আজকাল ফেসবুকে ঢুকলেই ফেসবুক মুজতাহিদ দেখা যায়, এসব ফেসবুক মুজতাহিদ আবার জীবনে চোখ দিয়ে কোনো উসূলে ফিকহের কিতাব পরেছে নাকি সন্দেহ । চ্যাট জিটিপি যাদের শায়েখ তাদের কাছ থেকে চটি ফতোয়া পাওয়া যাবে এটা স্বাভাবিক ।
আমাদের ছা গু মার্কা আপু তার মতের পক্ষে তার শায়েখ চ্যাট জিটিপি এর থেকে কিছু জোরাতালি দলীল নিয়ে এসেছে। নারীরা বাহিরে কাজ করতে পারবে এই মতের পক্ষে প্রথমে কোরআনের নিসা-৩২ নং আয়াত নিয়ে এসেছে। আমাদের চটি ফতোয়াবিদ আপু হয় তো চোখ দিয়ে জীবনে ওই আয়াতের তাফসীর পরে নি। আয়াতে বাংলা উপার্জন শব্দ দেখে মনে করেছে যে এখানে চাকরি করে উপার্জনের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এই আয়াতের শানে নুযূল দেখলো আয়াতের পুরো বিষয়টা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আমি তাফসীর থেকে সরাসরি বিষয়টা পপশ করছি -
যা দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকেও কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ এবং নারীগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ। তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। [১] নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। [১] এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, উম্মে সালামা (রাঃ) আরজি পেশ করলেন যে, পুরুষরা জিহাদে অংশ গ্রহণ করে শাহাদাত লাভে ধন্য হন, কিন্তু আমরা মহিলারা এই ফযীলতপূর্ণ কাজ থেকে বঞ্চিতা। আমাদের মীরাসও পুরুষদের অর্ধেক। এই কথার ভিত্তিতে এই আয়াত নাযিল হয়। (মুসনাদ আহমাদ ৬/৩২২) মহান আল্লাহর এই উক্তির অর্থ হল, তিনি তাঁর কৌশল অনুযায়ী পুরুষদেরকে শারীরিক যে শক্তি দান করেছেন এবং যে শক্তির ভিত্তিতে তারা জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ দান। এগুলো দেখে নারীদেরকে পুরুষদের যোগ্যতাধীনের কাজ করার আশা করা উচিত নয়। অবশ্যই তাদের আল্লাহর আনুগত্য ও নেকীর কাজে বড়ই আগ্রহের সাথে অংশ গ্রহণ করা উচিত। তারা ভাল কাজ যা কিছু করবে পুরুষের ন্যায় তার পুরো পুরো প্রতিদান তারাও পাবে। এ ছাড়া তাদের উচিত, আল্লাহ নিকট তাঁর অনুগ্রহ কামনা করা। কারণ, নারী-পুরুষের মধ্যে কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা এবং শক্তিমত্তার যে ব্যবধান, তা হল মহাশক্তিমান আল্লাহর এমন অটল ফায়সালা, যা কেবল কামনা করলেই পরিবর্তন হয়ে যায় না। তবে তাঁর অনুগ্রহে শ্রম ও উপার্জনের যে ঘাটতি, তা দূর হয়ে যেতে পারে। ( তাফসীরে আহসানুল বয়ান)
এখন আপনারাই বলুন এই আয়াতে কি সত্যিই নারীদের চাকরি করে টাকা উপার্জন এর কথা বলা আছে?
তারপরে সে নাহল -৯৭ নং আয়াতকে দলীল হিসাবে নিয়ে এসেছে, আয়াতে সৎ কর্ম কথা দ্বারা সে নারীদের চাকরি বা বাহিরে কাজ করার দলীল পেয়ে গিয়েছেন বাহ চমৎকার ।
তার দলীলদের মমার্থটা ঠিক এরকম যে -
" হাদীসে বলা আছে ( স্ত্রী ) সহবাস বৈধ" এখন কিছু মালখোর( ঠিক এই পোস্ট কারী চটি ফতোয়াবিদ আপুটার মতো) এখান থেকে দলীল নিলো যে সহবাস করলে যেহেতু সওয়াব তাই বিয়ের আগে জিএফকে চু দাও সওয়াবের... "
এখন আপনারাই বলুন এই কিয়াস কি ঠিক? উত্তর হবে না, আমাদের এি চটি ফতোয়াবিদ তার শায়েখ চ্যাট জিটিপিএর থেকে ঠিক একই কিয়াস নিয়েছে...। সৎ কর্ম দ্বারা হালাল পেশা অন্তভুক্ত বুঝলাম, কিন্তু এখানে যে নারীদেরও বাহিরে গিয়ে উপার্জনও হালাল কর্ম এটা কয় বলা আছে?। সালাফদের ফাহম বাদ দিয়ে চ্যাট জিটিপি এর ফাহম নিয়ে চললে সোজা বু কা চুদা নাম্বার ওয়ান লিস্টে চলে যেতে হবে.....
তারপর সূরা কাসাস-২৩ আয়াতের ছোট একটাঅংশ দিয়ে দলীল নেয়ার চয়েস করল যে নারীরা বাহিরে কার্জ করে উপার্জন করতে পারবে...
তো এই ছাগু আপুকে আমি বলতে চাই যে তার শায়েখ চ্যাট জিটিপি যে আয়াত দিয়েছে তা মূসা নবীর কাহিনীর এক অংশ। মূসার উম্মতের শরীয়ত এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর শরীয়ত এক নয়। তবে ধরে নিলাম এই আয়াত উম্মতে মুহাম্মীর কথা বলা হচ্ছে , তাও এটা দ্বারা প্রমাণ হয় যে নারীরা বাহিরে কাজ করে উপার্জন করতে পারবে কেননা এখানে যে দু-বোনেরা যে ছাগল নিয়ে কূপের কাছে এসে ছিল সেগুলো তাদের নিজ ছাগল ছিল এবং তারা তাদের ছাগলগুলোকে পানি পান করাতে এসেছিল কিন্তু সেকানে পুরুষরা ছিল বলে তারা সেকানে যেতে পারছিল না..... অর্থাৎ এইখানে তাদের তাদের নিজেদের গৃহস্থালি গবাদি পশু এর লালন পালনকে বুঝানো হয়েছে, পরপুরুষ বসের আন্ডারে কাজ করে বসের বিছানা গরম করার চাকরির কথা বুঝানো হয় নি.......
তারপরে সে বা খাদিজাএর ব্যবসায়ের উদাহরণ নিয়ে এসেছে। আমি অনেক হিজাবি ফেমিনিস্টদের এই কাজটা করতে দেখেছি যারা মা আয়েশা এর ব্যবস্যা করার বিষয়টা উল্লেখ করে নারীদের জন্য ঘরের বাহিরে গিয়ে চাকরি করার বৈধতা দিয়ে থাকে.... ।
একানে বুজার বিসয় হলো মা খাদিজা যখন ব্যবস্যা করত তখন রাসূল সাঃ এী নবুয়তের সময় ছিল না বরং তা জাহেলি যুগই ছিল। আর জাহেলি যুগে কোন নারী কি করল তা আমাদের দেখার বিষয় না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো রাসূল সাঃ কে বিয়ের পর মা খাদিজা সকল দায়িত্ব নবীর উপর দিয়ে তিনি সংসারের কাজে লেগে পরেন...
হিজাবি ফেমিনিস্টগুলো শুধু মা খাদিজা এর জাহেলি যুগের ব্যবস্যা এর কথা উদাহরণ হিসাবে হিয়ে আসে কিন্তু নবী সাঃ এর সাথে বুয়ের পর তিনিযে তার ব্যবস্যা থেকে সরে আসেন সেটা বলে না...... । মা খাদিজার ব্যবস্যার উদাহরণ এসব হিজাবি ফেমিনস্টদের বাহিরে চাকরি করার পক্ষের প্রমাণ না আরং বিপক্ষের প্রমাণ কেননা নবীর নবুয়তের সময় তিনি তার ব্যবস্যা থেকে নিজেকে ইনকার করে ছিলেন, অর্থাৎ ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক তিনি তার কাজ থেকে সরিয়ে নিয়ে ছিলেন...... আর আমাদের ব্যাঙ্গু চটি আপুরা বিয়ের পর ঘর সলসার বাদ দিয়ে বসের বিছানা গরম করার জন্য চাকরির জন্য উঠে পরে লাগে......
এখন আপনারাই বলুন এসব চ্যাট জিটিপি শায়েখের মুরিদগুলোর ব্যাপারে কি বলা যায়?
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।