৪২_শত_ধর্মের_মধ্যে_কোন_ধর্মটা_সত্য_বুঝব_কি_করে???
পর্ব-১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা একটা প্রশ্ন করে, যেই প্রশ্নের উত্তর সাধারণ তো হঠাৎ করে করলে অনেকেই তাজ্জব হয়ে যায়। নাস্তিকরা বলে যে পৃথিবীতে এত ধর্ম, সবাই বলে নিজ নিজ ধর্ম সত্য, এখন প্রশ্ন হলো কার কথাটা মানবো?? । তো আজকে এই বিষয়টা নিয়েই আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ??? । তো প্রিয় বন্ধুরা
চলুন শুরু করা যাক।
দুটো পয়েন্ট এতে লেখাটা ভাগ করলাম। প্রথম পয়েন্ট এতে প্রশ্নটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচন করব, দ্বিতীয় পয়েন্ট এতে সমাধান খুজবো ইনশাআল্লাহ। আর হ্যা এই লেখাটা প্রথম কিস্তি। দ্বিতীয় কিস্তিতে ইসলামই যে সত্য, তা প্রুফ করব ইনশাআল্লাহ । তো পয়েন্ট ওয়ান এতে আসি।
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
___________________
পৃথিবীতে ৪২+ ধর্ম এর মধ্যে কোন ধর্ম সত্য???। প্রশ্নটা একটু খেয়াল করুন, এই প্রশ্নটাকে নাস্তিকরা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন এঙ্গেল এতে বলে থাকে, প্রশ্নটাতে কিছু অংশ যোজন- বিয়োজন হতে পারে। যেমন : পৃথিবীতে ৪২০০ এর উপরে ধর্ম, আর সবাই বলে নিজ নিজ ধর্ম সত্য, তো আমরা কোনটা গ্রহণ করব, যেহেতু সব ধর্মই নিজেকে সত্য বলে তাই আমরা কোনো ধর্ম মানি না কারণ একই সাথে সকল ধর্ম সত্য হতে পারে না, তুমি তোমারটা সত্য বললে ও ওর টা সত্য বলে, তাই আমরা কোনো ধর্ম গ্রহণ করি না। এই হলো মোটামোটি নাস্তিকদের একটা মুখস্থ করা কমন প্রশ্ন। এটা এমন এক প্রশ্ন যেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলেও তা নাচক হবে আর ভুলটা দিলেও তা নাচক করা হবে, এর কারণ হলো প্রশ্নটার ভাবেই বলে দিচ্ছে যে কোনো ধর্মই সত্য না, অর্থাৎ Course এর আগে Effect টা Ready হয়ে আছে। জিনিসটা এই রকম যে " সবাই বলে কেও বলে সূর্য বামে অস্ত যায় আবার কেও বলে ডানে তাই বুঝা যায় যে কোনোটাই সত্য না। দেখুন প্রশ্নটার শুরু আর উপসংহার মাঝে যে সেতু-বন্ধন, সেই সেতু বন্ধন এর সাথে প্রথম আর দ্বিতীয় অংশের কোনো মিল নেয়। এই প্রশ্নটা অবকাঠামো ভাবে ধরতে গেলে তো কোনো প্রশ্নই না, তাই না! সকল প্রশ্নই কিন্তু প্রশ্ন না। আমি যখন কাওকে কোনো প্রশ্ন করব তখন তাঁর কাঠামো হওয়া উচিত এরকম যে " সেটার উত্তর আমি তখন জানি না কিন্তু একটা উত্তর অবশ্যই আছে , আর থাকা আবশ্যক। নেগেটিভ থাকলতে যেমন তাঁর পজেটিভ থাকে ঠিক একই রকম ভাবে প্রশ্ন থাকলে তার উত্তরও থাকবে, শর্ত হলো তখন সেটা আমার প্রকাশ হয় না । কিন্তু নাস্তিকদের এই প্রশ্নটাতে আগের থেকেই ধরে নেওয়া হচ্ছে যে Answer এর Value Just Zero . আর হ্যা কোনো প্রশ্নের দুটো উত্তর একসাথে প্রকৃত পক্ষে অবস্থান করবে না। ধরুন আপনি প্রশ্ন করলেন নারিকেল গাছ থেকে কি নারিকেল ধরে নাকি অন্য কিছু?? এই প্রশ্নের একটাই উত্তর হবে আর সেটাই সঠিক। কেও যদি আম, জাম এসবের কথা বলে তাহলে তা একদমই সঠিক না। তবে হ্যা মন্জিল এর রাস্তা ভিন্ন হতে পারে। মানে হলো আমি একটা অংক দিলাম,৷ এখন অংটাকে বিভিন্ন মেথড এতে সলভ করা যায়, আপনি যেই মেথড এতেই সলভ করুন না কেন Answer কিন্তু সবার একই হবে। অর্থাৎ মন্জিল একটাই রাস্তা ভিন্ন হলে হতেও পারে। কিন্তু নাস্তিকদের প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর আছে, আর উত্তর হলো " কোনো ধর্মই সত্য না "। আমি প্রথমেই যদি ধরে নেয় Answer এর মান Zero, তাহলে আমি কখনোই সত্য খুজে পাবো না। ইউটুব এতে হয় তো অনেক ভিডিও দেখবেন যেখানে ২+২= ৫ বানিয়ে দেখানো হয়। তো আপনি যতই গোঁজামিল দিয়ে ৫ বানান না কেন, প্রকৃত উত্তর ৪ হবে Not ৫। এইরকম ভাবে প্রশ্নে যতই গোঁজামিল দেন না কেন সত্য সত্যই থাকবে। আর এই প্রশ্নটা কেও সত্য জানার জন্য করে না। যারা উগ্র নাস্তিক তারা ধীরে ধীরে সকল যুক্তিতে পরাজয় হওয়ার পর এই প্রশ্নটা আক্রমণ হিসাবে ব্যবহার করে। জিনিসটা এই রকম যে, দুটো দেশের সেনাবাহিনীর লোক যুদ্ধ করছে, যুদ্ধের এক পর্যায়ে দল 'ক' পরাজয়ের দার-প্রান্তে এসে দল'খ' কে মিসাইল মেরে বলে যে, আমরা তো পরাজয় স্বীকার করার কারণে মিসাইল মেরেছি। ঠিক এইরকমই তাদের এই উদ্ভট প্রশ্ন। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
এখন চলুন পয়েন্ট নাম্বার টু তে।
পয়েন্ট নাম্বার টু
_________________
পৃথিবীতে শতশত ধর্ম থাকলেও ধর্ম কে প্রধাণত দু- ভাগে ভাগ করা যায়, সেগুলো হলো
১. মানবস্রষ্ট ধর্ম
২. স্রষ্টা প্রদত্ত ধর্ম
এখন আমাদের বুঝতে হবে যে মানব প্রদত্ত ধর্মের কাঠামো কি - রকম আর স্রষ্টার দেওয়া ধর্মের কাঠামো কি রকম।
বলা হয়ে থাকে যে ছেলে দেখতে বাপের মতো। কেও কিন্তু বলে না ভাগ্নে কে দেখতে মামার মতো।
ঠিক ওইরকম ভাবে স্রষ্টার প্রদত্ত ধর্মের মধ্যে স্রষ্টার সত্তাগুন থাকবে। আর স্রষ্টার সত্তাগুন অবশ্যই সত্য হবে।
আর মানব তৈরি ধর্মে মানবীয় গুনের প্রকাশ পাবে, এটা স্বাভাবিক। অর্থাৎ সত্য মিথ্যার মিলন এতে সেটা গঠিত হবে।
যদি অন্য এঙ্গেল থেকে বলি তাহলে " স্রষ্টা প্রদত্ত ধর্মের একটা দিক থাকবে, আর সেটা শুধু সত্য হবে।
ধরি সত্য =১ এবং
মিথ্যা = ২ /( ধরলাম দুটোর মানই এক)
আর মানব তৈরি ধর্মে সত্য এবং মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকবে, মানে সত্য +মিথ্যা
১+২(১) = ২ /৩
আর স্রষ্টার প্রদত্ত ধর্ম ১
অর্থাৎ এখানে দুটো ( সত্য এবং মিথ্যা) একসাথে অবস্থান করবে না।
যেমনটা মানব ধর্মে হয়ে থাকে।
এখন বুঝব কীভাবে যে কোন ধর্মটা সত্য???
উত্তর হলো : ধর্মগ্রন্থ দিয়ে, কারণ একটা ধর্মের কেন্দ্রে থাকে ধর্মগ্রন্থ, যেটাকে ঘিরে সমগ্র ধর্মের একটা কাঠামো গঠিত হয়। মানব জীবন থেকেশুরু করে সামাজিক, রাজনৈতিক সকল দিল এর দিক নির্দেশনা থাকবে। সেটা সংক্ষিপ্ত আকারেও হতে পারে আবার পূর্ণ আকারেও। যদি সংক্ষিপ্ত আকারে হয় তাহলে তার একটা বাখ্যা থাকবে, যেমন কোরআন বুঝতে হাদীস প্রযোজন আর বেদ বুঝতে হলে বেদাঙ্গ
[ হিন্দু ধর্ম এমন এক ধর্ম যেই ধর্মের সৃষ্টিকর্তা নিজ কন্যার সাথে সেক্স করে ( মৎস্যপুরাণ: তৃতীয় অধ্যায় এর শেষ শ্লোকসমূহ) আপনার কি মনে হয় এটা কোনো ইশ্বর প্রদত্ত ধর্ম??? ]
।
এখন আমাদেরকে সঠিক ধর্ম চিন্তে হলে ধর্মগ্রন্থ কে যাছাই করতে হবে, সেটা তো বুঝলাম। এখন আরেকটা ছোট প্রশ্ন হলো পৃথিবীতে ত ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থ পড়ার কি সময় আছে, তাহলে এই অল্প সময়ে বুঝব কি করে কোন ধর্মটা সত্য???। এখন আমরা এই প্রশ্নের উত্তরে মানব ধর্মগ্রন্থগুলোকে প্রধানত দু- ভাগে ভাগ করছি ( ৩ ভাগেই করা যাবে, তবে আমি দুই ভাগকে গ্রহণ করছি) সেগুলো হলো
১. সত্য বলে দাবি করা ধর্ম
২. নিশ্চুপ ধর্ম
কথায় আছে, চুরের মায়ের বড় গলা। ঠিক ওইরকম ভাবে মিথ্যা ধর্মগুলোও বিভিন্ন যুক্তিতে নিজেকে সত্য বলে দাবি করবে। আর এরকম ধর্মের অবকাটামো হবে কিচুটা এরকম" মিথ্যা থাকলেও তা মিথ্যা স্বীকৃতদিবে আবার দিবে না, ওখানে গোজামিল থাকবে।
এই রকম ধর্ম কখনো নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবে না, আর সেটা সম্ভবও না। বড়বজোর নিজেকে সয়ংসম্পূর্ণ দেখানোর চেষ্টা করবে, যেমন একটা বেলুন। বেলুন যতই বড় থাকুক না কেন তাঁর ভিতরটা শূন্য। এছাড়াও এই ধর্মে তো আগে থেকে অসংগতি থাকবেই ( কারন স্রষ্টা প্রদত্ত ধর্মের গ্রন্থ হবে নির্ভুল, আর মানব.......)
তার উপরে ওইখানে সেগুলোর Value একেবারেই জিরো।
আর নিশ্চুপ ধর্মটা এরকম যে সেটার আগা - মাথা দেখলেই বুঝা যাবে যে সেটা একটা মানব প্রকৃত ধর্ম। তাদের ধর্মকে প্রমাণ করার জন্য কোনো যুক্তিই থাকবে না। আর এরকম ধর্ম শূন্য সেকেন্ড তে আসবে আর বিলিন হয়ে যাবে।
যদি এখন সারাংশ টানি তাহলে বিষয়টা হবে ঠিক এরকম। মনে করুন প্রকৃত ধর্ম একটা রংকৃত বক্স, যেই বক্সের যে ধাতু সেটার রং সাদা, আর বক্সটার রং সম্পূর্ণ সাদা। আর এটাই এই বাক্সের আসল কালার। আর মানব রচিত ধর্মের যে প্রথম ভাগ( বেলুন ধর্মও বললে ভুল হয় না) সেটার বাক্সের ধাতুর রং অন্য, কিন্তু উপরে সাদা রং করা, আর মানব রচিত দ্বিতীয় ভাগ এর ধর্ম হলো ওই বাক্সের মতো যার রং আগে থেকেই সাদা না, আর সাদা বানানোর জন্য সেটাতে কোনো রং করা হয় নি, মানে ওটা দেখলেই বুঝা যায় যে একেবারেই ভূয়া ধর্ম।
ঠিক ওইরকম ভাবে ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে সত্য ধর্মের বাণীগুলো সত্য হবে, এবং তা সুস্পষ্ট ভাবেই বলা হবে।মানে দেখলেই তা বুঝা যাবে, আর মানব রচিত ধর্মের প্রথম ভাগ ধর্মের ধর্মগ্রন্থের বাণীটা অস্পষ্ট হবে এবং তা ভুল তথ্য দিবে, কিন্তু তা সত্যেও সেটাকে গোজামিল দিয়ে সঠিক প্রমাণ করবে। আর মানব রচিত দ্বিতীয় ভাগ এর ধর্মগ্রন্থ সুস্পষ্ট ভাবে তথ্য থাকবে আর সেটা ভুল থাকব, যেটা দেখার সাথে সাথে বুঝব তা ভূয়া। এখন যদি আমরা একটু বিশ্বের জনসংখ্যার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো যে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারি ২. ২ বিলিয়ন, আর ইসলাম এর ১.৯ বিলিয়ন এবং সনাতন এর ১.৩ বিলিয়ন। এই তিন ধর্মের মোট অনুসারি বিশ্বের প্রায় দু- তৃতীয়াংশ। আর বাকি ১৫% নাস্তিক এবং ১০% অনন্য ধর্ম, যেগুলো দেখলেই বুঝা যায় যে ওগুলো ভূয়া, । আর এখন আমাদেরকে এই তিন ধর্ম নিয়ে যাছাই করতে হবে " খ্রিষ্টান ৩০%, মুসলিম ২৫% হিন্দু প্রায় ২০%+ আর এদের মোট হলো ৭৫% । তো বুঝতেই পারছেন যে এই তিনটার মধ্যেই নিঃসন্দেহে কোনো একটা স্রষ্টা প্রদত্ত হবে যা বর্তমানে সকল এ জন্যই তা মান্য-যোগ্য।
তাই আমাদেরকে এই তিন ধর্ম নিয়ে গবেষণা করে বাহির করতে হবে যে কোনটা সত্য।
আশা করি কথা ক্লিয়ার।
[ নেক্সট পার্ট এতে ইসলাম এর সভ্যতার প্রমাণ না দিয়ে ধর্মগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে, তবে যাইহোক, পরের ব্যাপার পরেই দেখা যাবে, এখন আর তেমন কিছু লিখে বলতে চাই না ]
তো লেখাটা এই পযন্তই
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
Md Mehedi Hasan
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।