নাস্তিকদের ভাইরাল পোস্ট এর জবাব
কিছু গরু ছাগল টাইপ থেকে শুরু করে ছাগল নাস্তিককগুলো দেখি এটা নিয়ে খুব লাফাইছে, দোষটা তাদের না বরং বাংলাদেশের কথিত হাইব্রিড আলুদের। এসব বিষয় আগেই খন্ডন করা হয়েছে।
কপি করে দিয়ে দিলাম.....
বর্ণনা:
حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَلَفٍ الدُّورِيُّ، ثنا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، عَنِ السَّرِيِّ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: «رُبَّمَا أَفْطَرَ ابْنُ عُمَرَ عَلَى الْجِمَاعِ»
মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন বলেন, “কখনো কখনো স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে ইবনে 'উমার (রাঃ) তার সাওম-রোযা ভাঙতেন।”
(মু'জামুল কাবীর লিত ত্বাবারানী, হা/১৩০৮০)
তাহক্বীক্ব: সানাদ মুনক্বাতি', তাই দ্বঈফ (দূর্বল-অশুদ্ধ)।
কারণ:
১. সানাদে বর্ণনাকারী 'মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন' শুধুমাত্র একটি হাদিস শ্রবণ করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে, যেমনটা ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন বলেছেন-
বর্ণনা:
سَمِعت يحيى يَقُول قد سمع بن سِيرِين من بن عمر حَدِيثا وَاحِدًا قَالَ سَأَلت بن عمر
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন বলেন: “ ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন যেই একটি হাদিস শ্রবণ করেছেন, সেই হাদিস বর্ণনায় তিনি বলেছেন: 'সাআলতু ইবনে 'উমার’।”
(তারিখে ইবনে মা'ঈন রিওয়াইয়াতু আদ দুরী, ক্রমিক ৩৮৭৫)
তাছাড়া সেই হাদিস ব্যতীত অন্য কোন হাদিসই 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন শ্রবণ করেন নি, বাকি সব ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে মুরসাল-মুনক্বাতি’ হিসেবে (অর্থাৎ নিজে সরাসরি শ্রবণ না করা সত্ত্বেও) বর্ণনা করেছেন।
سمعت أبا داود يقول: كان ابن سيرين يرسل وجلساؤه يعلمون أنه لم يسمع. سمع من ابن عمر حديثين، وأرسل عنه نحوا من ثلاثين حديثا
(সুওয়ালাতু আবূ উবাইদ আজুর্রী লি আবু দাউদ আস সিজিস্তানী, ২/৫৫, ক্রমিক ১১০৬)
.
এখন, উল্লেখ্য বিষয় হচ্ছে: “উপরোক্ত বর্ণনার বিষয়টি অর্থাৎ 'আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ কখনো সহবাসের মাধ্যমে সাওম ভাঙতেন’ এই বিষয়টি মুহাম্মাদ ইবনে সিরীনের জন্য দেখার মতো কোন বিষয় নয়। এই বিষয়টি জানতে হলে অবশ্যই ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে শ্রবণ করতে হবে, যদি ইবনে 'উমার (রাঃ) নিজে বলে থাকেন ইবনে সিরীনকে তবেই ইবনে সিরীন এই বিষয়টি জানতে পারবে।”
কিন্তু আমরা প্রমাণসহ জেনেছি, মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন কোন হাদিসই 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে শ্রবণ করেন নি শুধুমাত্র একটি হাদিস ব্যতীত, যেই হাদিসটি তিনি 'সাআলতু ইবনে 'উমার' (আমি ইবনে উমার' এর নিকট জিজ্ঞেস করেছি)’ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি নিম্নে উল্লেখ করা হল-
إِسْمَاعِيل بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ:سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ الضَّحَايَا: أَوَاجِبَةٌ هِيَ؟ قَالَ: ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَالْمُسْلِمُونَ مِنْ بَعْدِهِ، وَجَرَتْ بِهِ السُّنَّةُ
মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন বলেন, “আমি ইবনে 'উমার রাঃ এর নিকট জিজ্ঞেস করেছি কুরবানী করা প্রসঙ্গে, কুরবানী করা কি ওয়াজিব? তখন ইবনে 'উমার রাঃ বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী করেছেন, তাঁর পরে মুসলমানরাও কুরবানী করেছে এবং এ সুন্নাত অব্যাহতভাবে প্রবর্তিত হয়েছে।”
(সুনান ইবনু মাজাহ, হা/৩১২৪)
কিন্তু আরো আলোচ্য বিষয় হচ্ছে: উক্ত হাদিসের সানাদই দ্বঈফ, কেননা সানাদের রাবী 'ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ' এই হাদিসটি তার নিজের শহরের শামবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন নি, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ যখন তার নিজের শহর ব্যতীত অন্য কোন শহরের বর্ণনাকারী থেকে হাদিস বর্ণনা করে থাকে তখন সেই হাদিসটি দ্বঈফ হিসেবে গণ্য হয় যেমনটি মুহাদ্দিসগণ বলেছেন।
** এখন দেখা যাচ্ছে, যেই একটি হাদিস প্রমাণস্বরূপ পেশ করে ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন বলেছেন ইবনে 'উমার রাঃ থেকে ইবনে সিরীন শ্রবণ করেছেন, সেই হাদিসটিই ইবনে 'উমার রাঃ পর্যন্ত বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়। তাই এর থেকে প্রমাণ হল: “আব্দুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে কোন হাদিসই মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন শ্রবণ করেন নি।” যারা দাবী করে ইবনে সিরীন শ্রবণ করেছেন ইবনে 'উমার রাঃ থেকে, তবে তারা হাদিসের কিতাব থেকে ইবনে উমার রাঃ থেকে ইবনে সিরীন এর হাদিস বর্ণনায় সামা’ (শ্রবণের) প্রমাণ পেশ করুক।।
এখন অনেকে দাবী করে থাকতে পারেন, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন শুধুমাত্র সিক্বাহ রাবীদের থেকেই হাদিস বর্ণনা করতেন।
তাদের জবাবে আমি বলি: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন সিক্বাহ রাবীদের থেকে বর্ণনা করতেন ঠিকাছে। কিন্তু সেই সিক্বাহ রাবী তার কোন সিক্বাহ শাইখ থেকেই বর্ণনা করেছে- এর প্রমাণ কি? সেই সিক্বাহ রাবী সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাঃ) থেকে শ্রবণ করেছেন - এর প্রমাণ কি? তাই উক্ত দাবী সঠিক নয়, যথার্থ নয়।
.
উসূলুল হাদিস অনুযায়ী, কোন হাদিস বর্ণনা বিশুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত হচ্ছে: অবশ্যই সেই হাদিসের সানাদ মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) হতে হবে, রাবীকে তার শাইখ থেকে অবশ্যই শ্রবণ করতে হবে।
সানাদ মুত্তাসিল না হয়ে মুনক্বাতি' (বিচ্ছিন্ন) হলে, রাবী তার শাইখ থেকে শ্রবণ না করলে, তবে সেই হাদিস বর্ণনা বিশুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে না।
..
তাই, আব্দুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাঃ) এর নামে প্রচারিত উক্ত বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। উক্ত অশুদ্ধ বর্ণনাটি প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
[ প্লেজারিম বাই সাইস ]
.......
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।