Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(প্রথম খণ্ড)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
76 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,834 পয়েন্ট)   24 ফেব্রুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(প্রথম খণ্ড)

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬


উত্তরণের বছরগুলো


প্রিয় মামনি,


তুমি যখন এই চিঠিটা হাতে পাবে, তখন হয়তো আমি আর কাছে থাকব না। কিন্তু কাগজের এই কুচি যেন আমার কণ্ঠস্বর হয়ে তোমার কানে ফিসফিস করে। আজ আমি তোমাকে আমাদের সেই অতীতের কথা বলব, যা হয়তো তুমি জানো না বা যা আমি কখনও বলার সাহস পাইনি। ভালোবাসা শুধুমাত্র আবেগ নয়, মামনি; এটি এক বিরাট বোঝা এবং দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষকে কখনও কখনও নিজের স্বপ্নকে বলি দিতে হয়।


আমার বয়স যখন পঁচিশ, তখন আমি ভেবেছিলাম পৃথিবীটা জয় করা খুব সহজ। তোমার মা তখন আঠারো। ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাস, চট্টগ্রামের সেই আর্দ্র শীতের দিনগুলো। আমাদের বিয়েটা ছিল সমাজের সব রীতিনীতির ঊর্ধ্বে। পাশের বাড়ির মেয়েটি, যার সাথে কলেজের লাইব্রেরিতে চোখাচোখি হয়েছিল, যাকে আমি চিঠি লিখেছি সায়বানের কাগজে, সেই মেয়েটিকে আমি ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝে বড় ফাঁক ছিল। ধর্ম আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা—দুই পরিবারই আমাদের মিলনটাকে মেনে নিতে চায়নি।


আমরা পালিয়েছিলাম। চট্টগ্রাম শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে পাহাড়তলীর এক কাজি অফিসে। সেদিন আকাশটা মেঘলা ছিল, মনে হচ্ছিল প্রকৃতিও আমাদের পালানোর সাক্ষী হতে চাইছিল না। সাক্ষী ছিল শুধু আমার বন্ধু রফিক আর তার ভয়ংকর ভবিষ্যৎবাণী—"ভালোবাসা দিয়ে পেট ভরবে না জাহিদ!" কিন্তু আমরা তখন অভিমানী, অজ্ঞান।


বিয়ের পর তিনদিন আমরা লুকিয়ে ছিলাম একটা ছোট মেসে। ঘরটা ছিল একটা বড় আলমারির মতো অন্ধকার। রাতে ট্রেনের হুইসেল শুনে মনে হতো, যেন পৃথিবীর সব মানুষ আমাদের খুঁজছে। তোমার মা ভয়ে কাঁপত, আর আমি ভাগতে ভাগতে হিমশিম খেতাম। পরিবার মেনে নিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই মেনে নেওয়ার ভেতরে একটা ঠান্ডা দূরত্ব ছিল, যেটা সময়ের সাথে সাথে একটা প্রবল প্রাচীরে পরিণত হয়েছিল।


সেই বছরগুলো ছিল দারিদ্র্য আর অভাবের সংগ্রাম। পাহাড়তলীর সেই ভাড়া বাসায় বৃষ্টির দিনগুলো ছিল আমাদের জন্য অভিশাপ। বারান্দায় জল জমত, দেওয়ালে ফাঙ্গাস ধরে যেত। পকেটে টাকা থাকত না, কিন্তু তোমার মা জানতেন আমার প্রিয় খাবার আচার। তিনি নিজের শাড়ি কেনার কথা ভুলে যেতেন, কিন্তু বাজার থেকে আমার জন্য একটু বেশি মাছ কিনে আনতেন। আমি অনেক সময় নিজেকে অক্ষম বোধ করতাম। নিজের লুঙ্গির গিট্টু ঠিক রাখতে পারতাম না, রাতে ঘুমাতে গেলে লুঙ্গি খুলে যেত। তবুও চেষ্টা করতাম তোমার মাকে শাড়ি পরিয়ে দিতে। আমার কাঁপা হাতে শাড়ির আঁচলটা ঠিকমতো পড়ত না, আর তিনি হাসতেন। সেই হাসির মধ্যে ছিল এক ধরনের করুণা আর ভালোবাসা, যা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।


তুমি যখন পৃথিবীতে আসতে চলেছ, তখন আমাদের জীবনে একটা নতুন আলো জ্বলেছিল। ১৯৯৬ সালের ১৪ই অক্টোবর, বিকেল চারটা পঁচিশ। হাসপাতালের করিডোর থেকে তোমার প্রথম কান্নার শব্দ শুনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, পৃথিবী আমাকে দ্বিতীয়বার জন্ম দিল। কিন্তু মামনি, সুখের সাথে দুঃখও এসেছিল হাত ধরে ধরে। তোমার মা তখন ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যাচ্ছিলেন। চোখের নিচে কালো দাগ, রাতে ঘুমাতে না পারা, হঠাৎ কেঁদে ওঠা—এসব আমি দেখেছি, কিন্তু কিছু করতে পারিনি। হয়তো পরিবারের অবহেলা, হয়তো অভাবের চাপ—সব মিলিয়ে সে একা হয়ে পড়েছিল।


সেদিন বিকেলটা আমার জীবনের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। ঘড়ির কাঁটায় তখন তিনটা আটত্রিশ। জুলাই মাস, বৃষ্টির ফোঁটা জানালার কাঁচে আছড়ে পড়ছিল। দরজাটা যেই বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো, মনে হলো পৃথিবীর সব শব্দ থেমে গেল। তোমার মা একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। কারণ আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম—আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমার ভালোবাসা হয়তো ছিল, কিন্তু সেই ভালোবাসার জন্য তাকে যে ক্ষতটুকু সহ্য করতে হয়েছে, তা হয়তো আমি কখনও বুঝতে পারিনি। তিনি হারিয়ে গেলেন নিজের অজান্তেই।


সেদিন থেকেই আমি শিখলাম—মানুষকে জোর করে রাখা যায় না। আর একা দাঁড়ানোর যে সাহস, তা আমাকে অর্জন করতে হলো রক্তাক্ত পায়ে।


চলবে...



#প্রথম_খণ্ড #বাবা_মেয়ে #বাংলা_ছোটগল্প #পরিবার #ভালোবাসাimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1180 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23834। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3492
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (চতুর্থ খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
81 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(তৃতীয় খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
78 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (দ্বিতীয় খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়া&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
73 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
♦থাইল্যান্ড ভ্রমণের অপূর্ব অভিজ্ঞতা♦ (প্রথম খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
145 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবা সম্পর্কে মেয়ের অব্যক্ত কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | জানুয়ারি ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
461 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    4134 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    206 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2365 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    117 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...