Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

ই-নলেজ আইডিয়া

আপনার লেখার কি আছে নিজস্ব পরিচয়, স্বীকৃতি ও স্থায়ী ঠিকানা?

Author ID, স্বতন্ত্র eID, লেখার পরিচয় যাচাই, জীবন্ত পোর্টফোলিও ও ফ্রি প্রমোশন—লেখালেখির পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম।

বিস্তারিত পড়ুন ↓

আমাদের মনের ভেতর প্রতিদিন কত শত ভাবনা আসে, কত অনুভূতি জন্ম নেয়, কত কথা কাউকে বলতে ইচ্ছে করে! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। কিছু কথা কাউকে বলা হয় না, কিছু অনুভূতি ভাষা খুঁজে পায় না, আবার কিছু ভাবনা মুহূর্তের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় চিরতরে।

অথচ সেই ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন একটি সুন্দর গল্প হয়ে উঠতে পারত, একটি কবিতা হয়ে কারও হৃদয় ছুঁতে পারত, কিংবা এমন কোনো লেখা হয়ে উঠতে পারত, যার মধ্যে অন্য কেউ খুঁজে পেত নিজের জীবনের গল্প।

তাই যা কিছু ভাবনায় আসে, তা এক বাক্যে হলেও লিখে রাখা উচিত। কে জানে, আজকের ছোট্ট একটি ভাবনাই হয়তো একদিন আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় লেখাটি হয়ে উঠবে!

আর একটা কথা ভেবেছেন? একদিন হয়তো আপনি অনেক দূরে চলে যাবেন। সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকেও আপনার নাম মুছে যেতে পারে। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া লেখাগুলো আপনার অনুভূতি, চিন্তা ও অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কেউ হয়তো আপনার লেখা পড়ে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাবেন, আপনার অজানা কোনো অনুভূতি বুঝতে পারবেন। আপনি তাঁর কাছে অপরিচিত হয়েও লেখার মধ্য দিয়ে তাঁর অনুভূতির সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন। এটাই তো লেখার এক অসাধারণ ক্ষমতা!

কিন্তু এত সৃষ্টির স্থায়ী ঠিকানা কোথায়?

সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো লেখা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়, আইডির কিছু হলে লেখার সোর্সও মুছে যায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লেখাগুলো ছড়িয়ে থাকায় নিজের লেখক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ পোর্টফোলিও তৈরি করা কঠিন। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখার তারিখ বা তথ্যও পরিবর্তন করা সম্ভব। আবার কেউ লেখা কপি করে নিজের নামে প্রকাশ করলে মূল লেখককেই অনেক সময় নিজের লেখার পরিচয় ও প্রকাশনার উৎস খুঁজে বের করে প্রমাণ করতে হয়।

একজন লেখক কি তাঁর সময় ও শ্রম লেখালেখিতে ব্যয় করবেন, নাকি নিজের লেখার লিংক ফেরি করে বেড়াবেন?

এই সমস্যাগুলোর সমাধানের ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে Enolej Idea। এটি কেবল লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়; লেখকের নিজস্ব পরিচয়, প্রতিটি সৃষ্টির স্বতন্ত্র পরিচয়, লেখার সংরক্ষণ, স্বীকৃতি এবং পাঠকের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার একটি সমন্বিত ডিজিটাল লেখালেখির ইকোসিস্টেম।

১. নিজস্ব লেখক পরিচয় — Author ID

প্রতিটি লেখকের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র লেখক আইডি নম্বর। নিজের লেখক প্রোফাইলে পরিচিতি, প্রকাশিত লেখা ও লেখালেখির পথচলা একসঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন। এই Author ID Bio, CV কিংবা নিজের বইয়েও ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে লেখক হিসেবে আপনার পরিচয়ের জন্য থাকবে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ঠিকানা।

২. প্রতিটি লেখার আলাদা পরিচয় — eID

একজন লেখকের প্রতিটি সৃষ্টির জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র eID। এটি নির্দিষ্ট লেখাটিকে তার মূল প্রকাশনা ও লেখকের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে। মনে রাখবেন, Author ID হলো লেখকের পরিচয়, আর eID হলো নির্দিষ্ট লেখার পরিচয়।

৩. eID Verification System

eID Verified: লেখার সঙ্গে স্বতন্ত্র eID ও মূল প্রকাশনার রেফারেন্স যুক্ত করার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে লেখাটির পরিচয় ও Enolej Idea-তে মূল প্রকাশনার তথ্য তুলে ধরা যায়।

eID Scan: eID Verified চিহ্নযুক্ত লেখা স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডে সংশ্লিষ্ট লেখক, eID ও মূল প্রকাশনার পরিচয় যাচাই করার সুবিধা।

eID Bridge: বাইরের প্রকাশনা বা প্ল্যাটফর্মেও eID ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, যাতে মূল লেখার পরিচয় ও Enolej Idea-তে প্রকাশিত লেখার সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকে।

eID ব্যবস্থা লেখার পরিচয় ও মূল প্রকাশনার তথ্য যাচাই এবং স্বত্বের দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণে সহায়ক। এটি নিজে থেকে আইনি কপিরাইট নিবন্ধনের বিকল্প নয়।

৪. জীবন্ত লেখক পোর্টফোলিও

আপনার সব লেখা এক জায়গায় সাজিয়ে তৈরি করুন নিজের জীবন্ত পোর্টফোলিও। সময়ের সঙ্গে নতুন লেখা যুক্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে আপনার লেখক পরিচয়। পাঠকও সহজেই এক জায়গা থেকে আপনার সব সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

৫. লেখালেখির আরও সুবিধা

সিরিজ ও পর্ব: ধারাবাহিক লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজিয়ে রাখুন, যাতে পাঠক সহজেই পরবর্তী পর্বগুলো খুঁজে পান।

Draft ও Notes: অসম্পূর্ণ লেখা, প্রাথমিক ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নোট সংরক্ষণ করুন।

এক ক্লিকে ই-বুক ও পাণ্ডুলিপি: নিজের প্রকাশিত লেখাগুলো একত্র করে ই-বুক বা পাণ্ডুলিপি তৈরি করুন।

পাঠকের সঙ্গে সংযোগ: মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকুন।

Points, Badges ও Ranking: লেখালেখি ও পাঠক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পয়েন্ট, ব্যাজ ও র‍্যাঙ্কিং অর্জনের সুযোগ।

ফ্রি প্রমোশন ও Google Discoverability: নিজের লেখা ও লেখক পরিচিতি আরও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুরু করতে পারেন আজই।

আপনি নতুন লেখক হোন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন—নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে ভালোবাসলেই শুরু করতে পারেন। প্রতিটি লেখাই অসাধারণ হতে হবে, এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ভাবনাগুলোকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং ধীরে ধীরে নিজের লেখকসত্তাকে গড়ে তোলা।

আপনার ভাবনাগুলো মূল্যবান। সেগুলো শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও যত্ন করে রেখে দিন।

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline] →

Enolej Idea — Write. Preserve. Be remembered.

আমার অসুখলিপি . আলো-আঁধারের আত্মকথন

লেখা যখন কণ্ঠে! শুনতে প্রস্তুত? প্রতি শনি, সোম ও বুধবার | বিকেল ৪টা ▶ FACEBOOK | ▶ YOUTUBE
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
152 বার প্রদর্শিত

মুক্তগদ্য

লেখক: রফিক আতা | সিরিজ আইডি: #148 | পর্ব নং: 1
করেছেন (6,247 পয়েন্ট)   29 ডিসেম্বর 2025 "সাধারণ" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
eID স্ক্যান · লেখাটি যাচাই করা হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন…

.                       আমার অসুখলিপি

.                আলো-আঁধারের আত্মকথন 

.                   🖊️—রফিক আতা—




বিনিদ্র, বিশীর্ণ চোখে অনভ্যস্ত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। কৃত্রিম হাসি আর এলোমেলো, ভঙুর বেঁচে থাকার একরত্মি স্বপ্ন গড়াগড়ি খায় যার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। এখানে স্বপ্নেরা জন্ম নেয় এক বিঘত আশা নিয়ে; কিন্তু বয়স না বাড়তেই থেমে যায় তাদের হাঁটা—যেন জন্ম নিয়েই মরতে শেখে।



এদিকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার যন্ত্রণা বাড়ার আগেই উথলে উঠেছে একশ গজ জ্বরের উত্তপ্ত যন্ত্রণা। সাথে যোগ দিয়েছে ডায়রিয়া, আমাশয়, আর গুটিকয় শারীরিক বিপর্যয় – নামহীন, অথচ নির্মম। পরীক্ষার ঘরে ছিল উত্তেজনার উষ্ণতা, অথচ আমি ছিলাম বাইরে—নিঃসঙ্গ এক নিরুত্তাপ দুপুরে।



হতভাগা রফিক ইয়া বড় ইনজেকশনের অসহ্য ভারে ন্যুব্জ। যদিও ওসব স্রোত ক্যানুলার ফাঁকে বয়ে চলে সমস্ত প্রতিক্রিয়াহীন শরীরে। আমি অনিমিখে তাকিয়ে আছি ছত্রভঙ্গ ধূসর আলো ছড়ানো এক ল্যাম্পপোস্টের দিকে যার মিইয়ে পড়া আলোতে আবছা আবছা ভেসে ওঠে শতাব্দীপ্রাচীন এক ভবনের ছায়া । বড় অক্ষরে লেখা "মর্গ"।



চমকে ওঠার আগেই ধূয়াশার রেশ কেটে যায়। মনে পড়লো—আমি হাসপাতালে ভর্তি। আর এখানে মর্গ, লাশ, চিৎকার, হাহাকার—সবই একান্নবর্তী পরিবারের মতো।



হঠাৎ ভেসে আসে একটি অ্যাম্বুলেন্সের বিষাদ সাইরেন। রাত তখন তিনটা। আমি এখনও জ্বরের আঘাতে আঘাতে পর্যুদস্ত। একটি লা-ওয়ারিশ কুকুর ওয়ার্ডের বাইরে অবিরাম হাঁপাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হলো একটি রক্তাক্ত লাশ। তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মর্গের দিকে। লালপুলের ওদিকে  ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে একটি হাইসের ড্রাইভার। হয়তো লাশের পরিবার এখনো জানতে পারেনি—তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা, তাদের না বলে ওপারের পথ ধরেছে। —জানি না কুকুরটি হাঁপাচ্ছে কেন!



এখানকার প্রতিটি পুরোনো ভবন যেন হাজার বছরের ইতিহাস গচ্ছিত জাদুঘর। যে জাদুঘরে পর্যটক আসে আরও কিছু ইতিহাস রচনা ও সংযুক্ত করতে। এখানকার জানালাগুলো যেন এক একটি নীরব চাহনি ও বিষণ্নতার দর্পণ, যে জানালায় তাকালেই জলে উঠে শত কষ্টের বিষাদ চিরকুট। এখানকার আলো, বাতাস, পাংশু আঁধার—সবকিছুই যেন এক একটি অনলিখিত গল্প; যে গল্পের শুরু আছে, নেই কেবল শেষ।



এমনিতেই আমার ভাবনাগুলো খুব এলোমেলো, খুব অগোছালো। প্রকট জ্বরের উষ্ণ অভ্যর্থনায় যেন তা আরও এলোমেলো, আরও অগোছালো হয়ে পড়েছে। পাশের বেডে একজন রোগী কাতরাচ্ছে একাকীত্বের বিষাদে। মনে হলো, আহ! মানুষ কতো অসহায়!—এই ভাবনা যখন অন্যমনস্ক করছিল, তখনই আবু হুরায়রা এসে রোগীটির মাথার পাশে দাঁড়ালো; যেন একটি হাদীস আপন চোখে জীবন্ত হয়ে উঠলো।



আবু হুরায়রা আমাদের ক্লাসে বেস্ট স্টুডেন্ট। তবুও বিন্দুমাত্র অহংবোধ নেই। সাদামাটা, সহজ-সরল। কিন্তু তুখোড়, চতুর। সারারাত নির্ঘুম আমার মাথায় জলপট্টি বেঁধে এখন প্রভাতে মাদ্রাসার পথে... কারণ তাকে তো পরীক্ষাটা দিতে হবে।



হাসান, আহমাদ মাইমুন—ওরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। সরকারি হাসপাতালে পা রাখাও যাদের জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা। এই দেখ! ইসলাম ও মাদ্রাসার খাতিরে আজ তারা এক নির্মম পরিহাস ও পরিবেশে।আরে হ্যা! আনাস মাহমুদ মাযহার এদের কথা বলতে তো একদমই ভুলে গেছি। যাদের খেদমতেরও কোন জুড়ি ছিলনা।

আমি সেই রাতের নিস্তব্ধ আঁধারের কথাও ভুলবোনা যে  নিশুতিরাতে শাহেদ ভাই এসেছিলো মাদ্রাসা থেকে। অনেকটা গোপনে। অনেকটা আপনে। অতঃপর সারারাত আমার শিয়রে দাড়িয়ে থাকা। নির্ঘুম রজনীতে খেদমতের সৌজন্য এবং প্রভাত উন্মোচনের পূর্বেই মাদ্রাসার পথে কদম রাখা...



عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ:

"حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ..."

"...وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَإِذَا مَاتَ فَاتْبَعْهُ".

(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২১৬২)



অনুবাদ:

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে..."

"...যখন সে অসুস্থ হয়, তখন তাকে দেখতে যাও; আর যখন মারা যায়, তখন জানাযায় শরিক হও।"



আমি নির্দ্বিধায় বলি—এই হাদীসের জীবন্ত ব্যাখ্যা যদি কোথাও দেখিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা আমার অসুস্থতার দিনগুলোতে জামেয়া রশীদিয়া ফেনী করে দেখিয়েছে। জামেয়াকে ভালোলাগার এবং সব থেকে বিচিত্র ও ভিন্ন মনে হওয়ার এটাও একটি কারণ।



মেরি মুহসিন উস্তাদ মাওলানা মুহসিন সাহেবের অকৃত্রিম ইহসানের কথা আমি কোনো দিনও ভুলব না। আসলে রশীদিয়া তাকে একটি খাঁটি স্বর্ণে পরিণত করেছে—যা আজ আমাদের মাঝে সৌন্দর্য-সুষমার অবিরাম বৃষ্টি বর্ষণ করে চলেছে। তার একটা ছেলে অসুস্থ—ছেলে নয়, ছাত্র! আচ্ছা! এতটা যত্ন করতে হবে কেন! একজন শিক্ষককে এতটা মহান হতে হবে কেন! 



অসুস্থ হওয়ার পর বাড়ির পথে নয়, উস্তাদ আমাকে হাসপাতালে পাঠালেন। হয়তো এই ভেবে যে, বাবা-মা যত্ন করবেন, কিন্তু সময় মতো না; আর উনি সময়ের প্রতিটি ক্ষণে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন—যেখানে হৃদয়, দ্বীন আর দায়িত্ব একসাথে মিশেছে।



প্রতিবার হাসপাতালের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে তার উপস্থিতি আমাকে উদ্বেলিত করতো। হৃদয়ে প্রসন্নতার রং মেখে দিতো। বাড়ি ও মা বাবা থেকে সুদুরে থেকেও মনে হতো তাঁদের ছায়া আমার সঙ্গে। 



অসুস্থতার দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় একটি মুহূর্তের কথা, যা আমাকে ভাবিয়েছে, শিহরিত করেছে, এবং আন্দোলিত করেছে সমগ্র শিরা-উপশিরা। যদি তা অনুল্লেখ্য থেকে যায়, তবে তা আমার জন্য হবে এক চরম বোকামি, ও না- শুকরিয়া। রাজশাহীর হুজুর মাও. জয়নুল আবেদীন সাহেব দা.বা.—জামেয়ার একজন প্রবীণ ও মুরব্বি উস্তাদ হিসেবে তিনি সেদিন যে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, আমি কোনো দিন তা ভুলব না।



তখনও আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়নি। বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছি। মনে হচ্ছে কেউ বেদম প্রহার করে যাচ্ছে আমায়। হুজুর কামরায় এসেছেন সাথীদের তাকরারের হালচাল দেখতে। এসে দেখেন, আমি কামরার এক কোণে শুয়ে আছি। হুজুরের সাথে আমার কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল না। তবুও তিনি মহানুভবতার পরম দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন


—"ওর জন্য মধ্যাহ্নে খাবার গ্রহণ ঠিক হবে না। অন্যথায় পেটের অসুখ আরও বাড়তে পারে। মধ্যাহ্নে আমি ওর জন্য বাড়ি থেকে খাবার পাঠাবো।" দুপুরে দেখি সত্যিই তিনি বাসা থেকে এক আজনবি ছাত্রের জন্য জাউ রান্না করে পাঠালেন। সেদিনের সেই ধোঁয়া ওঠা উষ্ণ জাউয়ের সুবাস এখনো যেন নাকে এসে লাগছে।



এসব কথা আমি লিখতাম না। কিন্তু জামেয়ার আসাতিযাদের আমি যেমন দেখেছি! যেমন অনুভব করেছি! না লিখলে যে আমার অশান্ত হৃদয়টা প্রশান্ত হবেনা।  সবচাইতে বড় কথা—



عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:

"مَن لم يَشْكُرِ النَّاسَ لم يَشْكُرِ اللَّهَ".

(সুনান আবু দাউদ: ৪৮১১, সহীহ)



ওদের এমন নির্ভেজাল ভালোবাসা দেখে মনে পড়ে ভূপেন হাজারিকার প্রসিদ্ধ সেই উক্তি—“মানুষ মানুষের জন্যে।” ভূপেন হাজারিকার উক্তির ছলে আমি রাসূল ﷺ এর মুখনিঃসৃত সেই বাণী একদমই ভুলে যাব না—



"إن العلماء ورثة الأنبياء"

       (সুনান আবু দাউদ: হাদীস-৩৬৪১)


উলামাগণ নবীদের ওয়ারিস।

মাসআলা পরিষ্কার—নবীদের ওয়ারিস হওয়া ছাড়া অসুস্থদের পাশে অমন করে দাঁড়ানোর হিম্মত কার থাকতে পারে?



ক্যানুলার সূঁচ শিরা থেকে বের করতেই ফিনিক খেয়ে ছিটকে পড়লো কয়েক ফোঁটা রক্ত। সাদা পশম হাতে ধরে আছি চাপা যন্ত্রণায়। ইষৎ ওয়াক্ত বাদে দমবন্ধ কেবিন থেকে মুক্তি পাবো। এইমাত্র রিলিজ দিয়েছে। আচ্ছা, এটাতো সরকারি হাসপাতাল। তাহলে ডিউটিরত ডাক্তার টাকা খেল কেন?? এটাকে ঠিক “ধান্ধা” বলব না, তবে con, scam, fraud—এসব শব্দে ব্যক্ত করা যেতে পারে।



ওরা কাপড়চোপড় সব ব্যাগবন্দি করলো। ধীরপায়ে পার করলাম হাসপাতালের চৌকাঠ। এই তো, গায়ে এসে লাগছে ন্যাচারাল বাতাস— ঝিরঝিরে শহুরে হাওয়া। আবু হুরায়রা ও আহমদ মাইমুন ভাই আমাদের বিদায় দিয়ে মাদ্রাসার পথ ধরলো। গত তিনদিন ওরা অনেক কষ্ট করেছে। রাতের বেলায় হাসপাতাল, দিনের বেলায় পরীক্ষা। এটা ছিলো তাদের নিত্যদিনের নির্ম নিয়তি।



একটি বিশীর্ণ ঝরাপাতার দেহে। ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের দূষিত প্রলেপ ছেড়ে, প্রকট জ্বরের উত্তপ্ত চাদর ঈষৎ সরিয়ে, প্রথম সাময়িক   পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উষ্ণতা স্পর্শহীন—আমি এক বিষন্ন জগৎ। ফিরছি বাড়ির পথে ...



উপসংহার... 

হাসপাতালের দরজা পেরিয়ে এসে মনে হলো, এ যেন এক অন্তরীক্ষ যাত্রার অবসান। কিন্তু ভিতরে রেখে এলাম এক ঝাঁক স্মৃতি, কিছু যন্ত্রণা, আর কিছু অলঙ্ঘনীয় ঋণ—উস্তাদদের, সাথীদের, জামেয়ার।



গায়ে লেগে আছে ক্যানুলার চিহ্ন, মনে লেগে আছে জাউয়ের গন্ধ।আর অনুভবে মুহসিন কি ইহসান।শরীরের জ্বর হয়তো কেটে যাবে একদিন; কিন্তু হৃদয়ের যে কৃতজ্ঞতা—তা জ্বর না, বরং ভালোবাসার তীব্র আগুন।



"وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ"

তোমরা যা কিছু ভালো করো—আল্লাহ তা জানেন। (সূরা বাকারা: ২১৫)




        ত্রিশ, সাত, পঁচিশ ইং

       বুধবার, রাত ১টা ৩মি.

            ধারা—মুক্তগদ্য

আমি রফিক আতা, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 305 টি লেখা ও 11 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 6247। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া
Enolej ID(eID): 2331
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


আমিই আমার লেখার একান্ত পাঠক রফিক আতা মাঝে মাঝে মনে হয়—নিজের লেখার প্রেমে আমি একান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
167 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বসুর কবিতায় আমার আত্মস্বীকারোক্তি —রফিক আতা— যদি আমি ম’রে থাকতে পারতুম— যদি পা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
172 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

স্মার্টফোনের দূষিত প্রলেপ: আঁধারের গল্প —রফিক আতা—  ১.  দশ গ্রামে আদনানের মতো ছেল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
185 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দিন যতো এগিয়ে যায়, হাদিকে হারানোর যন্ত্রণা যেন আরও দীর্ঘ, আরও গভীর হয়ে আমার বুকের ভে&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
420 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

তোমার চেহারার আদিম সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যে ‎যে জুলফ অগোছালো হয়ে দুলে ওঠে, ‎তার স্পর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
446 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. Mayabi Ilmaz Megh

    602 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    30 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    182 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Qrrier

    31 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...