চালপড়া বা পানিপড়ার মাধ্যমে চোর শনাক্ত করা যায় কি? বিজ্ঞান কি বলে এই বিষয়ে?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এক কথায় জবাব দিলে এটা প্রাচীন মানুষের কুসংস্কারের থেকে এসেছে। আর এর পিছনে প্রাচীন মানুষের যে যুক্তি কাজ করে তাও ভূয়া। আমি শহর গ্রাম দু- জায়গাতেই বসবাস করেছি। তো আমি গ্রামে সরাসরি কখনো চালপড়া দিয়ে চোর ধরতে দেখি নি। আমার আম্মু নানিরাও দেখেন নি শুধু শুনেছেন। আমার এক আত্মীয় ( বাবার দাদি) আছেন, তো তিনি আমাকে বলে ছিলেন যে " চাল পরা খাওয়ানোর সময় যার গলা শুকিয়ে যাবে বা গিলতে অসুবিধা হবে সেই চোর.. "( এরকমটা বিশ্বাস করা হয়) । তো আমি বলতে চাই যে অনেক সময় ভয়ের বা স্ট্রেস এর কারণে মানুষের গলা এমনিতেই শুকিয়ে যায় আর শরীল দেয়ে ঘামও বাহির হয়, তো এই লক্ষের উপর ভিত্তি করে এটা বলা সম্ভব না যে সে চোর। অনেক সময় আতংকের কারনে বা অন্য কোনো কারণে সাধারণ ভাবে যে কারোরই গলা শুকিয়ে যেতে পারে বা অধিক গরমেও গলা শুকিয়ে যেতে পারে। আবার চাল পড়া খেলে যার মুখ দিয়ে রক্ত বাহির হবে সে অপরাধী হবে এটাও নরবরে যুক্তি কেননা দাঁতে মারি থাকলে শুকনো চাল খাওয়ার সময় হালকা আঘাত লেগে অনেক সময় রক্ত বাহির হয়ে যায় হালকা, তো এইদিক থেকে তো যিনি সাধারণ বা নিরপরাধ মানুষ তারও রক্ত বাহির হয়ে যেতে পারে, তখন কি আমরা তাকেও চোর বলে বিবেচনা করব? । বাস্তবে এই চালপরা এর কোনো ভিত্তি নেই। প্রাচীন মানুষেরা ধর্মীও ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসকে ভিত্তি করে নানান আজগুবি বাক্য ( যেগুলোকে মন্ত্র বলে) সেগুলো পরে চালে ফু দিত আর মনে করত এগুলো মন্ত্রসিদ্ধি চাল আর এই চাল খেলে চোর ধরা পরবে তাই সেগুলো খাওয়ানো হতো, আর যার উপরে বলা লক্ষন দেখা দিত তাকে মারা হতো..... ।
তবে হ্যা একটা কথা না বললে নয় অনেক সময় চালপরা এর মাধ্যমে আসল চোরও ধরা যায়, যেমনটা উপরে চালপরা খাওয়ানর পর কি লক্ষন দেখা যায় সেটার উপর ভিত্তি করে চোর বলা হয়! তো এরকম কেসে দেখা যায় যে গ্রাম এলাকাতে বাড়িগুলোতে আত্মীয়রা যে চুরি করে আর যখন সন্দেহভাজন সবাইকে একত্র করে চালপরা দেওয়া হয় তখন স্ট্রেস এর জন্য বা ভয় পেয়ে আসল চোরের গলা এমনিতেই শুকিয়ে যায় বা শরীলে ঘাম ছারা শুরু করে। আর যখন তাকে চাপ দিয়ে দরে সবাই তখন ফরফর করে সব বলে দেয়। এরকম হওয়ার পিচনে বড় কারণ হলো সেই ব্যক্তি হয় তো প্রতম বার চুরি করেছে আর অনেকটা ভয়ও পেয়েছে, আর এই ভয় তাকে সত্য স্বীকার করতে বাধ্য করেছে..... ।
চালপরা এর টিকস সেইসব চোরের উপর কাজ করবে না যারা অভিজ্ঞ চোর। মূলত তারা চুরি করার পরেও রিলাক্স থাকতে পারে আর এমন ভাব করে যে সে নিষ্পাপ নির্দশ। আর এরকম প্রোফেশনলা চোরের উপর এসব টোক্কা কখনো কাজ করবে না আর চোরও ধরা হবে না..... । আশা করি কিছুটা হলেও বুঝাতে পেরেছি আপনাকে। সব লেখে বুঝানো সম্ভব না, তাই যতোটুকু পেরেছি তা বুঝালাম আপনাকে....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।