ব্রাত্যদেবের তেজ ও আত্মজাগরণ
মুক্ত থাকুক চর্ম আমার, বাক হোক মোর মধুমতী,
ইন্দ্রিয়পালক মনের টানে জাগুক প্রাণের শুভগতি।
কর্ণ শুনুক কল্যাণবাণী, নেত্রে থাকুক গরুর দৃষ্টি,
ঔষধিগুণে বাণী মোর হোক অমৃতসম সুধাসৃষ্টি।
আপন জনের শ্রেষ্ঠ হবো, মস্তক সম উচ্চ শির,
যজ্ঞ-মূর্ধা ত্যাগ না করুক, চিত্ত থাকুক সদা স্থির।
বৃহস্পতি মোর আত্মা স্বরূপ, হৃদয় হোক সমুদ্র গম্ভীর,
বিমোক-ধরুণ ছায়া দিক মোরে, অটুট থাকুক প্রাণের তীর।
ধনের মাঝেও প্রধান হবো, নাভি সম মোর অবস্থান,
মরণশীল এই ভুবনে জাগুক উষার অমরত্ব-গান।
প্রাণ ও অপান ত্যাগ না করুক, সূর্য-অগ্নি করুক রক্ষা,
অন্তরিক্ষের বায়ুর সাথে পূর্ণ হোক মোর সত্যের দীক্ষা।
ব্রাত্যদেব সে রাজসিক রূপে প্রজাগণের অন্ন হলো,
সভা-সমিতি-সেনার মাঝে বিজয়-প্রদীপ জ্বলে রলো।
জ্ঞানীর আদেশ অমান্য হলে আহুতি হবে ব্যর্থ-দান,
বিদ্বান ব্রাত্যের আজ্ঞা পেলে দেবতারা পান সম্মান।
প্রজাপতিরে দিলেন প্রেরণা স্থিতি-লয়ের সেই স্বামী,
ব্রহ্মা-তপ ও সত্য হলো তাঁরই রূপে অনুগামী।
নীল-লোহিতের অজেয় শক্তিতে বিদ্ধ হবে দ্বেষী,
মহাদেব সম সেই তেজে হবে সকল আঁধার বিনাশী।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।