Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(তৃতীয় খণ্ড)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
15 বার প্রদর্শিত
করেছেন (17,392 পয়েন্ট)   24 ফেব্রুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(তৃতীয় খণ্ড)

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬


বার্ধক্য ও স্মৃতিভ্রংশের ভয়


প্রিয় মামনি,


আগের চিঠিতে আমি আমাদের দূরত্বের কথা বলেছিলাম। আজ বলব সময়ের কথা। সময় কাকে বলে, তা আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যখন আমার শরীর আমার কথা শোনেনি।


গত বছর, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি। মাঝরাতে হঠাৎ বুকে একটা চাপ অনুভূত হলো। মনে হলো কেউ যেন আমার বুকের হাড় দুটো চেপে ধরেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তুমি তখন চট্টগ্রামে, আমি ঢাকায় একা। প্রতিবেশী কামাল ভাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের সেই জরুরি বিভাগটা আজও আমার চোখের সামনে। সাদা দেয়াল, তীব্র নীল আলো, আর পাশের বেডে এক বৃদ্ধ লোকের আর্তনাদ। ডাক্তার বলেছিলেন, হার্টে ব্লকেজ। সেই মুহূর্তে আমার ভয় হয়নি, হয়েছিল একটা বিচ্ছি্রণ। ভাবলাম, যদি এখানেই শেষ হয়ে যায়, তবে তোমার কাছে কোনো কথাই থাকবে না। তোমাকে বলা হবে না যে, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসতাম, আর কতটা অপরাধবোধ করতাম দূরে থাকার জন্য।


সেই রাতে ভাবলাম, আমাকে কিছু লিখে রাখতে হবে। কারণ বয়স আর শরীরের সাথে সাথে মনের পাল্লাও হালকা হয়ে যায়। আমার এখন হাঁটতে গেলেই শ্বাস উঠে আসে। গত মাসে যখন তুমি ঢাকায় এসেছিলে, তুমি দেখেছিলে আমি বারান্দা থেকে রান্নাঘরে যেতে তিনবার থামতে হয়েছিল। তুমি বলেছিলে, "আব্বু, ডাক্তার দেখাও।" আমি হেসে বলেছিলাম, "বার্ধক্য, মামনি, ওষুধে সারে না।" কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভয় পেয়েছিলাম। ভয় পেয়েছিলাম এই ভেবে যে, আমি কি তোমার জন্য আর কাজের না?


আরেকটা কথা আছে, যা বলতে আমার খুব লজ্জা করছে। গত সপ্তাহে, একটা বিকেলে আমি বারান্দায় বসে ছিলাম। তোমার মায়ের কথা মনে করতে চেয়েছিলাম। তার নাম মনে ছিল, কিন্তু হঠাৎ তার মুখটা স্পষ্ট ভাবে মনে করতে পারলাম না। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আমার মস্তিষ্কটা আমাকে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, মামনি। প্রথমবারের মতো মনে হলো—আমি সত্যিই বুড়ো হয়ে গেছি। পরে ভাবলাম, হয়তো ভুলে যাওয়াটাও জীবনের একটা অংশ। কিন্তু তোমাকে ভুলে যাওয়ার কথা ভাবলেই আমার বুক কেঁপে ওঠে।


জীবন খুব জটিল, মামনি। তুমি ছোটবেলায় ভাবতে, জীবন খুব সহজ—ভালো মানুষ হলেই হল। কিন্তু এখন বুঝি, ভালো থাকাটাই সবচেয়ে কঠিন। ঢাকায় একা থাকা সহজ নয়। এই নীরবতা কখনও কষ্ট দেয়, আবার কখনও শান্তিও দেয়। তুমি যখন ফোন করো, তখন এই নীরব ঘরটা যেন প্রাণ পায়।


আমি চাই, তুমি জীবনে ক্ষমা করতে শেখো। শুধু অন্যকে নয়, নিজেকেও। আমি তোমার মাকে ক্ষমা করেছি অনেক আগেই। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, মানুষের সহ্য করার ক্ষমতারও একটা সীমা থাকে। তুমি যদি কখনও মনে করো, আমি ধীরে হাঁটছি বা ভুল করছি, তবে রাগ করো না। মনে রেখো, তুমি যখন ছোট ছিলে, তোমার অসংখ্য ভুল আমি হাসিমুখে মেনে নিয়েছি। এখন আমার পালা।


তোমার বিয়ের পর নতুন সংসারে মনে রেখো—জেতার চেয়ে টিকে থাকাটা বড় ব্যাপার। ঝগড়া হবে, কথা কাটাকাটি হবে। কিন্তু শেষে যেন দরজাটা খোলা থাকে। আমার মতো দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে চলে যেও না।


আমার শেষ ইচ্ছে হলো, তুমি যেন কখনও ভুলে না যাও—আমি তোমার জন্য মন থেকে দোয়া করি। আর হ্যাঁ, তোমার মায়ের কথা যদি কখনও মনে করতে না পারি, তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিও। কারণ তিনিও তোমাকে ভালোবাসতেন, শুধু তার ভালোবাসাটা ছিল একটু অন্যরকম—বেঁচে থাকার তাড়নায় হারিয়ে যাওয়া এক ভালোবাসা।


চলবে...



#তৃতীয়_খণ্ড #বাবা_মেয়ে #ছোটগল্প #বাংলা_সাহিত্য #ভালোবাসাimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 862 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17392। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3494
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (চতুর্থ খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (দ্বিতীয় খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়া&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(প্রথম খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
♦থাইল্যান্ড ভ্রমণের অপূর্ব অভিজ্ঞতা♦ (তৃতীয় খণ্ড ) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঘুম ভাঙলো মনিটরের টিকটিক শব্দে। আজ সেই শব্দটা আর ভয়ের নয়— বরং মনে হলো, এই টিকটিকই আম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
66 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1622 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    80 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    203 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...