কোরআন থেকে কবরের আযাব হওয়ার দলীল
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
জাহেলগুলো সব সমই জাহেলই হয়। এসব মুনকারে হাদীসগুলো যে হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞ তাকে তা জানতাম, কিন্তু এখন দেখি এরা কোরআন সম্পর্কেও অজ্ঞ ! । যাইহোক আমি সরাসরি পয়েন্ট এতে যাচ্ছি। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
" আগুনের সামনে তারা সকাল-সন্ধ্যা উপস্থাপিত হয়। আর যেদিন কিয়ামত হবে, সেদিন বলা হবে, ফেরাউনের লোকদেরকে কঠিনতম শাস্তিতে নাও"( কোরআন- ৪০/৪৬)
এই আয়াতের মধ্যে বলা হচ্ছে যে সকাল সন্ধাতে আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়, আর এই কাজটা হয় দুনওয়াতে, কেননা পরের অংশে কিয়ামত এর কথা এসেচে, যা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে এইটা দুনিয়াতেই হচ্ছে । আর দুনিয়াতে এই শাস্তিটা কবরের মধ্যেই দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কবরে যে আজাব দেওয়া হয় তা সরাসরি এই আয়াত থেকে সাবিত হলো। আর সকল মুফাসসির এই আয়াত থেকে কবরের আযাবের দলীল নিয়েছে। দেখুন, উক্ত আয়াতের তাফসীর-
তাফসীরে আহসানুল বয়ান
তাফসীরে ইবনে কাছীর
তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ
তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া
তাফসীরে মাআরিফুল কোরআন
দ্বিতীয় দলীল-
আমরা তাদেরকে দুইবার শাস্তি দেবো, তারপর তারা ফিরে যাবে মহা আজাবে ( কোরআন-৯/১০১)
এই আয়াতে মহা আযাব ( জাহান্নামের শাস্তি) এর আগে দু- বার শাস্তি এর কথা বলা হয়েছে। আর এর এক শাস্তি দুনিয়াতে আরেক শাস্তি মৃত্যুর পর কবরে ( এই বিষয়ে ইখতেলাফ আচে এই বিষয়ে...) অর্থাৎ এই আয়াত থেকেও কবরের আযাব সাবিত হয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন তাফসীরে ইবনে কাছীর।
তৃতীয় দলীল -
"আর যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা বলে, ‘আমার নিকট প্রত্যাদেশ (অহী) হয়’, যদিও তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় না এবং যে বলে, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, আমিও ওর অনুরূপ অবতীর্ণ করব’, তার চেয়ে বড় যালেম আর কে? যদি তুমি দেখতে পেতে (তখনকার অবস্থা), যখন (ঐ) যালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে, আর ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, ‘তোমাদের প্রাণ বের কর। আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দান করা হবে; কারণ তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে অন্যায় বলতে ও তাঁর আয়াত গ্রহণে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে"( কোরআন -৬/৯৩)
'যালেম' বলতে প্রত্যেক যালেমকে বুঝানো হয়েছে এবং এর মধ্যে আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকারকারী ও নবুঅতের মিথ্যা দাবীদারগণ সর্বপ্রথম শামিল থাকবে। غَمَرَاتٌ থেকে মৃত্যু-যন্ত্রণাকে বুঝানো হয়েছে। 'ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে' অর্থাৎ, জান কবয করার জন্য। اليَوْمَ (আজ) অর্থাৎ, জান কবয করার দিন। আর এই দিন হল আযাব শুরু হওয়ার সময়; যার প্রথম স্থান হল কবর। আর এ থেকে এ কথাও সুসাব্যস্ত হয়ে যায় যে, কবরের আযাব সত্য। তা না হলে হাত বাড়ানো এবং প্রাণ বের করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সাথে এ কথা বলার কোন অর্থ থাকে না যে, আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে। স্মরণ থাকে যে, কবর বলতে উদ্দেশ্য বারযাখী জীবন। অর্থাৎ, ইহজগতের জীবনের পর এবং পরজগতের জীবনের (কিয়ামত ঘটার) পূর্বে এটা একটি মধ্যজগতের জীবন। যার সময়কাল হল, মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত। এটাকে বলা হয় বারযাখী জীবন। চাহে তাকে কোন হিংস্র পশু খেয়ে নিক অথবা তার লাশ সামুদ্রিক তরঙ্গ-কবলিত হোক কিংবা জ্বালিয়ে ছাই করে দেওয়া হোক বা কবরে দাফন করা হোক। মরণের পর এ হল বারযাখী জীবন, যেখানে আযাব দেওয়ার শক্তি মহান আল্লাহর আছে। [২] আল্লাহ সম্বন্ধে অন্যায় বা অসত্য বলার মধ্যে কিতাব অবতীর্ণ হওয়া ও রসূল প্রেরণের কথা অস্বীকার এবং নবী হওয়ার মিথ্যা দাবী করার কথাও শামিল আছে। নবুঅত ও রিসালাতের অস্বীকার এবং তা মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার ব্যাপারটাও অনুরূপ। এই উভয় কারণের ভিত্তিতে তাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে। ( তাফসীরে আহসানুল বয়ান থেকে সম্পূর্ণ টুকু এখানে দিয়ে দিয়েছি....)
তো এই তিন আয়াতের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে কোরআনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কবরের আযাবের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহ রাসূল সাঃ সুস্পষ্ট ভাবে বলেছে যে কবরের আযাব সত্য ( বুখারী) আর আল্লাহর নবী যা বলেন তাও সত্য ( নাজম-৩ ও ৪ নং আয়াত)
অতএব যারা কবরের আযাবে বিশ্বাস করবে না তারা কোরআন ও হাদীস দুই বিষয় অনুসারেই কাফের.....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।