. অবনতির পরম্পরা
. —রফিক আতা—
সময় তার দুর্বোধ্য পরিক্রমায় ভীষণ ব্যস্ত।
বহুদিন হলো আমি খাতা-কলম থেকে অনেকখানি দূরে। আগের মতো আর লিখতে মন চায় না। বিষাদ, বিষণ্নতা ও বিমূঢ়তায় আমি যেন ক্লান্ত, অবসন্ন। ঢাকা মেডি এইড, কম্ফোর্ট আর ফার্মগেট ঘুরে কিছুটা উপশম নিয়েও আজ আমি রুগ্নই রয়ে গেছি।
উঠানের কোণে ঝরা শিউলি দেখে—
ঘাসের ডগায় ঝুলে থাকা শিশির বিন্দু দেখে—
পুকুর জলে মিইয়ে পড়া কচুরিপানা দেখে—
আবারো হৃদয়ে ভাব জমে,
জোয়ার ওঠে কল্পনার নদীতে,
উচ্ছ্বসিত আবহে ভেসে আসে ইচ্ছার সমীরণ।
আমি লিখবো— যতো যাই হোক, আমি লিখবো।
এক কলম, দু’কলম, হাজার কলম।
কিন্তু কিভাবে?
এই এক প্রশ্নের উত্তর এখনো আমার অজানা।
অসুস্থ শরীর আর মাইগ্রেনের ধিক্কারে ইদানীং ভাবনাগুলো বড় অগোছালো।
এলোমেলো ব্যথার অগোচরে মন ছুটে যায় কখনো হেমন্তের শুভ্র আধারে।
আঁধার তো কালো হয়, কিন্তু আমার মতে হেমন্তের আধার অতি শুভ্র—
কারণ, সেখানে মিশে থাকে হেমন্তিকার শুভ্রতা, কুয়াশার গন্ধ, স্নিগ্ধ নিস্তব্ধতা।
ঘরের সামনে থাকা বাদই গাছের পাতাগুলো হলুদ রঙে রূপ নিচ্ছে।
আব্বুর স্বহস্তে লাগানো শশাগাছ মিইয়ে পড়ার উপক্রম।
শাওনদের মরিচাধরা টিনের চালে জমেছে করইপাতা।
জানি না কেন, প্রতিটি জিনিসেই আমি অবনতির চিহ্ন দেখি।
আলো-আঁধারের এই ধূসর অপরাহ্নে জীবনের প্রতি আমি ভয়ানক বিরক্ত।
মাঝে মাঝে ভাবি—
জীবন কি কেবল অবনতিরই আরেক নাম,
নাকি সাফল্যের শিরোনামও কোথাও লুকানো আছে?
যেমন সময়ের গল্পে অপরাহ্ন শেষে রাত নামে,
তেমনি জীবনের গল্পেও অপরাহ্নের পরেই নামে রাত্তির।
সময় তার গল্পে এক সময় ভোর ফেরায়,
ভেসে ওঠে ভোরের কবিতা।
কিন্তু হায়!
আমার জীবনের গল্পে সেই যে রাত নেমেছিল,
আজ অবধি প্রভাতকাব্যের কোনো নামগন্ধ নেই।
তবুও আমি সময়ের গল্পের সঙ্গে
জীবনের গল্পকে মিলাতে থাকি,
একনিষ্ঠ সাধকের মতো।
জানি না—
সফলতার সেই চিরকুট হাতে আসবে,
নাকি কেবল তার স্বপ্নই রয়ে যাবে অমোচনীয়।
দিনলিপি, ধারা—মুক্তগদ্য,
আটাশ, দশ, পঁচিশ। মঙ্গলবার।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।