#কোরআন_ও_সহীহ_হাদীসে_বৈপরীত্যে_আছে_বলে_দাবি_করা_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আজ এই মুহূর্ত থেকে আমি চালু করে ফেললাম আমার নতুন সিরিজ " কোরআন ও হাদীসে বৈপরীত্যে আছে বলে মিথ্যাচারের জবাব"
আমি মুনকারে হাদীস ( কথিত আহলে কোরআন / হাদীস অস্বীকারকারী) আর কথিত নাস্তিকদের মধ্যে একটা পার্থক্য দেখি আর তা হলো " মুনকাটে হাদীসরা কোরআন ও সহীহ হাদীসে বৈপরীত্যে খুজে হাদীসকে কোরআনের বিপরীতে দাড় করিয়ে হাদীসকে নাকচ করতে চাই, আর নাস্তিকরা কোরআনের এক আয়াতের সাথে আরেক আয়াতের বৈপরীত্যে দেখিয়ে কোরআনকে মানব রচিত প্রমাণ করতে চাই....
তবে এই দু- দলই ব্যর্থ হয়েছে অতীতে এবং এখনও হচ্ছে আর ভবিষ্যৎ এতেও হবে ইনশাআল্লাহ ।
আমি মূল পয়েন্ট এতে যাওয়ার আগে একটা বিষয় ক্লিয়ার করতে চাই। কোরআনের নিসা -৮২ নং আয়াত এতে বলেছেন যে " এই কোরআন ( ওহি) যদি আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো তাহলে বৈপরীত্যে দেখতে পেতো..."
এই আয়াত প্রমাণ করে যে ওহী ( কোরআন ও হাদীস) এতে কোনো বৈপরীত্যে নেই কেননা দুটোই আল্লাহ প্রদত্ত। কোরআন যেমন আল্লাহর ওহী হাদীসও তার ওহি, আর এর প্রমাণ হলো সূরা নাজম এতে বলেন " রাসূল সাঃ মনগড়া কথা বলেন না বরং তাই বলেন যা তার প্রতি নাযিল করা হয়.."( নাজম-৩/৪ নং আয়াত)
এই আয়াত চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণ করে যে কোরআনের সাথে ( মারফু) হাদীসও আল্লাহর ওহী এবং এই ওহী ও মানতে হবে ( হাশর-৭) ...
আমি আপনাদের এটা পরিষ্কার করে দিলাম যে কোরআন যেমন আল্লাহর ওহী তেমন হাদীসও আল্লাহর ওহী, আর কোরআনের এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের কোনো বৈপরীত্যে নেই ঠিক একই রকম ভাবে সহীহ হাদীসের সাথে কোরআনের কোনো বৈপরীত্যে নেই। আশা করি এই কথাটুকু ক্লিয়ার।
এখন বুঝতে হবে যারা কোরআনের হাদীসের সাথে সহীহ হাদীসের বৈপরীত্যে আছে বলে দাবি করে এবং তাদের কথার পক্ষে ( কু) প্রমাণ ( কু- প্রমাণ) পেশ করে সেটার পিছনে মেকানিজম কি। এখানে দুটো জিনিস ঘটতে পারে
১. হয় তো দাবিকারী কোরআন বা হাদীস এর মূলভাব বুঝতে ভুল করেছে
২. হয় তো ইচ্ছে করে কাট- পিছ করে একটা অংশ নিয়ে সাংঘর্ষিক দেখিয়ে বৈপরীত্যে আছে বলে চালিয়ে দিয়েছে...
এর বাহিরে অন্য কোনো কারন আছে বলে আমি মোঃ মেহেদী হাসান মনে করি না। তো এতটুকু যদি পড়ে থাকেন তাহলে আমি আমার পরবর্তী আলোচনাতে এখন প্রবেশ করব ইনশাআল্লাহ ....
তো চলুন শুরু করা যাক।
নিছের screenshots টা লক্ষ্য করুন। এক কথিত মুনকারে হাদীস ( এরা আহলে কোরআন পরিচয় দিয়ে থাকে, কিন্তু এরা আহলে কোরআন না বরং আমাদের দৃষ্টিতে মুনকারে হাদীস, তাই এদের আহলে কোরআন না বলে মুনকারে হাদীস বা হাদীস অস্বীকারকারী বলুন...) ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সহীহ মুসলিম এর একটা হাদীস পেশ করেন আর তা হলো
" সা'দ ইবনু মুয়ায এর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেপে উঠেন "( মুসলিম- ৬১২২)
এবং এই সহীহ হাদীসকে বাকারা -২৫৫ নং আয়াতের সাথে বৈপরীত্যে হিসাবে পেশ করে... । একন কথা হলো হাদীস আর বাকারা-২৫৫ নং আয়াতে কি বৈপরীত্যে আছে? পোস্ট কারী এর উপরের প্রথম অংশ পড়ে আমরা বুঝতে পারি যে তিনি মূলত হাদীস আর কোরআনের বৈপরীত্যে বাহির করেন " গায়েব " এর কনসেপ্ট এর উপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ কোরআন বলছে কেও গায়েব জানে না এক আল্লাহ ছাড়া এবং হাদীস ইঙ্গিত দিচ্ছে গায়েব এর দিকে.....
এখন চলুন বিষয়টা পর্যবেক্ষন করি.
প্রথম কথা গায়েব হলো অদৃশ্য এর জ্ঞান । এটা একমাত্র আল্লাহ জানেন সত্য। আর এটা হলো ওই সত্য যে সত্য বলে যে তিনি অতীত থেকে ভবিষ্যৎ এর জ্ঞান রাখেন, অর্থাৎ হাজার বছর আগে থেকেই আল্লাহ জানেন কি হবে ভবিষ্যৎ এতে, আর এটা বুঝতে পারি সূরা লুকমান এর একটা আয়াত পড়ে ... । আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন-
"কিয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর নিকট রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। গর্ভাশয়ে যা থাকে, তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না, সে আগামীকাল কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না যে, সে কোন্ দেশে মৃত্যু বরণ করবে’’। (সূরা লুকমানঃ ৩৪)"
এই আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহ আগে থেকেই জানে ভবিষ্যৎ এর জ্ঞান সম্পর্কে । আর এই গায়েবী ইলমটা মানুষ জানে না! ততক্ষণ পযন্ত যতক্ষণ না তাকে না জানানো হয়। আর মানুষকেও যে গায়েব এর একটু আকটু জ্ঞান দেওয়া হয় বিশেষ করে রাসূলদের যে অনেক অদৃশ্য এর জ্ঞান প্রদান করা হয় তার প্রমাণ কোরআনেই আছে।
দেখুন-
তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারও নিকট প্রকাশ করেননা
তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া
( সূরা জ্বীন -২৬ ও ২৭ নং আয়াত)
লক্ষ্য করুন প্রথম আয়াতে আল্লাহ নিজেকে ইলমুল গায়েব এর অধিকারী বলেছেন এবং পরবর্তী আয়াতেই বলেছেন যে এই জ্ঞান তাঁর রাসূল গণকেই বলা হয় ( ততটুকু যতটুকু তাদের জানানো হয়...)
তো কোরআনের আলোকে বুঝলাম যে রাসূল গণও কিছু অদৃশ্য এর জ্ঞান রাখতেন। আর নবীজি যেহেতু সবার শ্রেষ্ঠ রাসূল তাই তিনিও আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু হলেও গায়েব জানবেন তা আমরা বুঝতেই পাচ্ছি। তো এতটুকু আলোচনা করে আমরা উক্ত হাদীসের উপর এই রায় প্রদান করছি যে
" উক্ত হাদীস এতে যে গায়েব এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা আল্লাহ প্রদত্ত "
অর্থাৎ আল্লাহ বলেছেন তাই রাসূল সাঃ এটা জেনেছেন। যদি আল্লাহ না বলতেন তাহলে নবীজি তা জানতেন না আর না জানলে তিনি এরকম হাদীস রেওয়াত করতেন না, যদি করতেন তাহলে মিথ্যাবাদী সাবিত হতে ( আল্লাহ এরকম আকিদা থেকে মাফ করুক) । তাই এখানে হাদীস আর কোরআনের আয়াতের কোনো বৈপরীত্যে নেই আর সামগ্রিক বিচারে এটাই যুক্তিসঙ্গত আর প্রমাণিত হচ্ছে ।
আবার এই হাদীস বর্তমান বাচক এর দিকে ইঙ্গিত প্রদান করছে, মানে সা'দ এর মৃত্যু যখন হয় তখন তিনি এটা বলেন। যা বর্তমানগত জ্ঞানের আওতাভুক্ত । আর বর্তমানে কান্টিনিউয়াস কিছু ভবিষ্যৎ এর গায়েব হয় কি করে তা মাথাই ঢুকছে না। যখন সাদ মারা যান তখনি আল্লাহী আরশ কেঁপে উঠে, অর্তাৎ সা'দ এর মৃত্যুটা যেমন রাসূল সাঃ এর সাপেক্ষে ছিল বর্তমান তেমনি আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠাতাও হলো বর্তমান। আর নবীজি এরকম বর্তমান সম্পর্কে কিছু জানবেন না এটা কি করে হয়????
এক কথায় পোস্টকারী ২ আর ৩ মিলিয়ে রেজাল্ট ৪ দেখাতে চাচ্ছে যা তার অজ্ঞতা ব্যাতিত কিছুই না....
আশা করি কথা ক্লিয়ার
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।