্থির দাঁড়িয়ে রইলো।
পুরো বিকেলজুড়ে যে রহস্য, যে আতঙ্ক, যে তদন্ত— তার কেন্দ্রে ছিল একটা সাতশ টাকার বাল্ব!!

ফাটা বাচ্চু চুপচাপ  বিড়ি ধরালো।
পেইচা সোহেল দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
আর জিলাপি জলিল আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো..

এই দ্যাশে  চুরি কইরা ডরায় খালি ছোট চোরেরা।
যে মানুশ সাতশ ট্যাকার একটা বালব চুরি করে, সেই মানুশটা সারাদিন কালভার্টে বইসা আতংকে কাঁপে।

আর যারা হাজার হাজার কোটি ট্যাকা গিল্লা খায়, হ্যারা টিভিতে বইসা নীতির বক্তৃমা দেয়, বিদ্যাশে ছবি তুলে, গলাত টাই ঝুলায়া আমাগো  উন্নয়নের গল্প হোনায়।
তাগোর ঘুম নষ্ট অয় না।

কালভার্টে খাড়ায়া কাউরে  জিজ্ঞেসও করতে অয় না—
“ভাই, আমার নামে কিছু হুনলেন?”

##
গল্প - চোর
মাইদুল ইসলাম মুকুল
শিক্ষক, সাংবাদিক ও লেখক <!-- /data/user/0/com.samsung.android.app.notes/files/clipdata/clipdata_bodytext_260518_122246_398.sdocx -->

সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3891
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


কালভার্টের উপর সকাল থেকে উদ্ভ্রান্তের মতো পায়চারি করে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। চোখে মুখ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

চালপড়া বা পানিপড়ার মাধ্যমে চোর শনাক্ত করা যায় কি? বিজ্ঞান কি বলে এই বিষয়ে?  আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  এক কথায় জবাব দিলে এটা প্রাচীন মানুষের কুসংস্কারের থেকে এসেছে। আর এর পিছনে প্রাচী[...] বিস্তারিত পড়ুন...
79 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লালচে নীরবতার দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ১৮ মে, ২০২৬ সকালের টেবিলে বসে মুন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
  রক্তলজ্জার বাইরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ১৮ মে , ২০২৬ স্কুল ছুটির ঘণ্টা ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 সমুদ্র, গমক্ষেত ও একটি অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    996 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    49 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    144 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...