যদি আমাকে প্রশ্ন করেন একই কোরআন পড়ে কেও হেদায়েত পাচ্ছে আবার কেও গোমরাহ হচ্ছে এর পিছনে আসলে রহস্য কি? একই কোরআন পড়ে কেনো লক্ষ কোটি মানুষ মুসলিম হচ্ছে বা গোমরাহ থেকে হেদায়েত পাচ্ছে আবার সেই কোরআন পড়ে কেন হাজার হাজাড় মানুষ নাস্তিক বা গোমরাহ হচ্ছে ? এর পিছনে আসলে রহস্যটা কি?
তো আমার কাছে এটার দুটো জবাব আছে। এর মধ্যে প্রথম জবাব হলো " নিয়ত বিশুদ্ধ না হওয়া..."।
আল্লাহর রাসূল বলেন-
প্রত্যেক কর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীল, যে যেরকম নিয়ত করবে সে রকম ফল পাবে ( বুখারী-১)
যারা হেদায়েত পাওয়ার জন্য কোরআনটা মন থেকে পড়ে এবং কোরআনের সকল আয়াতের মর্মার্থ অনুধাবন করার চেষ্টা করে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাদের হেদায়েত দান করুক এবং তাদের হেদায়েতের পথ সহজ করে দেন। তাের দিলকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন।
আর যারা কোরআন পড়ে ভুল ধরার জন্য, কোরআনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার জন্য এবং এরকম বদযত নিয়ত আছে সেসব নিয়ত নিয়ে কোরআন পড়ে তাহলে আল্লাহ তাদের পথভষ্ট করে দেন।
লক্ষ করবেন যে নাস্তিকরা বার বার কোরআনের বৈপরীত্যে আছে বলে বলেদাবি করে, কোরআনে বৈজ্ঞানিক ভুল আছে বলে দাবি করে আবার কথার পক্ষে প্রমাণও পেশ করে। তো একজন মোমিন যখন তাদের দাবি প্রমাণগুলো দেখে তখন সে নাস্তিক বা গোমরাহ ব্যক্তির ভুলটা সহজে ধরে ফেলতে পারে, কারণ মেমিন ব্যক্তি জানে কোন আয়াতের কি মর্ম এবং আয়াতের প্রকৃত রহস্য বা উদ্দেশ্য কি।
আর এই জন্যই আমাদের নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা উচিত, যদি নিয়ত বিশুদ্ধ রাখেন এবং সত্য খুঁজার চেষ্টা করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনি হেদায়েত পাবেন। আর যদি বদ নিয়ত নিয়ে কোরআন পড়েন তাহলে কখনো কোরআনের আয়াতগুলোর উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারবেন না, এবং আপনি গোমরাহ বা নাস্তিকই থেকে যাবেন......
তাই আমার সকল দ্বীনি ভাই ও বোনদের প্রয়োজন এবং একই সাথে নাস্তিক ও বিদর্মী ভাই বোনদের বলব যে আপনারা খাস নিয়তে সহীহ ভাবে কোরআনটা একবার পড়ে দেখুন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করবেন.....
এই তো গেলো প্রথম কারণ! দ্বিতীয় কারণটা না হয় আপাতত নাই বললাম.......
[ এর বাহিরেও অনেক কারণ আছে, আমি একটা কারণ পেশ করলাম শুধু.....]
শেষ করছি একটা হাদীস দিয়ে। হযরহ মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
" আল্লাহ এই কিতাবের ভিত্তিতে কিছু লোকের উথান ঘটাবেন, আর এরই ভিত্তিতে কিছু লোকের পতন ঘটাবেন.. "
( মুসলিম-৯৯৬)
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।