#পৃথিবীর_যে_কোনো_প্রান্তে_চাঁদ_দেখলে_কি_দুনিয়ার_সবাই_রোজা_রাখা_শুরু_করবে?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
ফতোয়া রিলেটেড বিষয় গুলো নিয়ে লেখতে মন চাই না, তবে কিছু পোস্ট দেখলে না লেখে থাকতে পারি না....।
তাই এই ব্যাপারে কিছু না লেখে পারলাম না।
প্রথম কথা কারো ফতোয়া যদি হাদীস এর বিরুদ্ধে যায় তাহলে ওই ফতোয়া দেওয়ালে ছুড়ে মারতে হবে। ইমাম হাম্বল ওই কথা বলেছেন কিনা আমার জানা নেই যদি বলেও থাকে তাহলে ওই ফতোয়া ভুল। দ্বিতীয় কথা ইবনে তাইমিয়া বিতর্ক ব্যক্তি আর তার কথাটাও ভুল। এক ভূ- খন্ডে চাঁদ দেখা গেলে বাকি সকল ভূ- খন্ডের মানুষ রোজা বা ঈদ পালন করবে এটা ভ্রান্ত ও বাতিল কথা। এই তামিম নামে ছেলেটা ইমাম হাম্বল ও তাইমিয়ার কথা উল্লেখ করার একটা হাদীস উল্লেখ করে তার মতের পক্ষে যেটা আবু দাউদ এর ২৩৩৯ এর হাদীস। কিন্তু ওই হাদীসে এরকম কিছুই নেই। হাদীসটা হলো-
২৩৩৯। রিব’ঈ ইবনু হিরাশ (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের শেষদিন সম্পর্কে লোকদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা দিলো, এমতাবস্থায় দু’জন বেদুঈন এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিলেন যে, তারা উভয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে সওম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিলেন। খালফ (রহ.) তার হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে (পরদিন) সকালে তাদের ঈদগাহে গমনের নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
সহীহ।
তো এই হাদীস এতে আছে দু- জন ব্যকৃতি এসে সাক্ষ্য দিল তারা চাঁদ দেখেছে গতকাল...
আর এতটুকু পড়েই তারা বুঝল যে এক ভূ- খন্ডের লোক চাঁদ দেখলে রোজা ভাংবে বা শুরু করবে... মজার ব্যাপার উক্ত হাদীসে কিন্তু বলা হয় নি তারা অন্য ভূ- খন্ড বা দেশ ( শহর ) থেকে এসেছে.... । তাই এই হাদীস দিয়ে নিজের মত প্রতিষ্ঠিত করা কথিত আহলে হাদীস এর কিছু ভ্রান্ত লোকের জাহিলিয়াত ছাড়া কিছুউ না...।
এখন কথা হলো রোজা ( ঈদ) এসব রাখব কিভাবে? এর জবাব হলো নিজ নিজ জায়গূয় চাঁদ দেখলে। আপনি বাংলাদেশ এর লোক হয়ে যদি আমেরিকা এর চাঁদ উঠার কারণে রোজা রাখা শুরু করেন তাহলে উক্ত রোজা বাতিল... ।
দলীল-
কুরাইব বলেন, একদা উম্মুল ফাযল বিন্তে হারেষ আমাকে শাম দেশে মু'আবিয়ার নিকট পাঠালেন। আমি শাম (সিরিয়া) পৌঁছে তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলাম। অতঃপর আমার শামে থাকা কালেই রমযান শুরু হল। (বৃহস্পতিবার দিবাগত) জুমআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। অতঃপর মাসের শেষ দিকে মদিনায় এলাম। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রঃ) আমাকে চাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ?” আমি বললাম, “আমরা জুমআর রাত্রে দেখেছি।” তিনি বললেন, “তুমি নিজে দেখেছ?” আমি বললাম, “জি হ্যাঁ। আর লোকেরাও দেখে রোযা রেখেছে এবং মুআবিয়াও রোযা রেখেছেন।” ইবনে আব্বাস (রঃ) বললেন, “কিন্তু আমরা তো (শুক্রবার দিবাগত) শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। অতএব আমরা ৩০ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রাখতে থাকবে।” আমি বললাম, “মুআবিয়ার দর্শন ও তাঁর রোযার খবর কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়?” তিনি বললেন, “না। আল্লাহ্র রাসূল (সঃ) আমাদেরকে এ রকমই আদেশ দিয়েছেন।” ২৫১ (মুসলিম ১০৭৮ নং)
উক্ত হাদীস প্রমাণ করেছে নিজ নিজ ভূ- খন্ড এর উপর ভিত্তি করেই রোজা বা ঈদ শুরু+ শেষ করতে হবে...
খন্ডন সমাপ্ত.....
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।