জীবনকে দূর থেকে দেখলে মাঝে মাঝে মনে হয়—
সবকিছু যেন অলৌকিকভাবে সাজানো।
ঝলমলে রঙ, ঠিকঠাক হাসি,
আর সাফল্যের নিখুঁত ফ্রেম।
কিন্তু কাছ থেকে তাকালে বোঝা যায়,
এই নিখুঁততার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে
নীরব ফাটল, বলা না–হওয়া ভাঙন।
কিছু প্রাপ্তি আসে অদ্ভুত সহজে।
যার জন্য একসময় দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি,
যেটাকে না পেলে জীবন অসম্পূর্ণ মনে হতো—
সেটাই একদিন কোনো শব্দ ছাড়াই
হাতের মুঠোয় এসে পড়ে।
আর তখনই বুঝি,
এতদিন যেটাকে গন্তব্য ভেবেছি,
তা আসলে ছিল চোখের ভুল—
ঘন কুয়াশার ভেতর দেখা এক আলো।
প্রতিদিন রাত নামলেই
আমি ফিরে যাই নিজের পুরনো স্তরগুলোতে।
স্মৃতির অন্ধকার করিডোরে
নিজেরই পায়ের শব্দ শুনি।
একটা সময় ছিল,
যখন ভাবতাম—
ঠিক জায়গায় পৌঁছালেই
সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
আজ এতটা ওপরে দাঁড়িয়ে
চারপাশের দৃশ্য পরিষ্কার,
কিন্তু অদ্ভুতভাবে
ফেরার পথটাই সবচেয়ে অস্পষ্ট।
যেন ওঠার সিঁড়িটা ছিল,
নামার জন্য কোনো দরজা রাখা হয়নি।
আমি সবসময় উপরের দিকেই তাকিয়েছি।
উচ্চতা মানেই সাফল্য—
এই বিশ্বাসটাই আমাকে চালিয়েছে।
কিন্তু এখন বুঝি,
যে জিনিসটার জন্য মনটা অস্থির ছিল,
তা কখনোই আকাশে ছিল না।
ছিল মাটির কাছাকাছি,
সহজ, নীরব, নিজের মতো।
এখন মানুষ বলে—
“তুমি অনেক দূর এসেছ।”
আমি হাসি, মাথা নাড়ি।
কিন্তু ভেতরের কণ্ঠ
বারবার ফিসফিস করে জানায়—
আমি যা খুঁজছিলাম,
তা কখনোই এত দূরে ছিল না।
আমি শুধু ভুল দিকেই হাঁটছিলাম।
জীবন কখনো এলোমেলো হয়ে যায়,
কিন্তু সেই বিশৃঙ্খলার মাঝেই
কিছু জীবন্ত অনুভূতি বেঁচে থাকে।
কোনো পরিচিত ডাক,
কোনো পুরনো শব্দ—
আজও আমাকে থামিয়ে দেয়,
নিজের দিকে ফিরিয়ে আনে।
এত পথ হেঁটে
অবশেষে এটুকুই শিখেছি—
মানুষ যত ওপরে উঠুক না কেন,
শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতেই হয়
নিজের শিকড়ের কাছে।
কারণ সত্যিকারের প্রয়োজন
কখনোই দূরে থাকে না।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।