দি_স্মার্ট_তাফসীর_অফ_মেহেদী
#সংক্ষিপ্ত_আয়াতের_ব্যাখ্যা-৩
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লাকাদ ( নিশ্চয়ই ) খালাকনাল ( আমরা সৃষ্টি করেছি)
ইনসানা ( ইনসান মানে মানুষ ; ইনসান থেকে ইনসানা মানে মানুষকে) ফী ( মধ্যে) আহসানি ( সুন্দরতম) তাকউ্বউয়ীম ( গঠন,আকার)
বঙ্গানুবাদ " নিশ্চয় আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি
সুন্দরতম গঠনে ( রুপে)" ( সূরা ত্নীন-৪)
আমাদের যে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমাদের হাত। আজ আমরা বড় বড় বিল্ডিং করছি পাহাড় কেটে রাস্তা বানাচ্ছি শুধু এই হাতের ক্ষমতাতে। কারিগর তার হাতের ছুয়াতে পিরামিড ও তাজমহলের মতো যুগান্তকারী ইমারত সৃষ্টি করেছে। অতএব বিনা সন্দেহে আমরা সুন্দরতম আকৃতিতে গঠিত। আশা করি কথা ক্লিয়ার। এখন আসি একটা পয়েন্টে।
আমাদের অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে
আসলে মানব মন এক অদ্ভূত বিষয়
আজ পযন্ত না কেও এই মনকে ছুঁয়েছে না দেখেছে
তবুও মানুষের সকল জানার রস হলো এই মন
হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ প্রশ্নের একটা প্রশ্ন হলো
"কেন আমি কালো হলাম"
বা' আল্লাহ রব্বুল আলামীন কেন আমাকে কালো করে তৈরি করলেন???
যারা এই প্রশ্নটা করে তাদের জন্যই হয় তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন সূরা ত্বীন এর চার নাম্বার আয়াতটা নাযিল করেছেন।
পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ রব্বুল আলামিন একবারের জন্যও বলে নায় যে আমাকে বা আপনাকে
নিকৃষ্ট ভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, বরং বলা হয়েছে যে " আল্লাহ রব্বুল আলামিন সমগ্র মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছে সুন্দরতম গঠনে সুবহানাল্লাহ।
এখন প্রশ্ন হলো???
যদি সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করে থাকে তাহলে
আমি ( মানুষ) কেন কালো হয়?? এর পিছনে হিকমাই বা কি???
বর্তমান যুগ যেহেতু বিজ্ঞানের যুগ তাই উত্তরটা বিজ্ঞান থেকেই জেনে আসবো, কি বলেন আপনারা
আর হ্যা যারা বিশ্বাসি তাদের জন্য বৈজ্ঞানিক কারণ না থাকলেও চলবে কারণ সূরা ত্বীন চার আয়াতটাই যথেষ্ট, তবুও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোণ থেকে এটা এই কারণে বলছি যে ' মানুষ যেন বুঝতে পারে কেন ও ফর্সা আর আমি কালো
তো চলুন শুরু করা যাক প্রিয় বন্ধুরা
মানুষের গায়ের রং কালো ও ফর্সা হওয়ার জন্য অনেক কারণ রয়েছে, এর মধ্যে কিছু কারণ হচ্ছে:
১. বংশগত কারণ। যেমন ধরুন বাবা-মায়ের গায়ের রং যদি কালো বা ফর্সা হয় তাহলে সন্তানের গায়ের রং কালো বা ফর্সা হওয়ার চান্স অনেকখানি থাকে।
২. সূর্যের সংস্পর্শে বেশি থাকলে। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নির কারণে গায়ের চামড়া পুঁড়ে, কালো রং ধারণ করে।
৩. জলবায়ু ও পরিবেশের কারণ। বিভিন্ন স্থানের জলবায়ুর তারতম্যের কারণে গায়ের রং কালো বা ফর্সা হয়ে থাকে।
৪. অতিরিক্ত বিশেষ ধরনের পানীয় পানের কারণেও হয়ে থাকে। যেমন: চা বা কফি। এগুলো মাত্রাতিরিক্ত পানের জন্য গায়ের রং কালো হয়ে যায়।
★ এ তো গেল নরমাল কারন,এখন আসি প্রধান কারণে
আমরা জানি যে মানুষের দেহের একক হলো কোষ
আমাদের সমগ্র দেহ কোষ দ্বারা গঠিত, শরীলে যেমন অনেক ধরনের টিস্যু পাওয়া যায়, ঠিক তেমি আমাদের এই মানবদেহে অনেক রকমের কোষ আছে, এরকম একটা কোষ হলো মেলানোসাইড কোষ। আমাদের দেহের দুটো স্তর আছে
১. বহিঃস্তর
২. অন্তঃ স্তর
এই মেলানোসাইড কোষ গুলো থাকে চামড়ার নিছের অংশে, মানে অন্তঃস্তরে। আর এই কোষে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়, যার মেলানিন
এই মেলানিন এর কারণে মানুষের গায়ের রং কালো বা ফর্সা হয়ে থাকে
জানেন কেন হয় আর কীভাবে হয়??? ( এখানেই চিন্তার বিষয় প্রিয় বন্ধুরা)
আমরা জানি যে সূর্য থেকে অনেক রশ্মি নির্গত হয়, তার মধ্যে একটা রশ্মি হলো অতি বেগুনি রশ্মি, সাধারণ তো আমাদের পৃথিবীর অজন স্তর এসব রশ্মি সহ মহাজাগতিক বহু পদার্থকে প্রতিহত করে, কিন্তু তবুও কিছু রশ্মি দুনিয়ার ভিতরে প্রবেশ করে, আর এই রশ্মি যদি প্রতিনিয়ত আমাদের শরীলে প্রবেশ করে তাহলে স্কিন ক্যানসার হবে
সাধারণ তো
যেসব এলাকায় রৌদ্রের তাপ বেশি, সেইসব এলাকায় আল্টা - ভায়োলেট রশ্মির পরিমাণটাও বেশি, আর এই অতি বেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করার জন্য তখন মেলানোসাইড অধিক পরিমাণে মেলানিন তৈরি করে, যা দেহকে কালো করে
আর দেহ যখন কালো হয় তখন আর অতি বেগুনি রশ্মি প্রবেশ করতে পারে না, এটা আবহাওয়া ও এলাকা ভেদে হয়ে থাকে
খেয়াল করে দেখবেন যে আফ্রিকার মানুষ কালো হয় অনেক, এর কারণ হলো সে দেশে গরম বেশি আর অতি বেগুনি রশ্মির মাত্রাও বেশি, আর এই অতি
বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে তাদের শরীল কালো হয়।
★ আবার খেয়াল করুন শীতপ্রধান দেশগুলো, সেখানে গরম কম আর অতি বেগুনি রশ্মির মাত্রাও কম, আর তাূের তেম প্রটেক্ট এর দরকার পরে না, যার কারনে অনেক কম পপরিমানে মেলানিন নির্গত হয়, আর তারা কালোও হয় না বরং ফর্সা হয়।
আর এই মেলানিন হলো এসবের মূল কারণ
আশা করি বিষয়টা বুঝেছেন
চিন্তা করুন তো, যদি এই মেলানিন না থাকতো তাহলে আমাদের কি দশা হ তো, লেকার শুরুতে বলেছিলাম যে অতি বেগুনি রশ্মি শরীলে ক্যানসার কোষ সৃষ্টি করতে পারে
যদি এই মেলানিন না থাক তো তাহলে তো ওইসব মানুষগুলো ক্যানসারে মারা যে তো যারা সারাটা দিন র রৌদ্রে কাজ করে। তখন তো তাদেরকে প্রটাক্ট করার জন্য মেলানিন থাক তো না, আর শরীলকে কালো রল এর মাধ্যমে কাভার কর তো না, এতে তারা ক্যানসারে মারা যে তো
আমরা জানি যে ক্যসনসার এর উপর নাম মৃত্যু
এখন ক্যানসার ভালো নাকি কালো হওয়া??
[ আবার অনেক সময় ভিটামিন ডি তৈরিতেও সহায়তা করে, যাদের শরীল ভিটামিন ডি উৎপাদন করতে পারে না বা ধারন করতে পারে না, তারা তখন রৌদ্র এর থেকে ভিটামিন ডি ধারন করার জন্য মেলানিন নির্গত করে আর গায়ের রং কালো হয়, ভিটামিন ডি যে কত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ সেটা আশা করি আপনাদের এখন বুঝাতে হবে না ]
এখন কি বুঝতে পারছেন কেন কিছু মানুষ কালো আর কিছু মানুষ ফর্সা হয়
যদি এমনটা না হ তো তাহলে কি দশাটাই নাহ তো
এখন প্রশ্ন হতে পারে যে ফর্সা মানেই কি সুন্দর আর কালো মানে কি খারাপ??? উত্তর হলো না একদমই না। কালো ফর্সা বলতে কোনো কনসেপ্ট প্রকৃতিতে নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা মায়ের গর্ভে যে জরায়ুতে ছিলাম তা ছিল কালো অন্ধকার। আর মৃত্যুর পরে চলে যাবো কালো অন্ধকারে। অর্থাৎ কালোতেই শুরু কালোতেই শেষ তাই এই কালো রং কখনো খারাপ হতে পারে না। আশা করি কথা ক্লিয়ার
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, ।
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে_3_মেহেদী
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।