Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (দ্বিতীয় খণ্ড)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
14 বার প্রদর্শিত
করেছেন (17,392 পয়েন্ট)   24 ফেব্রুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (দ্বিতীয় খণ্ড)

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬


দূরত্ব আর অপেক্ষা


প্রিয় মামনি,


মা চলে যাওয়ার পর আমার জীবনের একটা বড় অংশ যেন ধসে পড়েছিল। তোমার বয়স তখন মাত্র ছয় মাস। আমি একজন বাবা হিসেবে, একজন মা হিসেবে—সব দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম। কিন্তু মামনি, সত্যিটা হলো—আমি তখন ভেঙে পড়েছিলাম। চট্টগ্রামে আমার কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না। তোমাকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়া অসম্ভব ছিল। তাই আমি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যা আজও আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। তোমাকে চট্টগ্রামে নানুর বাড়িতে রেখে আমি একা ঢাকায় চলে এসেছিলাম।


ঢাকার সেই প্রথম দিনগুলো ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। মগবাজারের একটা ছোট মেস রুমে উঠেছিলাম। ঘরটা ছিল এতটাই ছোট যে, একদিকে শোয়ালে অন্যদিকে দরজা খোলা যেত না। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আমি তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। চট্টগ্রামে তুমি কি কাঁদছ? নাকি ঘুমিয়ে পড়েছ? নানু তোমাকে গল্প শোনাচ্ছেন তো? এই সব প্রশ্ন আমাকে ভেতর থেকে খেতো।


মাসে একবার যখন চট্টগ্রামে যেতাম, তোমাকে দেখে মনে হতো তুমি আমাকে চিনছ না। তোমার চোখে একটা অপরিচিত ভাটা। সেই অনুভূতিটা ছিল এমন—যেন আমি নিজের হৃদয়টা হারিয়ে ফেলেছি। আমি ঢাকায় ফিরে এসে রান্না শিখলাম। প্রথম দিনে ভাতটা একদম পুড়ে গিয়েছিল, ডালে লবণের পরিমাণ বেশি হয়ে গিয়েছিল। একা বসে সেই ভাত খেতে খেতে চোখের জল পড়ে যেত। কাপড় ধোয়া শিখলাম। বারান্দায় তোমার ছোট ছোট জামাটা শুকিয়ে রাখতাম। ওগুলোর রঙ দেখলেই তোমার গায়ের গন্ধ মনে পড়ত।


তুমি যখন "অ আ ক খ" শিখছিলে, তখন আমি ঢাকা থেকে চিঠি লিখে পাঠাতাম। তুমি নানুর কাছে সেই চিঠি পড়তে। একবার ফোনে তুমি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলে—"আব্বু, আমি 'ক' লিখতে পারছি না, 'ব' হয়ে যাচ্ছে।" সেদিন অফিসের টয়লেটে গিয়ে আমি অনেকক্ষণ কাঁদি। আমি ধৈর্য হারাইনি, মামনি, কিন্তু নিজেকে অসহায় মনে হয়েছিল। আমি চাইতাম তোমার হাত ধরে পেন্সিলটা ধরিয়ে দিই, কিন্তু দূরত্বটা আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি।


স্কুলে যাওয়া শুরু করলে প্রতি শুক্রবার বাসায় যেতাম। তুমি বড় হচ্ছিলে, তোমার কথায় একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করলে—"আমার কি মা নেই?" তুমি তখন চার বছরের। আমি থতমত খেয়ে গিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম—"আছে, শুধু দূরে।" সেদিন তুমি আমার গলা জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলে। সেই কান্নাটা আমার বুকের গভীরে একটা ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। আমি বুঝতে পারলাম, আমাদের দুজনের কষ্ট এক হয়ে গেছে। মানুষ সবসময় জেতে না, কখনও ভেঙে পড়ে। কিন্তু ভালোবাসার জন্যই মানুষ আবার উঠে দাঁড়ায়।


তুমি ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার খবরটা যখন দিলে, আমি অফিসে বসেই চিৎকার করে কেঁদেছিলাম। সহকর্মীরা অবাক হয়ে দেখেছিল। এই কঠোর, নিরব মানুষটা কাঁদছে কেন? কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, ওই একটা খবরে আমি আমার সারাজীবনের অপমান আর হতাশা ধুয়ে মুছে ফেলেছি। তোমার সাফল্যই ছিল আমার একমাত্র শক্তি।


তুমি বড় হলে, শক্ত হলে। একদিন তোমার নানু ফোন করে বললেন, তুমি বাড়ির লোকজনকে বলেছ—"নতুন মা আসবে, কিন্তু আমার বাবার বছরগুলো কে ফিরিয়ে দেবে?" সেদিন বুঝেছিলাম, আমি একা নই। আমাদের সম্পর্কের ভেতর এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে, যা হাজার মাইল দূরত্বকেও জয় করতে পারে।


আজ তোমার বিয়ের কথা চলছে। তুমি নতুন জীবনে যাবে। আমার ভয় নেই, কিন্তু একটা আকুতি আছে। আমি যেভাবে ভুল করেছি, তুমি যেন সেই ভুলগুলো না করো। কথা বন্ধ করো না, দূরত্ব তৈরি করো না। প্রেমের বিয়ে হোক বা পরিবারের—সংসার টিকিয়ে রাখতে হলে কথা বলতে হয়, বোঝার চেষ্টা করতে হয়। আমার মতো একা লড়ে যেও না।


চলবে...




#দ্বিতীয়_খণ্ড #বাবার_চিঠি #জীবনের_পাঠ #বাংলা_গল্প #ভালোবাসাimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 862 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17392। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3493
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি (চতুর্থ খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(তৃতীয় খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মেয়ের কাছে তার বাবার চিঠি(প্রথম খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
♦থাইল্যান্ড ভ্রমণের অপূর্ব অভিজ্ঞতা♦ (দ্বিতীয় খণ্ড) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাতের চামচ ধরার মতো জোরও পেলাম না। গলার মধ্যে থাকা নলটি (ভেন্টিলেশন) খোলার পর কিছুট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
60 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1622 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    80 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    203 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...