পোস্টমর্টেম_অফ_আহলে_কোরআন
সিরিজ পর্ব-২
[ লেখাটা সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইলো ]
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লক্ষ্য করুন screenshots টা। এই লোকটা আমাকে আর দশ জনের মতো মনে করেছে। আম কোনো মুসলিম এর সাথে কেনো গ্রুপে তর্কাতর্কি করে হারিয়েছে তাই সে ভেবে নিয়েছে সবাইকে সে হারাতে পারবে। সে এতদিন সঠিজ জায়গাতে পরে নি তাই বুঝতে পারে নি কয় ধানে কয় চাল৷ গুরু সব সময় গুরুই থাকে তা আজ একে বুঝিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ।
শুরুতেই সে আমাকে প্রশ্ন করে, আমরা জানি যে হাদীসে দাজ্জাল সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং আরও বলা হয়েছে যে তার চোখ কানা থাকবে। এখন কথা হলো কোন চোখ কানা? এক হাদীসে ডান এবং আরেক হাদীসে বাম চোখ কানা বলা হয়েছে, প্রশ্ন হতে পারে এটা কি বৈপরীত্য?? আমি বলব না একদইম না! হাদীসে ক্ষেত্র বিশেষ বলা হয়েছে। দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে ( ইবনে মাজাহ-৪০৭১) যে রেওয়াত এসেছে তাও সঠিক এবং ডান চোখ কানা হবে( সহীহ মুসলিম-৭২৫১) এটাও সঠিক, হাদীসে আরবিতে শব্দ এসেছে আউর বা আউরা, আউরা বলতে প্রত্যেকটা ক্রুটিযুক্ত বস্তুকেই উদ্দেশ্য করা হয়। ডান চোখ জ্যোতিশূন্য ক্রুটি আছে আর বাম চোখে হালকা নষ্ট ক্রুটি আছে অর্থাৎ দুটোই ক্রুটি যক্ত তাই হাদীসে দুটোর কথা এসেছে ( ফাতহুল বারী, ৪/৪৮০) ক্ষেত্র বিশেষ এতে। সো বুজা যাচ্ছে যে হাদীসে কোনো বৈপরীত্য নেই বরং এক হাদীস আরেক হাদীসের সম্পূরক হবে। এই তো গেলো তার প্রথম কথার জবাব। দ্বিতীয়তে বলছে যে হায়নার গোস্ত আর উটের মূত্র দুটোই নাকি হাদীসে জায়েজ। সে মিথ্যাবাদী তা তার উক্ত কমেন্টেই বুঝেছি। প্রথম কথা হাদীস ও কোরআনের মূলনীতি অনুসারে হায়নার মাংস হারাম ( রাদ্দুল মুহতার-৬/৩০৬) আর হাদীসে থাকলেই কোনো কিছু হালাল না বরং তা সুন্নাহ হিসাবে প্রমাণিত হতে হবে। উটের মুত্র খাওয়া জায়েজ এই বিষয়ে কোনো সুন্নাহ বিষয়ক রেওয়াত সালাফ থেকে প্রমাণিত নয়। তবে একটা হাদীস আছে ( বুখারী-১৫০১) যেটা আনাস থেকে বর্ণিত। ওইখানে কিচু ব্যক্তিকে ( যারা মুনাফিক ছিল) তাদরকে উটের মূত্র ও দুধ মিশিয়ে খাওয়াই আর এটা দেখে কিছু মাথা- মোটা মনে করে যে ইসলামে তা জায়েজ। আমি এটা আগেই খন্ডন করেছে তাই এই ব্যাপারে কিছু বলছি না । তো এই গেলো তার দাবি খন্ডন যেটা এই আহলে কোরআন হাদীস নিয়ে করেছিল। আবার সে আমাকে একটা আয়াত এর রেফারেন্স দিয়ে বলে আমি যে মুসলিম তা প্রমাণ করতে, হ্যা আমি তো বাকারা-২৮৫ অনুসারে মুসলিমি, বরং উক্ত আয়াত অনুসারে তোমরা ( আহলে কোরআন বা মুনকারে হাদীসরা) মুসলিম না কারণ উক্ত আয়াতে রাসূল এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে আর তারা শুধু কোরআন মানে হাদীস না , সো উক্ত আয়াত অনুসারে মুসলিম তারা না আমরা ( যারা কোরআন হাদীস দুটোই মানে) । তারপরে আবার আরেকটা আয়াতের রেফারেন্স দেই যা আনআম-১১২, তো ওখানে বলা হয়েছে যে
"আর এমনিভাবেই আমি প্রত্যেক নাবীর জন্য বহু শাইতানকে শত্রুরূপে সৃষ্টি করেছি; তাদের কতক মানুষ শাইতানের মধ্য হতে এবং কতক জিন শাইতানের মধ্য হতে হয়ে থাকে, এরা একে অন্যকে কতকগুলি মনোমুগ্ধকর ধোকাপূর্ণ ও প্রতারণাময় কথা দ্বারা প্ররোচিত করে থাকে। তোমার রবের ইচ্ছা হলে, তারা এমন কাজ করতে পারতনা। সুতরাং তুমি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা রচনাগুলিকে বর্জন করে চলবে"
এই আয়াত দ্বারা সে হাদীসকে বাতিল করতে চাই কারণ ওখানে " শয়তান মনোমুগ্ধকর... " অংশটুকু দ্বারা বুখারী মুসলিম বা সালাফদের বর্ণিত হাদীসকে বুঝিয়েছে , কিন্তু এখনে উদ্দেশ্য হাদীস না বরং নবীজির সময়ে ওসব কাফের মুশরিকদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা নবীজির নামে উল্টা- পাল্টা কথা বলত ( তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া ) । পরবর্তীতে আরেক আয়াত উল্লেখ করে রেফারেন্স হিসাবে যেটা কাহাফ-১১০, সেখানে বলা হয়েছে যে " আল্লাহকে ইলাহ মানতে হবে এবং তার ইবাদত করবে হবে "
আরে বাই আমরা তো আল্লাহকেই ইলাহ মানি আর তার ইবাদত করি। হাদীস মানলে কি অন্য কারো ইবাদত করা হয় তার প্রমাণ কি???
এরা আসলে কি দাবি করে তারা নিজেরাও জানে না
[ এখন থেকে এই সিরিজ এতে আহলে কোরআন বা মুনকারে হাদিসদের বিভিন্ন দাবি রদ করা হবে ইনশাআল্লাহ ]
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।