যদি দগ্ধভাষী জানতো তার কথা সামনের মানুষটিকে কতটা দগ্ধ করে দিচ্ছে! তার কথাগুলো যে তপ্ত শলাকায় রূপান্তরিত হয়ে সামনে বসে থাকা মানুষটির হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করছে, সে যদি তা দেখতে পেত! যদি সে দেখতে পেত সেই হৃদয়ের অদৃশ্য রক্তক্ষরণ, তবুও কি সে এমন কথা বলতে পারত?
যদি নিন্দুক জানতো তার কথায় আড়ালে থাকা লোকটি কতটা মানসিক যাতনা অনুভব করে, তবুও কি সে পরচর্চায় লিপ্ত হতে পারত?
যদি মালিক জানতো তার রূঢ় আচরণে তার কর্মচারীটি কতটা কষ্ট পেয়েছে, কতটা অশ্রু ঝরিয়েছে আড়ালে! সে যদি মালিক না হয়ে একজন সাধারণ কর্মচারী হতো, সে কি পারতো এই অপমানের ভার বহন করতে?
যদি চোর জানতো তার চুরিকৃত সম্পদের মালিক কতটা হতাশায় ভুগছে, দুশ্চিন্তাগুলো তাকে ভেতর থেকে কীভাবে কুরে কুরে খাচ্ছে—তবুও কি সে অন্যের পরিশ্রমে হাত দিতে পারত?
যদি ডাকাত জানতো, কেড়ে নেওয়া সম্পদটুকু তার মালিকের কাছে কতটা জরুরি ছিল! হয়তো সে এই অর্থটুকু অনেক কষ্টে জোগাড় করেছিল তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য; হয়তো সামান্য কিছু সঞ্চয় জমিয়েছিল তার প্রিয়তমার মুখে হাসি ফোটাতে। সব জানার পর কি সে পারতো এত নিষ্ঠুর হতে?
হে আল্লাহ! আমাদের মাধ্যমে যেন এমন কোনো কাজ না হয়ে যায়, যা তোমার অন্য বান্দাদের কষ্টে ফেলে। তুমিই আমাদের রক্ষা করো । আমীন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।