#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তিসঙ্গত_আলোচনা
#মুরতাদ_হত্যা_প্রসঙ্গে_নাস্তিকদের_ভ্রান্ত_দাবি_ও_সংশয়_নিরাসন
সিরিজ পর্ব-১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
★এক নজরে অভিযোগ
* আমি কোন ধর্ম পালন করব নাকি করব না সেটা আমার ইচ্ছা, আমি ইসলাম ত্যাগ করলে কেন আমাকে হত্যা করা হবে, যদি আমি কোনো দোষ না করি??
* মুরতাদ হত্যা কি অমানবিক নয়??
* কোনো দয়ালু ব্যাক্তি ইসলাম ত্যাগ( মুরতাদ) করলে কেন হত্যা করা হবে??
* সবই তো আল্লাহর ইচ্ছাই, তাহলে আমি মুরতাদ হলে দোষ কি?? আমি তো আর নিজে থেকে হয় নি বরং আল্লাহ আমাকে মুরতাদ বানিয়েছে
★ এক নজরে পয়েন্ট
১. সত্যিই কি ইসলামে মুরতাদ হত্যার বিধান আছে??
২. যদি না থাকে তাহলে হাদীসে কেন হত্যা করতে বলা হলো
৩. ভ্রান্ত দাবি নিরাসন
৪. দাবি খন্ডন পর্ব( যেসব হাদীসে মুরতাদ হত্যার কথা বলা আছে, সেগুলো তাহলে কি??)
৫. একটা যুক্তিগত পর্যালোচনা
৬. আমার চ্যালেন্স
৭. উপসংহার
তো চলুন শুরু করা যাক।
পয়েন্ট টু পয়েন্ট আকারে জবাব।
পয়েন্ট টু পয়েন্ট পার্ট ওয়ান
★ **********************
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
__________________
প্রশ্ন: আমি কোন ধর্ম পালন করব নাকি করব না সেটা আমার ইচ্ছা, আমি ইসলাম ত্যাগ করলে কেন আমাকে হত্যা করা হবে, যদি আমি কোনো দোষ না করি??
জবাব : প্রথম কথা হলো সমগ্র কোরআন তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও এমন কোনো আয়াত পাওয়া যাবে না, যেখানে বলা হয়েছে যে মুরতাদ ( ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারী ) কে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার কারণে শুধু হত্যা করা হবে। তবে হ্যা অবশ্যই ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার কারণে শাস্তি দেওয়া হবে তবে সেটা পরকালে Not দুনিয়া বা ইহকাল। আয়াতটা দেখুন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন " তোমরা তাদের মত হইয়ো না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে । তাদের জন্য মহাশাস্তি আছে । (সুরা আল ইমরান আয়াত ১০৫) "
এখানে বলা হয়েছে তাদের দেওয়া হবে মহা শাস্তি ( জাহান্নামের আগুন) , অর্থাৎ তারা তাদের কর্মের জন্য শাস্তি পাবে পরকালে Not দুনিয়াতে বা ইহকালে। এছাড়াও এরকম অন্য দুটো আয়াত দেখুন -
*যারা ইমান আনে ও পরে কুফুরি করে এবং আবার ইমান আনে , আবার কুফুরি করে , অতপর তাদের কুফুরি প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায় আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথে পরিচালিত করবেন না । (সুরা নিসা, ১৩৭ আয়াত)
* তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে দুনিয়াতে যারা আছে তারা সকলেই অবশ্যই ইমান আনত , তবে কি তুমি মুমিন হবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে ? আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ইমান আনা কারো সাদ্ধে না এবং যারা অনুধাবন করে না আল্লাহ তাদেরকে কুলসলিপ্ত করেন । (সুরা ইউনুস, আয়াত ৯৯ - ১০০)
তো বুঝতেই পারছেন যে আল্লাহ রব্বুল আলামিন মুরতাদ হওয়ার কারণে কোনো হুমকি-ধুমকি দেন নি দুনিয়াতে যে' তোমাদের দুনিয়াতে এই করা হবে সেই করা হবে । আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজেই বলেছেন যে " সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক । (সুরা কাহফ, আয়াত ২৯) "
আয়াতে সুস্পষ্ট ভাবেই বলে দেওয়া হয়েছে যে " যার মন চাই সে সত্য গ্রহণ করবে আর যার মন না চাই সে........। তো প্রথম পয়েন্ট এতে দেখতে পেলাম যে এরকম কোনো কথা কোরআনে নেই, যেখানে মুরতাদ হত্যার কথা আছে বরং উল্টা কথা বলা হয়েছে।
পয়েন্ট নাম্বার টু
_______________
প্রশ্ন : মুরতাদ হত্যা কি অমানবিক নয়??
জবাব : আমার মাথা আর তোমার মুন্ডু , আগে তো এটা প্রমাণ কর, ইসলাম ত্যাগ করার সাথে সাথে যেখানে পাও সেখানেই মুরতাদকে হত্যা কর, তারপর তো আসবে " মুরতাদ হত্যা মানবিক নাকি অমানবিক।
পয়েন্ট নাম্বার থ্রি
________________
প্রশ্ন: কোনো দয়ালু ব্যাক্তি ইসলাম ত্যাগ( মুরতাদ) করলে কেন হত্যা করা হবে??
জবাব: কে কি করল না করল সেটা নিয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর কোনো কিছুই যায় আসে না, আর দু- একটা গন্ডমূর্খ ইসলাম ত্যাগ করলেও আমাদের কিছু যায় আসে না। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন -
" আল্লাহ কিরুপে সৎপথে পরিচালিত করবেন সেই সম্প্রদায়কে যারা ইমান আনয়নের পর ও রাসুলকে সত্য বলিয়া সাক্ষ্যদান করার পর এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফুরি করে ? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না । (সুরা আল ইমরান আয়াত ৮৬) "
অর্থাৎ কেও যদি ইসলাম সত্য বলে স্বীকার করার পরেও ইসলাম ত্যাগ করে তাহলে সেটা তাঁর ইখতিয়ার, এর জন্য তাকে সাথে সাথে কোনো শাস্তি প্রদান করা হবে না।
পয়েন্ট নাম্বার ফর
__________________
প্রশ্ন : সবই তো আল্লাহর ইচ্ছাই, তাহলে আমি মুরতাদ হলে দোষ কি?? আমি তো আর নিজে থেকে হয় নি বরং আল্লাহ আমাকে মুতাদ বানিয়েছে
জবাব: সবই তো আল্লাহর ইচ্ছাই ( সূরা তাকবির-২৯) এতে আমারও কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছাটা কি সেটা তো আমাদের জানতে হবে ??? । আল্লাহ রব্বুল আলামিন আগে থেকেই জানেন আপনি কি করবেন না করবেন ( সূরা হুদ -৫) , আর এসব জানেন বলেই তিনি কিতাবে লিখে রেখেছেন ( সূরা হুদ-৬) , অর্থাৎ আমরা কি করব সেটা আগে থেকেই তিনি জানেন আর সেই মতাবেক লেখে রাখছেন, আর আমাদের ব্যাপারে তিনি সবকিছু জানবেন এটা স্বাভাবিক, যেহেতু তিনি ইলমুল গায়েব এর অধিকারী। আর হ্যা আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন বলেই আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক পাঠিয়েছেন ওহী সহকারে ( সূরা রাদ-৭), যদি আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক না পাঠাতো তাহলে অভিযোগ করা যেতো যে........ । আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের জন্য গাইড লাইন দিয়েছে, এখন মানা না মানা আমাদের ব্যাপার, কারণ আমাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা যা করি সেটা আমাদের নিজের ইচ্ছাতেই করি, আল্লাহ শুধু ওই মতাবেক কড়ম সম্পাদনের শক্তি ও ইচ্ছা প্রদান করেছে ( আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তো কিছুই হয় না, তাহলে আমরা পাপ করলে দোষ কি??- এই ব্যাপারে আলাদা একটা লেখাই আছে আমার) যেই মতাবেক আমরা বাস্তবায়ন করি। তাই দোষ আমাদেরও এবং দায়ি আমরা Not আল্লাহ ।
পয়েন্ট টু পয়েন্ট পার্ট টু
★*******************
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
__________________
প্রশ্ন: সত্যই কি ইসলামে মুরতাদ হত্যার বিধান আছে??
জবাব: প্রথমে একটা হাদীস দেখুন, হাদীসটি হলো -
" সহি বুখারি ৯ম খণ্ড হাদিস ৩১৮: জাবির বিন আব্দুল্লাহ বলেন, এক বেদুইন আল্লাহর রসুলের কাছে বায়াত গ্রহণ করিল। পরে মদিনায় তাহার জ্বর হইলে সে আল্লাহ্র রসুলের নিকট আসিয়া বলিল ‘হে আল্লাহ্র রসুল, আমার বায়াত ফিরাইয়া দিন।’ রসুল সম্মত হইলেন না। তারপর সে আবার আসিয়া বলিল ‘হে আল্লাহর রসুল, আমার বায়াত ফিরাইয়া দিন।’ রসুল সম্মত হইলেন না। তারপর সে আবার আসিয়া বলিল ‘হে আল্লাহর রসুল, আমার বায়াত ফিরাইয়া দিন।’ রসুল সম্মত হইলেন না। তারপর সে মদিনা ছাড়িয়া চলিয়া গেল। ইহাতে আল্লাহর রসুল বলিলেন− “মদিনা একটি উনুনের মতো, − ইহা ভেজালকে বাহির করিয়া দেয় এবং ভালোকে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে।”
হাদীসটা ভালো করে লক্ষ্য করুন - একজন বিদুইন রাসূল সাঃ এর কাছে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আবার তার কাছে এসেই ইসলাম ত্যাগ করে, এরকম কয়েকবার রিপিট করে, তবুও আল্লাহ এর রাসূল ওই বিদুইন কে কিছুই বলেন নি। বরং সুযোগ দিয়েছে, এবং ওই বিদুইন ইসলাম ত্যাগ করার পর আবার গ্রহণ করেছে..... ( রিপিট করেছে) । তো এখন আপনারাই বলুন ইসলামে যদি মুরতাদকে হত্যা করলে বলাই হতো তাহলে কেন উক্ত বিদুইনকে হত্যা করা হলো না????৷ এছাড়াও এরকম আরেকটা রেওয়াত দেখুন- ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনু আসুস সারহ রাসুলুল্লাহ (সা) এর ওহী লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল । শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে এবং সে কাফিরদের সঙ্গে মিশে যায় । মক্কাহ বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা) তাকে হত্যার আদেশ দেন । কিন্তু উসমান ইবনে আফফান (রা) তার জন্য নিরাপত্তার জন্য আবেদন পেশ করলে রাসুলুল্লাহ (সা) তাকে নি মাফ করেন ( আবু দাউদ - ৪৩৫৮ -হাসান হাদীস) যদি মুরতাদ হত্যা ফরজ বা ওয়াজিব হতো তাহলে অবশ্যই রাসূল সাঃ সেটা বাস্তবায়ন করতেন ( হত্যার আদেশ ইসলাম ত্যাগ করার কারনে দেওয়া হয় নি, বরং তাঁর অন্য অপরাধের জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সুপারিশের কারণে এই হুকুম উঠিয়ে নেওয়া হয়) । ওহহহ আরেকটা কথা না বললেই নয়, ওহী লেখক ইবনে সা'দ, তিনিও কিন্তু মুরতাদ হয়েছিল ( ইবনে হিশাম সিরাত দেখুন) আর তাকে কোনো শাস্তি প্রদান করা হয় নি, বরং পরবর্তীতে তাকে মিশরের গভর্নর করেন খলিফা উসমান। এরকম অনেক ঘটনাই আছে, যারা নবী সাঃ এর যুগে ইসলাম ত্যাগ করে তবে তাদের কোনো শাস্তি প্রদান করা হয় নি। তো উক্ত রেওয়াতগুলো থেকেই বুঝা যায় যে........।
^ দ্বিতীয় পর্ব কালকে লেখে পোস্ট করব, কারণ " পয়েন্ট টু পয়েন্ট আকারে জবাব পার্ট-১ " এর ৪ নাম্বার পয়েন্ট অনেকটা বড় হবে, তাই বাকিগুলো পয়েন্ট কাললে লেখে পোস্ট করব ^
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
️️️ মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।